২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে কোনো শক্তিশালী ইউরোপীয় দলের মুখোমুখি হয়নি—এটা বড় শঙ্কার বিষয়। আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের বড় ম্যাচের অভ্যেসটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কিনা, এটা বড় প্রশ্ন।
চরচা প্রতিবেদক

২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য আর্জেন্টিনার চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা হয়ে গেছে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশন ‘আলবিসেলেস্তা’দের। সেই মিশনে দলের প্রধান অস্ত্র যে লিওনেল মেসি—সেটা আর না বললেও চলছে। তবে স্কালোনি যে দলটা দিয়েছেন, সেখানে অভিজ্ঞতার ঘাটতি নেই। মেসি ছাড়াও এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, রদ্রিগো দি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাকঅ্যালিস্টাররা বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়! বিশ্বকাপে জয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে কতই খেলোয়াড়ই তো বিশ্বকাপ খেলতে এসেছেন, কিন্তু ১৯৬২ সালের পর যে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জেতার ইতিহাস কোনো দলের নেই। ইতিহাস যেমন প্রতিপক্ষ, ঠিক তেমনি ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইন স্কোয়াডে কিছু শঙ্কার দিকও আছে।
এটা ঠিক, সম্ভাব্য সেরা দলই ঘোষণা করেছেন স্কালোনি। এই দল নিয়ে স্কালোনি সিজার লুই মেনোত্তি কিংবা কার্লোস বিলার্দো হতে চাইবেন না। ১৯৭৮ বিশ্বকাপজয়ী কোচ মেনোত্তি ১৯৮২ সালে ব্যর্থ হয়েছিলেন; ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জয়ী কোচ বিলার্দো ১৯৯০ সালে ফাইনালে উঠেও কাপ জিততে ব্যর্থ হয়েছিলেন। স্কালোনির মেনোত্তি কিংবা বিলার্দোর সঙ্গে ব্রাকেটবন্দী হওয়ার যে শঙ্কা, সেটা পুরোটাই মেসির বয়স ও ফিটনেস ঘিরে। এটা তো অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই মেসি তার সেরা সময় ফেলে এসেছেন। ক্যারিয়ার–ফর্মের একেবারে চূড়ায় উঠে তিনি বিশ্বকাপ জিতেছঝেন ২০২২ সালে। বয়স এখন ৩৮। কিছু দিন আগেই বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ ও ক্লান্তির খবর সামনে এসেছে। আর এটা তো সত্যি, মেসি ঠিক ‘মেসির মতো’ খেলতে না পারলে, সেটা আর্জেন্টিনা দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব তৈরি করে।
‘খেলোয়াড়দের বয়স’ আসলেই আর্জেন্টিনার জন্য বড় শঙ্কা। বিশেষ করে রক্ষণভাগে বয়স একটা বড় শঙ্কা। বিকল্প যারা আছেন, তাদের অভিজ্ঞতায় ঘাটতি যথেষ্ট। রক্ষণভাগের কিছু জায়গা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। যেমন দলের ‘ফুল ব্যাক’ পজিশনটি। ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে আর্জেন্টিনাকে ‘বাড়তি শক্তি’ জুগিয়েছিলেন আনহেল দি মারিয়া। ফাইনালে একটি গোলও করেছিলেন। এবারের বিশ্বকাপে খেলছেন না দি মারিয়া। এটা বিশ্বকাপে ভালোই উপলব্ধি করতে পারে দলটি। দি মারিয়া এমন একজন খেলোয়াড় ছিলেন, তাতে দি মারিয়ার মতো ফুটবলারের অভাব পূরণ করা আর্জেন্টিনা দলের জন্য কঠিন হবে।
এবার বিশ্বকাপে অনেক শক্তিশালী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে আর্জেন্টিনাকে। স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, ব্রাজিল—সবাই আগের চেয়ে শক্তিশালী। স্পেনের দলটি তারুণ্যে সমৃদ্ধ প্রতিভাবান, ফ্রান্সের স্কোয়াডে গভীরতা অনেক বেশি, ইংল্যান্ড আসছে শক্তিশালী ফরোয়ার্ড ও মিডফিল্ড নিয়ে। তবে কঠিন চ্যালেঞ্জ পেরিয়েই তো বিশ্বকাপ জিততে হয়। ২০২২ সালে সেটা আর্জেন্টিনা করে দেখিয়েছেও। ১৯৬২ সালে ব্রাজিল সেটা করে দেখিয়েছিল, সেটা করে দেখানোর পালা আর্জেন্টিনার, মেসির।
