চরচা ডেস্ক

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে এখন একটি গুরত্বপূর্ণ প্রশ্ন, চীন যদি এখনই তাইওয়ান আক্রমণ করে, তবে তা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা কি যুক্তরাষ্ট্রের আছে? সম্প্রতি ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ এবং মিডল ইস্ট আইয়ের মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা পেন্টাগনের নীতিনির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অত্যাধুনিক গোলাবারুদ ব্যয় হওয়ায় তাইওয়ান রক্ষা নিয়ে এক গভীর অস্ত্র-সংকট তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক মাসে অভাবনীয় পরিমাণ অস্ত্র ব্যবহার করেছে। পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ইরানি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে এবং ইসরায়েলকে রক্ষা করতে দেড় থেকে দুই হাজার আকাশ প্রতিরক্ষা মিসাইল ছুড়েছে। এর পাশাপাশি তারা আক্রমণাত্মক যুদ্ধের প্রধান হাতিয়ার এক হাজার টমাহক ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করে ফেলেছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিমাণ অস্ত্র পুনরায় উৎপাদন করে মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে আমেরিকার প্রতিরক্ষা শিল্পের অন্তত ছয় বছর সময় লাগতে পারে। যদি চীন এই সময়ের মধ্যে তাইওয়ানে সামরিক অভিযান শুরু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ‘ইন্টারসেপ্টর’ এবং ‘গাইডেড মিসাইল’-এর তীব্র অভাবে পড়বে। এই ঘাটতি আমেরিকান সেনাদের যুদ্ধক্ষেত্রে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই মজুত ফুরিয়ে আসার প্রভাব সরাসরি পড়ছে তার মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের ওপর। ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের পর থেকেই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েত তাদের আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য ‘প্যাট্রিয়ট’ মিসাইল চেয়েও আমেরিকার কাছ থেকে পায়নি। আমেরিকা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের নিজেদের ভাণ্ডারই এখন তলানিতে।
এই পরিস্থিতিতে এক অদ্ভুত নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে যুদ্ধের ময়দানে থাকা ইউক্রেন এখন উপসাগরীয় দেশগুলোর সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেন এখন সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশগুলোর সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করছে। আমেরিকার প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের তুলনায় ইউক্রেন অনেক কম খরচে ড্রোন ধ্বংস করার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে, যা এখন তারা বিশ্ববাজারে সরবরাহ করছে। এটি বৈশ্বিক অস্ত্র বাজারে আমেরিকার একচ্ছত্র আধিপত্যের জন্য বড় এক ধাক্কা।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জড়িয়ে পড়ায় সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে চীন। আমেরিকার নজর এবং অস্ত্র যখন মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমিতে আটকা পড়েছে, তখন চীন এশিয়ায় নিজের শক্তি সংহত করছে। ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর দাবি, চীন শুধু বসে নেই; তারা ইরানকে গোপনে কাঁধে রেখে ব্যবহারযোগ্য মিসাইল এবং ড্রোন সরবরাহ করে আমেরিকাকে আরও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ব্যস্ত রাখার কৌশল নিয়েছে।

