চরচা ডেস্ক

এপ্রিলের শুরুটা দুবাইয়ের জন্য ছিল অসাধারণ। ১ এপ্রিল চীনা প্রযুক্তি জায়ান্ট বাইদুর অ্যাপোলো গো তাদের নিজস্ব অ্যাপের মাধ্যমে দুবাইয়ে স্বায়ত্তশাসিত রাইড-হেইলিং বুকিং চালু করে। এটি তাদের মালিকানাধীন এই প্ল্যাটফর্মের প্রথম আন্তর্জাতিক সূচনা। তার মাত্র দুদিন আগে, ৩০ মার্চ, উইরাইড ও উবার যৌথভাবে দুবাইয়ে প্রথম সম্পূর্ণ চালকবিহীন রোবোট্যাক্সি সেবা চালু করে। উবার অ্যাপ ব্যবহার করে যাত্রীরা কোনো চালক ছাড়াই গাড়ি বুক করতে পারছেন। এশিয়া টাইমস-এ প্রকাশিত চেনজি সং-এর বিশেষ প্রতিবেদনে এই দুটি উদ্বোধনের মাধ্যমে দুবাই চীনের বাইরে প্রথম শহর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে যেখানে একাধিক চীনা স্বায়ত্তশাসিত ড্রাইভিং কোম্পানি সমান্তরালভাবে সম্পূর্ণ চালকবিহীন বাণিজ্যিক রোবোট্যাক্সি সেবা পরিচালনা করছে।
অ্যাপোলো গো-এর দুবাই বহরে ব্যবহৃত হচ্ছে বাইদুর ষষ্ঠ প্রজন্মের আরটি৬। এটি স্বয়ংশাসিত গাড়ি যা সম্পূর্ণ চীনে তৈরি। উইরাইড-দুবাই সহযোগিতায় মোতায়েন গাড়িগুলো হলো রোবোট্যাক্সি জিএক্সআর, যা গিলির ফারিজোন যানবাহন প্ল্যাটফর্মে নির্মিত এবং উইরাইডের লেভেল ৪ স্বয়ংশাসিত ড্রাইভিং সফটওয়্যার দ্বারা চালিত। ২০১৭ সালে গুয়াংঝুতে প্রতিষ্ঠিত উইরাইড এখন মধ্যপ্রাচ্যে ২০০টিরও বেশি রোবোট্যাক্সি পরিচালনা করছে এবং ২০২৫ সাল থেকে এই অঞ্চলে পরিচালনাগত মুনাফা অর্জন করছে। এমনকি দেশের মাটিতে একই সাফল্য আসার আগেই এটা হয়েছে। চেনজি সং-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাইদুর অ্যাপোলো গো চীনে সবচেয়ে বড় রোবোট্যাক্সি বহর চালালেও তার প্রধান শহর উহানে সবে ইউনিট ইকোনমিক্সে ভারসাম্য এনেছে।
এই চিত্র একটি বড় বাস্তবতার প্রতিফলন। চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ঘরে যে প্রতিযোগিতার আগুনে পুড়ছে, তা তাদের শুধু ক্ষতিগ্রস্ত করেনি– বরং এমন এক শক্তি তৈরি করেছে যা তারা এখন উপসাগরীয় বাজার দখলে কাজে লাগাচ্ছে। প্রতিবেদনটি এই প্রক্রিয়াকে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে চীনের ইভি খাতের কথা উল্লেখ করেছে। ২০২২ সালের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া চীনের ইলেকট্রিক গাড়ির মূল্যযুদ্ধ এখনো থামার কোনো লক্ষণ নেই। ১৩০টিরও বেশি ব্র্যান্ড চীনে ইভি ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড বাজারের ভাগ নিয়ে লড়াই করছে এবং প্রায় কেউই ইতিবাচক রিটার্ন পাচ্ছে না। চীনা ইভি নির্মাতাদের মধ্যে প্রভাবশালী বিওয়াইডি ২০২৫ সালে তার সরবরাহকারীদের ১০ শতাংশ মূল্য ছাড় করতে বাধ্য করেছে, যা পুরো সাপ্লাই চেইনে মার্জিন কতটা সংকুচিত হয়েছে তার প্রমাণ।