বিশ্বকাপ জয়ের পর গত সাড়ে তিন বছরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আর্জেন্টিনার উপস্থিতি সমর্থকদের জন্য বড় শঙ্কার কারণ। গত মার্চ, এপ্রিল মাসে আর্জেন্টিনা দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল মৌরিতানিয়া ও জাম্বিয়ার বিপক্ষে।
২০২৬ বিশ্বকাপের আগে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। আগামী শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোরে স্বাগতিক হয়ে মৌরিতানিয়ার মুখোমুখি হবে লিওনেল স্কালোনির দল। ১ এপ্রিল ভোরে দ্বিতীয় ও শেষ প্রীতি ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ জাম্বিয়া। মৌরিতানিয়া ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১১৫ আর জাম্বিয়া ৯১ নম্বর দল। আর্জেন্টিনার সঙ্গে শক্তির পার্থক্য অনেক। ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে কোনো শক্তিশালী ইউরোপীয় দলের মুখোমুখি হয়নি—এটা বড় শঙ্কার বিষয়। আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের বড় ম্যাচের অভ্যেসটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কিনা, এটা বড় প্রশ্ন। নির্দিষ্ট করে বললে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ২০–এ থাকা কোনো দলের বিপক্ষে গত সাড়ে তিন বছরে আর্জেন্টিনার কোনো প্রীতি ম্যাচ না খেলার ব্যাপারটি এবারের বিশ্বকাপে না আবার কাল হয়ে দাঁড়ায়।
কোচ স্কালোনি ৮ বছর ধরে আর্জেন্টিনার কোচের দায়িত্বে আছেন। তিনি বিশ্বকাপ জিতেছেন, কোপা আমেরিকা জিতেছেন। জিতেছেন কোপা ফিনালিসিমার শিরোপা। ২০১৮ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর আর্জেন্টিনা এখনও পর্যন্ত ৩০টি প্রীতি ম্যাচ খেলেছে। এসব ম্যাচে আর্জেন্টিনার সফলতার হারও অনেক বেশি। ২৪ জয়, ৪ ড্র ও ২ হার।
কিছু দিন আগে প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার ‘দুর্বল প্রতিপক্ষ’ বাছাই নিয়ে ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যম ‘লেকিপ’ লিখেছিল, স্কালোনির দল ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ২০-এ থাকা কোনো দলের মুখোমুখি না হলেও ব্রাজিল এ সময়ে খেলেছে ১০টি বিশ্বমানের দলের বিপক্ষে। এমনকি কলম্বিয়াও শীর্ষ পর্যায়ের ৯টি দলের মুখোমুখি হয়েছে।

আর্জেন্টিনা গত বছর ভেনেজুয়েলা, পুয়ের্তো রিকো ও অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে খেলেছে। ২০২৪ সালে এল সালভাদর, কোস্টারিকা, ইকুয়েডর আর গুয়াতেমালার মুখোমুখি হয় তারা। এর আগে ২০২৩ সালে আর্জেন্টিনা খেলেছে পানামা, কুরাসাও, ইন্দোনেশিয়া আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
২০২৩ সালের জুনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ ২-০ গোলে জেতে আর্জেন্টিনা। তখন ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ছিল ২৯তম। গত চার বছরে প্রীতি ম্যাচে প্রতিপক্ষ দলগুলোর র্যাঙ্কিং বিবেচনায় এটাই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে কঠিন ম্যাচ।
শঙ্কার জায়গাগুলোকে বাদ দিলে প্রায় ২০২২ বিশ্বকাপের দলটি নিয়েই ২০২৬–এ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। দলের মিডফিল্ড শক্তিশালী। সবচেয়ে বড় কথা মেসি নিজের বিদায়ী বিশ্বকাপটা ভালো কিছু করেই রাঙাতে চাইবেন—এটা একটা বাড়তি জ্বালানি দলের জন্য। মেসিকে সুন্দভাবে বিদায় দেওয়ার তাড়নাটাও আর্জেন্টিনা স্কোয়াডের বাকি খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করবে।
বিশ্বকাপ জেতা দল শিরোপা ধরে রাখতে পারে না ৬৪ বছর ধরে। এবার আর্জেন্টিনা সব শঙ্কা পেছনে ফেলে সেই ইতিহাস বদলাতে পারবে কিনা, সেই প্রশ্ন সময়ের হাতেই!