পেন্টাগন পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের এক বিশাল বাজেট ঘোষণা করেছে। এটি মার্কিন ইতিহাসের বৃহত্তম প্রতিরক্ষা বাজেট। কিন্তু অর্থ থাকলেই রাতারাতি হাই-টেক মিসাইল তৈরি করা সম্ভব নয়, কারণ এর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল এবং জটিল সাপ্লাই চেইন গড়ে তোলা সময়ের ব্যাপার।
তাইওয়ান ইস্যুতে আমেরিকা কি চীনকে রুখতে পারবে? বর্তমান সমীকরণ বলছে, চীন যদি অদূর ভবিষ্যতে তাইওয়ান আক্রমণ করে, তবে আমেরিকার পক্ষে সরাসরি সামরিক সহায়তা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। আকাশপথে প্রতিরক্ষা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত মিসাইলের অভাব যুক্তরাষ্ট্রকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। চীন সম্ভবত আমেরিকার এই দুর্বল মুহূর্তটির জন্যই অপেক্ষা করছিল। ফলে অদূর ভবিষ্যতে এশিয়ার মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে এখন একটি গুরত্বপূর্ণ প্রশ্ন, চীন যদি এখনই তাইওয়ান আক্রমণ করে, তবে তা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা কি যুক্তরাষ্ট্রের আছে? সম্প্রতি ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ এবং মিডল ইস্ট আইয়ের মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা পেন্টাগনের নীতিনির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অত্যাধুনিক গোলাবারুদ ব্যয় হওয়ায় তাইওয়ান রক্ষা নিয়ে এক গভীর অস্ত্র-সংকট তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক মাসে অভাবনীয় পরিমাণ অস্ত্র ব্যবহার করেছে। পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ইরানি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে এবং ইসরায়েলকে রক্ষা করতে দেড় থেকে দুই হাজার আকাশ প্রতিরক্ষা মিসাইল ছুড়েছে। এর পাশাপাশি তারা আক্রমণাত্মক যুদ্ধের প্রধান হাতিয়ার এক হাজার টমাহক ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করে ফেলেছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিমাণ অস্ত্র পুনরায় উৎপাদন করে মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে আমেরিকার প্রতিরক্ষা শিল্পের অন্তত ছয় বছর সময় লাগতে পারে। যদি চীন এই সময়ের মধ্যে তাইওয়ানে সামরিক অভিযান শুরু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ‘ইন্টারসেপ্টর’ এবং ‘গাইডেড মিসাইল’-এর তীব্র অভাবে পড়বে। এই ঘাটতি আমেরিকান সেনাদের যুদ্ধক্ষেত্রে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই মজুত ফুরিয়ে আসার প্রভাব সরাসরি পড়ছে তার মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের ওপর। ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের পর থেকেই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েত তাদের আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য ‘প্যাট্রিয়ট’ মিসাইল চেয়েও আমেরিকার কাছ থেকে পায়নি। আমেরিকা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের নিজেদের ভাণ্ডারই এখন তলানিতে।
এই পরিস্থিতিতে এক অদ্ভুত নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে যুদ্ধের ময়দানে থাকা ইউক্রেন এখন উপসাগরীয় দেশগুলোর সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেন এখন সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশগুলোর সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করছে। আমেরিকার প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের তুলনায় ইউক্রেন অনেক কম খরচে ড্রোন ধ্বংস করার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে, যা এখন তারা বিশ্ববাজারে সরবরাহ করছে। এটি বৈশ্বিক অস্ত্র বাজারে আমেরিকার একচ্ছত্র আধিপত্যের জন্য বড় এক ধাক্কা।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জড়িয়ে পড়ায় সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে চীন। আমেরিকার নজর এবং অস্ত্র যখন মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমিতে আটকা পড়েছে, তখন চীন এশিয়ায় নিজের শক্তি সংহত করছে। ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর দাবি, চীন শুধু বসে নেই; তারা ইরানকে গোপনে কাঁধে রেখে ব্যবহারযোগ্য মিসাইল এবং ড্রোন সরবরাহ করে আমেরিকাকে আরও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ব্যস্ত রাখার কৌশল নিয়েছে।

পেন্টাগন পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের এক বিশাল বাজেট ঘোষণা করেছে। এটি মার্কিন ইতিহাসের বৃহত্তম প্রতিরক্ষা বাজেট। কিন্তু অর্থ থাকলেই রাতারাতি হাই-টেক মিসাইল তৈরি করা সম্ভব নয়, কারণ এর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল এবং জটিল সাপ্লাই চেইন গড়ে তোলা সময়ের ব্যাপার।
তাইওয়ান ইস্যুতে আমেরিকা কি চীনকে রুখতে পারবে? বর্তমান সমীকরণ বলছে, চীন যদি অদূর ভবিষ্যতে তাইওয়ান আক্রমণ করে, তবে আমেরিকার পক্ষে সরাসরি সামরিক সহায়তা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। আকাশপথে প্রতিরক্ষা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত মিসাইলের অভাব যুক্তরাষ্ট্রকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। চীন সম্ভবত আমেরিকার এই দুর্বল মুহূর্তটির জন্যই অপেক্ষা করছিল। ফলে অদূর ভবিষ্যতে এশিয়ার মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।