খাদ্য সরবরাহ খাতেও একই গল্প। চীনের প্রভাবশালী ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম মেইতুয়ান এখন জেডি ডট কম ও ডৌইনের মতো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সাথে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে। এই তথাকথিত ফুড ডেলিভারি যুদ্ধ কমিশন ও ডেলিভারি ফি শিল্পজুড়ে কমিয়ে দিয়েছে। মেইতুয়ানের সাড়া ছিল তার আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড কিটার মাধ্যমে বিদেশে প্রসারিত হওয়া। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবে কিটা চালু হয় এবং মাত্র চার মাসে সৌদি আরবের তৃতীয় বৃহত্তম ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। এর সাথে যোগ করুন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কিটা ড্রোন দুবাইয়ের বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রথম বাণিজ্যিক বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-লাইন-অব-সাইট ড্রোন ডেলিভারি লাইসেন্স পেয়েছে।
চেনজি সং-এর লেখায় উঠে এসেছে যে মাত্র এক বছরের মধ্যে একটি চীনা ডেলিভারি কোম্পানি উপসাগরীয় অঞ্চলে শূন্য উপস্থিতি থেকে দুবাইয়ে ড্রোন ডেলিভারি পরিচালনা ও রিয়াদে উল্লেখযোগ্য বাজার অংশীদারিত্ব অর্জন করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে কিটার বাজারে প্রবেশের কৌশল ছিল আক্রমণাত্মক ভাউচার ও মওকুফ করা ডেলিভারি ফির মাধ্যমে দাম কমিয়ে বাজার দখল। ঠিক চীনে ইভির মতো। ঘরের বাজারে এই কৌশল এখন আর প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দিচ্ছে না, কিন্তু বিদেশে এখনো কাজ করছে।
উপসাগরীয় অঞ্চল এই কৌশলের জন্য পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠেছে। কারণ এটি চীনের পরিপূর্ণ বাজার যা দেয় না তাই দিচ্ছে। নতুন প্রযুক্তির প্রতি নিয়ন্ত্রণ উন্মুক্ততা, স্মার্ট-সিটি অবকাঠামোয় সহ-বিনিয়োগে আগ্রহী সরকারি অংশীদার এবং এমন বাজারে প্রথম-প্রবেশকারীর সুবিধা যেখানে আমেরিকান ও ইউরোপীয় প্রতিযোগীরা ধীরে প্রবেশ করেছে। দুবাইয়ের রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫ শতাংশ যাত্রা স্বায়ত্তশাসিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে। এই নীতিগুলো চীনা কোম্পানিগুলোকে সরকার-সমর্থিত একটি রানওয়ে দিচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপে পাওয়া অনেক কঠিন হতো।
সংখ্যার হিসাবেও এই অগ্রযাত্রা স্পষ্ট। আরব উপসাগরীয় দেশগুলিতে চীনের মোটর গাড়ির বাজার অংশীদারিত্ব ২০১৯ সালের ২ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে প্রায় ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালে চীনা গাড়ি নির্মাতারা বিদেশে ৮৩ লাখ ২০ হাজার গাড়ি পাঠিয়েছে, যার মধ্যে ১৩ লাখ ৯০ হাজার– মোটামুটি ছয় ভাগের এক ভাগ গেছে উপসাগরীয় দেশগুলোতে। চীনা ব্র্যান্ডগুলো উচ্চমানের পণ্যের সাথে আক্রমণাত্মক নতুন বাজারে প্রবেশ করছে এবং এটি ফলপ্রসূ হচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চল দেশীয় উদ্বৃত্ত উৎপাদন শুষে নিচ্ছে এবং চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বৈশ্বিক ব্র্যান্ড তৈরি করছে।