২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য আর্জেন্টিনার চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা হয়ে গেছে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশন ‘আলবিসেলেস্তা’দের। সেই মিশনে দলের প্রধান অস্ত্র যে লিওনেল মেসি—সেটা আর না বললেও চলছে। তবে স্কালোনি যে দলটা দিয়েছেন, সেখানে অভিজ্ঞতার ঘাটতি নেই। মেসি ছাড়াও এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, রদ্রিগো দি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাকঅ্যালিস্টাররা বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়! বিশ্বকাপে জয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে কতই খেলোয়াড়ই তো বিশ্বকাপ খেলতে এসেছেন, কিন্তু ১৯৬২ সালের পর যে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জেতার ইতিহাস কোনো দলের নেই। ইতিহাস যেমন প্রতিপক্ষ, ঠিক তেমনি ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইন স্কোয়াডে কিছু শঙ্কার দিকও আছে।
এটা ঠিক, সম্ভাব্য সেরা দলই ঘোষণা করেছেন স্কালোনি। এই দল নিয়ে স্কালোনি সিজার লুই মেনোত্তি কিংবা কার্লোস বিলার্দো হতে চাইবেন না। ১৯৭৮ বিশ্বকাপজয়ী কোচ মেনোত্তি ১৯৮২ সালে ব্যর্থ হয়েছিলেন; ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জয়ী কোচ বিলার্দো ১৯৯০ সালে ফাইনালে উঠেও কাপ জিততে ব্যর্থ হয়েছিলেন। স্কালোনির মেনোত্তি কিংবা বিলার্দোর সঙ্গে ব্রাকেটবন্দী হওয়ার যে শঙ্কা, সেটা পুরোটাই মেসির বয়স ও ফিটনেস ঘিরে। এটা তো অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই মেসি তার সেরা সময় ফেলে এসেছেন। ক্যারিয়ার–ফর্মের একেবারে চূড়ায় উঠে তিনি বিশ্বকাপ জিতেছঝেন ২০২২ সালে। বয়স এখন ৩৮। কিছু দিন আগেই বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ ও ক্লান্তির খবর সামনে এসেছে। আর এটা তো সত্যি, মেসি ঠিক ‘মেসির মতো’ খেলতে না পারলে, সেটা আর্জেন্টিনা দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব তৈরি করে।
‘খেলোয়াড়দের বয়স’ আসলেই আর্জেন্টিনার জন্য বড় শঙ্কা। বিশেষ করে রক্ষণভাগে বয়স একটা বড় শঙ্কা। বিকল্প যারা আছেন, তাদের অভিজ্ঞতায় ঘাটতি যথেষ্ট। রক্ষণভাগের কিছু জায়গা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। যেমন দলের ‘ফুল ব্যাক’ পজিশনটি। ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে আর্জেন্টিনাকে ‘বাড়তি শক্তি’ জুগিয়েছিলেন আনহেল দি মারিয়া। ফাইনালে একটি গোলও করেছিলেন। এবারের বিশ্বকাপে খেলছেন না দি মারিয়া। এটা বিশ্বকাপে ভালোই উপলব্ধি করতে পারে দলটি। দি মারিয়া এমন একজন খেলোয়াড় ছিলেন, তাতে দি মারিয়ার মতো ফুটবলারের অভাব পূরণ করা আর্জেন্টিনা দলের জন্য কঠিন হবে।
এবার বিশ্বকাপে অনেক শক্তিশালী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে আর্জেন্টিনাকে। স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, ব্রাজিল—সবাই আগের চেয়ে শক্তিশালী। স্পেনের দলটি তারুণ্যে সমৃদ্ধ প্রতিভাবান, ফ্রান্সের স্কোয়াডে গভীরতা অনেক বেশি, ইংল্যান্ড আসছে শক্তিশালী ফরোয়ার্ড ও মিডফিল্ড নিয়ে। তবে কঠিন চ্যালেঞ্জ পেরিয়েই তো বিশ্বকাপ জিততে হয়। ২০২২ সালে সেটা আর্জেন্টিনা করে দেখিয়েছেও। ১৯৬২ সালে ব্রাজিল সেটা করে দেখিয়েছিল, সেটা করে দেখানোর পালা আর্জেন্টিনার, মেসির।
