Advertisement Banner

রাজধানীতে পুলিশের ওপর হামলা, আহত এসআই যা বলছেন

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
রাজধানীতে পুলিশের ওপর হামলা, আহত এসআই যা বলছেন
ছবি: চরচা

ছিনতাইকারী ধরতে অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন রাজধানীর আদাবর থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তা। গতকাল মঙ্গলবারের এই ঘটনায় পুলিশ বলছে, পুরো চক্র শনাক্ত করে দ্রুত চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি চলছে। ছিনতাইয়ের শিকার পরিবারের দাবি, আগে থেকে চাঁদাবাজি চলছিল তাদের সঙ্গে।

ঘটনাস্থলে আহত আদাবর থানার এসআই তরুণ কুমার জানান, শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে টাকা-পয়সা ছিনতাইয়ের ঘটনার তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান শুরু করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেখতে পায়, হামলাকারীরা প্রথমে ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীরের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। ঘটনাস্থলে আমির ও আদি নামে দুজনকে শনাক্ত করা হয়। একপর্যায়ে আমির চাকু দিয়ে হামলার চেষ্টা করলে তিনি তাকে প্রতিহত করে জাপটে ধরেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তরুণ কুমার আরও বলেন, এই চক্রের সদস্যরা নতুন নয়। তারা এর আগেও বিভিন্ন অপরাধে সঙ্গে জড়িত ছিল। গত মাসের ১৩ মে আদাবর থানায় দায়ের হওয়া একটি চাঁদাবাজির মামলায়ও তাদের নাম উঠে আসে।

আদাবর এলাকায় একটি টেলিকম দোকানে চাপাতি দিয়ে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুটের ঘটনায় ডাকাতি মামলা রুজু করেছে পুলিশ। মামলা সূত্রে জানা যায়, শেখেরটেক মফিজবাগ এলাকার ৭ নম্বর রোডের ১২৫ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত ‘নিঝুম টেলিকম’ দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগকারী মো. শফিকুল ইসলাম আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীরকে জানিয়েছেন, একদল অস্ত্রধারী ব্যক্তি দোকানে প্রবেশ করে তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। হামলায় তার হাতে ও মাথায় একাধিক কোপ লাগে। এরপর তারা দোকান থেকে নগদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন লুট করে নেয়, যার আনুমানিক মূল্য ২০ হাজার টাকা। ঘটনার ফলে দোকানে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। তিনি বর্তমানে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন।

মামলার তদন্ত রিপোর্টে মোট ৭ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে, পাশাপাশি ৪–৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার কথাও বলা হয়েছে। উল্লেখিতদের মধ্যে রয়েছেন–মো. মামুন, সামির ওরফে বুলেট, মো. সজিব হোসেন রুবেল, আমির হোসেন, আরিফ হোসেন জয়, আবুল কাশেম, মো. ফরিদ আহম্মেদ বাবু।

থানা সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে আসামি আমির হোসেনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং আসামি সজীব হোসেন রুবেল ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে এখনও চিকিৎসাধীন। পরবর্তীতে তাকেও আদালতে সোপর্দ করা হবে। এছাড়া আরও অজ্ঞাতনামা সদস্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন এসব তথ্য জানান।

এদিকে, আহত শফিকুল ইসলামের মা বলেন, “গত এপ্রিল মাসের দিকে আমির, রুবেলসহ আরো কয়েকজন মিলে আমার ছেলের দোকানে এসে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। প্রাণনাশের আশঙ্কায় তখন আমার ছেলে কোনো প্রতিবাদ না করে তাদের টাকা দিয়ে দেয়। ওই ঘটনার পর তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।”

সম্পর্কিত