চীনের অর্থনৈতিক মন্দা সম্পর্কে প্রচলিত আখ্যান সংকুচিত মার্জিন, উদ্বৃত্ত উৎপাদনক্ষমতা ও দুর্বল ভোক্তা চাহিদা অভ্যন্তরীণ সংকটের ওপর জোর দেয়। কিন্তু চেনজি সং মনে করেন, ইভি নির্মাতা ও ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলোর উপসাগরীয় বাজারে প্রসারণ মুদ্রার অন্য পিঠ দেখাচ্ছে। ঘরের মাটিতে যে প্রতিযোগিতামূলক তীব্রতা মুনাফা কমাচ্ছে, সেই একই তীব্রতা এমন কোম্পানি তৈরি করছে যারা প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত, পরিচালনাগতভাবে দক্ষ এবং প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়দের তুলনায় কম দামে নতুন বাজারে প্রবেশ করতে রাজি।
উইরাইড ও কিটার গল্প একই সুতোয় বাঁধা। উইরাইড চীনে এখনো নগদ খরচ করে যাচ্ছে। তারপরেও মধ্যপ্রাচ্যে পরিচালনাগত মুনাফা অর্জন করেছে। কিটা মেইতুয়ানের দেশীয় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পরিমার্জিত অপারেশনাল অবকাঠামো ও ডেলিভারি লজিস্টিক্স মোতায়েন করে মাত্র কয়েক মাসে সৌদি বাজারের উল্লেখযোগ্য অংশ দখল করেছে। উপসাগরে বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর কোনো পশ্চিমা স্বায়ত্তশাসিত ড্রাইভিং কোম্পানি না থাকায় চীনা কোম্পানিগুলো সেই সুযোগ নিয়েছে।

এশিয়া টাইমসে চেনজি সং-এর এই লেখা শেষ পর্যন্ত একটি গভীর সত্যকে সামনে আনে। চীনের অর্থনৈতিক মন্দার গল্পে যা প্রায়ই অনুপস্থিত থাকে তা হলো– পড়তে থাকা প্রবৃদ্ধির হার ও দেশীয় উদ্বৃত্ত উৎপাদন যে প্রজন্মকে তৈরি করেছে তাদের কথা, যারা বছরের পর বছর নিষ্ঠুর প্রতিযোগিতায় পোক্ত হয়ে এখন পণ্য ও পরিচালনাগত জ্ঞান এমন গতিতে রপ্তানি করছে যা বিশ্বের বাজারকে নতুন আকার দিচ্ছে। উপসাগরে আজ যা কাজ করছে তা দেখাচ্ছে যে মন্দায় পড়া দেশীয় ও বৈশ্বিক অর্থনীতি চীনা উদ্ভাবনের গতি মন্থর করেনি — বরং তার গতিপথ পরিবর্তন করেছে।

এপ্রিলের শুরুটা দুবাইয়ের জন্য ছিল অসাধারণ। ১ এপ্রিল চীনা প্রযুক্তি জায়ান্ট বাইদুর অ্যাপোলো গো তাদের নিজস্ব অ্যাপের মাধ্যমে দুবাইয়ে স্বায়ত্তশাসিত রাইড-হেইলিং বুকিং চালু করে। এটি তাদের মালিকানাধীন এই প্ল্যাটফর্মের প্রথম আন্তর্জাতিক সূচনা। তার মাত্র দুদিন আগে, ৩০ মার্চ, উইরাইড ও উবার যৌথভাবে দুবাইয়ে প্রথম সম্পূর্ণ চালকবিহীন রোবোট্যাক্সি সেবা চালু করে। উবার অ্যাপ ব্যবহার করে যাত্রীরা কোনো চালক ছাড়াই গাড়ি বুক করতে পারছেন। এশিয়া টাইমস-এ প্রকাশিত চেনজি সং-এর বিশেষ প্রতিবেদনে এই দুটি উদ্বোধনের মাধ্যমে দুবাই চীনের বাইরে প্রথম শহর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে যেখানে একাধিক চীনা স্বায়ত্তশাসিত ড্রাইভিং কোম্পানি সমান্তরালভাবে সম্পূর্ণ চালকবিহীন বাণিজ্যিক রোবোট্যাক্সি সেবা পরিচালনা করছে।
অ্যাপোলো গো-এর দুবাই বহরে ব্যবহৃত হচ্ছে বাইদুর ষষ্ঠ প্রজন্মের আরটি৬। এটি স্বয়ংশাসিত গাড়ি যা সম্পূর্ণ চীনে তৈরি। উইরাইড-দুবাই সহযোগিতায় মোতায়েন গাড়িগুলো হলো রোবোট্যাক্সি জিএক্সআর, যা গিলির ফারিজোন যানবাহন প্ল্যাটফর্মে নির্মিত এবং উইরাইডের লেভেল ৪ স্বয়ংশাসিত ড্রাইভিং সফটওয়্যার দ্বারা চালিত। ২০১৭ সালে গুয়াংঝুতে প্রতিষ্ঠিত উইরাইড এখন মধ্যপ্রাচ্যে ২০০টিরও বেশি রোবোট্যাক্সি পরিচালনা করছে এবং ২০২৫ সাল থেকে এই অঞ্চলে পরিচালনাগত মুনাফা অর্জন করছে। এমনকি দেশের মাটিতে একই সাফল্য আসার আগেই এটা হয়েছে। চেনজি সং-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাইদুর অ্যাপোলো গো চীনে সবচেয়ে বড় রোবোট্যাক্সি বহর চালালেও তার প্রধান শহর উহানে সবে ইউনিট ইকোনমিক্সে ভারসাম্য এনেছে।