বিশ্বকাপ জয়ের পর গত সাড়ে তিন বছরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আর্জেন্টিনার উপস্থিতি সমর্থকদের জন্য বড় শঙ্কার কারণ। গত মার্চ, এপ্রিল মাসে আর্জেন্টিনা দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল মৌরিতানিয়া ও জাম্বিয়ার বিপক্ষে।
২০২৬ বিশ্বকাপের আগে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। আগামী শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোরে স্বাগতিক হয়ে মৌরিতানিয়ার মুখোমুখি হবে লিওনেল স্কালোনির দল। ১ এপ্রিল ভোরে দ্বিতীয় ও শেষ প্রীতি ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ জাম্বিয়া। মৌরিতানিয়া ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১১৫ আর জাম্বিয়া ৯১ নম্বর দল। আর্জেন্টিনার সঙ্গে শক্তির পার্থক্য অনেক। ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে কোনো শক্তিশালী ইউরোপীয় দলের মুখোমুখি হয়নি—এটা বড় শঙ্কার বিষয়। আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের বড় ম্যাচের অভ্যেসটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কিনা, এটা বড় প্রশ্ন। নির্দিষ্ট করে বললে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ২০–এ থাকা কোনো দলের বিপক্ষে গত সাড়ে তিন বছরে আর্জেন্টিনার কোনো প্রীতি ম্যাচ না খেলার ব্যাপারটি এবারের বিশ্বকাপে না আবার কাল হয়ে দাঁড়ায়।
কোচ স্কালোনি ৮ বছর ধরে আর্জেন্টিনার কোচের দায়িত্বে আছেন। তিনি বিশ্বকাপ জিতেছেন, কোপা আমেরিকা জিতেছেন। জিতেছেন কোপা ফিনালিসিমার শিরোপা। ২০১৮ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর আর্জেন্টিনা এখনও পর্যন্ত ৩০টি প্রীতি ম্যাচ খেলেছে। এসব ম্যাচে আর্জেন্টিনার সফলতার হারও অনেক বেশি। ২৪ জয়, ৪ ড্র ও ২ হার।
কিছু দিন আগে প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার ‘দুর্বল প্রতিপক্ষ’ বাছাই নিয়ে ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যম ‘লেকিপ’ লিখেছিল, স্কালোনির দল ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ২০-এ থাকা কোনো দলের মুখোমুখি না হলেও ব্রাজিল এ সময়ে খেলেছে ১০টি বিশ্বমানের দলের বিপক্ষে। এমনকি কলম্বিয়াও শীর্ষ পর্যায়ের ৯টি দলের মুখোমুখি হয়েছে।

আর্জেন্টিনা গত বছর ভেনেজুয়েলা, পুয়ের্তো রিকো ও অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে খেলেছে। ২০২৪ সালে এল সালভাদর, কোস্টারিকা, ইকুয়েডর আর গুয়াতেমালার মুখোমুখি হয় তারা। এর আগে ২০২৩ সালে আর্জেন্টিনা খেলেছে পানামা, কুরাসাও, ইন্দোনেশিয়া আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
২০২৩ সালের জুনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ ২-০ গোলে জেতে আর্জেন্টিনা। তখন ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ছিল ২৯তম। গত চার বছরে প্রীতি ম্যাচে প্রতিপক্ষ দলগুলোর র্যাঙ্কিং বিবেচনায় এটাই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে কঠিন ম্যাচ।
শঙ্কার জায়গাগুলোকে বাদ দিলে প্রায় ২০২২ বিশ্বকাপের দলটি নিয়েই ২০২৬–এ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। দলের মিডফিল্ড শক্তিশালী। সবচেয়ে বড় কথা মেসি নিজের বিদায়ী বিশ্বকাপটা ভালো কিছু করেই রাঙাতে চাইবেন—এটা একটা বাড়তি জ্বালানি দলের জন্য। মেসিকে সুন্দভাবে বিদায় দেওয়ার তাড়নাটাও আর্জেন্টিনা স্কোয়াডের বাকি খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করবে।
বিশ্বকাপ জেতা দল শিরোপা ধরে রাখতে পারে না ৬৪ বছর ধরে। এবার আর্জেন্টিনা সব শঙ্কা পেছনে ফেলে সেই ইতিহাস বদলাতে পারবে কিনা, সেই প্রশ্ন সময়ের হাতেই!