ইরানে হামলায় আপত্তি জানাননি সৌদি যুবরাজ: মিডল ইস্ট আই

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ইরানে হামলায় আপত্তি জানাননি সৌদি যুবরাজ: মিডল ইস্ট আই
সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান। ছবি: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের মধ্যকার উত্তেজনা এখন এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। এরই মধ্যে জানা গেল ফেব্রুয়ারির শেষদিকে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সৌদি আরব সফর করে যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানে আক্রমণের বিষয়ে সৌদি যুবরাজকে ‘রাজি’ করা। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে আলোচনার কথা বলে আসছিল, তবে গ্রাহামের এই সফর ইঙ্গিত দেয় যে, ওয়াশিংটন অনেক আগেই সামরিক হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। বৈঠকে সৌদি যুবরাজ এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে খুব একটা জোরালো আপত্তি জানাননি।

সিনেটর গ্রাহাম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে সৌদি যুবরাজের সাথে তার বৈঠকটিকে সুদূরপ্রসারী হিসেবে অভিহিত করেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বিরোধের জেরে সৌদি আরবের সমালোচনা করার মাত্র কয়েক দিন পরেই তিনি দেশটির ভূয়সী প্রশংসা করেন।

গ্রাহাম লিখেছেন, “গত পাঁচ বছরে আমি যুবরাজকে চিনেছি এবং নিজের দেশ ও এই অঞ্চল নিয়ে তার যে দূরদর্শী পরিকল্পনা রয়েছে, তাতে আমি বরাবরের মতোই মুগ্ধ।”

ইরান অভিমুখে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে শত শত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করেছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে অধিকাংশ হামলা ঠেকানো গেলেও কিছু ইরানি ‘শাহেদ’ ড্রোন দুবাইয়ের হোটেল ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করে বেইত শেমেশ শহরে ৯ জনকে হত্যা করেছে। অন্যদিকে, ইরানের দাবি অনুযায়ী মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ অন্তত ২০০ জন নিহত হয়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষপাতী থাকলেও, নিজেদের ভূখণ্ডে সাম্প্রতিক ইরানি হামলার পর সৌদি আরব এখন কঠোর সামরিক পদক্ষেপের সমর্থনের দিকে ঝুঁকছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি এই হামলাকে ‘বর্বর’ বলে অভিহিত করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে সৌদি আরবের কাছে থাকা ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সহায়তা চেয়েছে।

তবে রিয়াদ এখন এক কঠিন উভয় সংকটের মুখোমুখি। সরাসরি যুদ্ধে যোগ দিলে তাদের জ্বালানি অবকাঠামো ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। ইউরেশিয়া গ্রুপের বিশেষজ্ঞ ফিরাস মাকসাদ মনে করেন, ইরান জিসিসি দেশগুলোকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে গেছে যেখানে তাদের হয় পাল্টা জবাব দিতে হবে, অথবা মার্কিন বাহিনীকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অভিযান চালানোর অনুমতি দিতে হবে।

শনিবার ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজের মধ্যকার রহস্যময় ফোনালাপ এই সংঘাতের মোড় কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

সম্পর্কিত