এই চিত্র একটি বড় বাস্তবতার প্রতিফলন। চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ঘরে যে প্রতিযোগিতার আগুনে পুড়ছে, তা তাদের শুধু ক্ষতিগ্রস্ত করেনি– বরং এমন এক শক্তি তৈরি করেছে যা তারা এখন উপসাগরীয় বাজার দখলে কাজে লাগাচ্ছে। প্রতিবেদনটি এই প্রক্রিয়াকে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে চীনের ইভি খাতের কথা উল্লেখ করেছে। ২০২২ সালের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া চীনের ইলেকট্রিক গাড়ির মূল্যযুদ্ধ এখনো থামার কোনো লক্ষণ নেই। ১৩০টিরও বেশি ব্র্যান্ড চীনে ইভি ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড বাজারের ভাগ নিয়ে লড়াই করছে এবং প্রায় কেউই ইতিবাচক রিটার্ন পাচ্ছে না। চীনা ইভি নির্মাতাদের মধ্যে প্রভাবশালী বিওয়াইডি ২০২৫ সালে তার সরবরাহকারীদের ১০ শতাংশ মূল্য ছাড় করতে বাধ্য করেছে, যা পুরো সাপ্লাই চেইনে মার্জিন কতটা সংকুচিত হয়েছে তার প্রমাণ।
খাদ্য সরবরাহ খাতেও একই গল্প। চীনের প্রভাবশালী ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম মেইতুয়ান এখন জেডি ডট কম ও ডৌইনের মতো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সাথে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে। এই তথাকথিত ফুড ডেলিভারি যুদ্ধ কমিশন ও ডেলিভারি ফি শিল্পজুড়ে কমিয়ে দিয়েছে। মেইতুয়ানের সাড়া ছিল তার আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড কিটার মাধ্যমে বিদেশে প্রসারিত হওয়া। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবে কিটা চালু হয় এবং মাত্র চার মাসে সৌদি আরবের তৃতীয় বৃহত্তম ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। এর সাথে যোগ করুন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কিটা ড্রোন দুবাইয়ের বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রথম বাণিজ্যিক বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-লাইন-অব-সাইট ড্রোন ডেলিভারি লাইসেন্স পেয়েছে।
চেনজি সং-এর লেখায় উঠে এসেছে যে মাত্র এক বছরের মধ্যে একটি চীনা ডেলিভারি কোম্পানি উপসাগরীয় অঞ্চলে শূন্য উপস্থিতি থেকে দুবাইয়ে ড্রোন ডেলিভারি পরিচালনা ও রিয়াদে উল্লেখযোগ্য বাজার অংশীদারিত্ব অর্জন করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে কিটার বাজারে প্রবেশের কৌশল ছিল আক্রমণাত্মক ভাউচার ও মওকুফ করা ডেলিভারি ফির মাধ্যমে দাম কমিয়ে বাজার দখল। ঠিক চীনে ইভির মতো। ঘরের বাজারে এই কৌশল এখন আর প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দিচ্ছে না, কিন্তু বিদেশে এখনো কাজ করছে।
উপসাগরীয় অঞ্চল এই কৌশলের জন্য পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠেছে। কারণ এটি চীনের পরিপূর্ণ বাজার যা দেয় না তাই দিচ্ছে। নতুন প্রযুক্তির প্রতি নিয়ন্ত্রণ উন্মুক্ততা, স্মার্ট-সিটি অবকাঠামোয় সহ-বিনিয়োগে আগ্রহী সরকারি অংশীদার এবং এমন বাজারে প্রথম-প্রবেশকারীর সুবিধা যেখানে আমেরিকান ও ইউরোপীয় প্রতিযোগীরা ধীরে প্রবেশ করেছে। দুবাইয়ের রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫ শতাংশ যাত্রা স্বায়ত্তশাসিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে। এই নীতিগুলো চীনা কোম্পানিগুলোকে সরকার-সমর্থিত একটি রানওয়ে দিচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপে পাওয়া অনেক কঠিন হতো।
সংখ্যার হিসাবেও এই অগ্রযাত্রা স্পষ্ট। আরব উপসাগরীয় দেশগুলিতে চীনের মোটর গাড়ির বাজার অংশীদারিত্ব ২০১৯ সালের ২ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে প্রায় ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালে চীনা গাড়ি নির্মাতারা বিদেশে ৮৩ লাখ ২০ হাজার গাড়ি পাঠিয়েছে, যার মধ্যে ১৩ লাখ ৯০ হাজার– মোটামুটি ছয় ভাগের এক ভাগ গেছে উপসাগরীয় দেশগুলোতে। চীনা ব্র্যান্ডগুলো উচ্চমানের পণ্যের সাথে আক্রমণাত্মক নতুন বাজারে প্রবেশ করছে এবং এটি ফলপ্রসূ হচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চল দেশীয় উদ্বৃত্ত উৎপাদন শুষে নিচ্ছে এবং চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বৈশ্বিক ব্র্যান্ড তৈরি করছে।
চীনের অর্থনৈতিক মন্দা সম্পর্কে প্রচলিত আখ্যান সংকুচিত মার্জিন, উদ্বৃত্ত উৎপাদনক্ষমতা ও দুর্বল ভোক্তা চাহিদা অভ্যন্তরীণ সংকটের ওপর জোর দেয়। কিন্তু চেনজি সং মনে করেন, ইভি নির্মাতা ও ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলোর উপসাগরীয় বাজারে প্রসারণ মুদ্রার অন্য পিঠ দেখাচ্ছে। ঘরের মাটিতে যে প্রতিযোগিতামূলক তীব্রতা মুনাফা কমাচ্ছে, সেই একই তীব্রতা এমন কোম্পানি তৈরি করছে যারা প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত, পরিচালনাগতভাবে দক্ষ এবং প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়দের তুলনায় কম দামে নতুন বাজারে প্রবেশ করতে রাজি।
উইরাইড ও কিটার গল্প একই সুতোয় বাঁধা। উইরাইড চীনে এখনো নগদ খরচ করে যাচ্ছে। তারপরেও মধ্যপ্রাচ্যে পরিচালনাগত মুনাফা অর্জন করেছে। কিটা মেইতুয়ানের দেশীয় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পরিমার্জিত অপারেশনাল অবকাঠামো ও ডেলিভারি লজিস্টিক্স মোতায়েন করে মাত্র কয়েক মাসে সৌদি বাজারের উল্লেখযোগ্য অংশ দখল করেছে। উপসাগরে বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর কোনো পশ্চিমা স্বায়ত্তশাসিত ড্রাইভিং কোম্পানি না থাকায় চীনা কোম্পানিগুলো সেই সুযোগ নিয়েছে।

এশিয়া টাইমসে চেনজি সং-এর এই লেখা শেষ পর্যন্ত একটি গভীর সত্যকে সামনে আনে। চীনের অর্থনৈতিক মন্দার গল্পে যা প্রায়ই অনুপস্থিত থাকে তা হলো– পড়তে থাকা প্রবৃদ্ধির হার ও দেশীয় উদ্বৃত্ত উৎপাদন যে প্রজন্মকে তৈরি করেছে তাদের কথা, যারা বছরের পর বছর নিষ্ঠুর প্রতিযোগিতায় পোক্ত হয়ে এখন পণ্য ও পরিচালনাগত জ্ঞান এমন গতিতে রপ্তানি করছে যা বিশ্বের বাজারকে নতুন আকার দিচ্ছে। উপসাগরে আজ যা কাজ করছে তা দেখাচ্ছে যে মন্দায় পড়া দেশীয় ও বৈশ্বিক অর্থনীতি চীনা উদ্ভাবনের গতি মন্থর করেনি — বরং তার গতিপথ পরিবর্তন করেছে।