চরচা ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ, বাংলাদেশ ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল–বিশেষ করে ফিজিতে নৈতিক নিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মশক্তি উন্নয়নের পক্ষে কাজ করে আসছেন মাকসুদার রহমান। অ্যাংকর কেয়ার মাইগ্রেশন অ্যান্ড রিক্রুটমেন্ট পিটিই লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি, যার লক্ষ্য ব্যক্তিগত সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক সুযোগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় ফিজির নাদি শহরে অবস্থিত।
বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া মাকসুদার রহমান ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন, যা তাকে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা খাতে কাজ করার ভিত্তি তৈরি করে দেয়। পরে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান এবং ইউনিভার্সিটি অব সাউথ অস্ট্রেলিয়া থেকে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় এমবিএ সম্পন্ন করেন।
ফিজির সংবাদমাধ্যম ফিজি সানের উইকএন্ড এডিশনে গত ৯ মে তার সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। সাক্ষাৎকারে তিনি দেশটিতে বাংলাদেশিদের কাজ করার সুযোগ, নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো কোন পথে হাঁটছে এবং তার প্রতিষ্ঠান কীভাবে আন্তর্জাতিক সুযোগের সেতুবন্ধন তৈরি করছে–এসব নিয়ে কথা বলেন।
চরচার পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো–
অ্যাংকর কেয়ার মাইগ্রেশন অ্যান্ড রিক্রুটমেন্ট পিটিই লিমিটেড নিয়ে আপনার লক্ষ্য কী?
মাকসুদার রহমান: আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো, নিয়োগ ও অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও উন্নত করা এবং একই সঙ্গে ফিজি ও অস্ট্রেলিয়ায় আইনগত ও নৈতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করা, যাতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারিত হয়।
বিশেষ করে যেসব খাতে তীব্র শ্রমঘাটতি রয়েছে, সেখানে দক্ষ জনশক্তির যোগান ও নিয়োগদাতাদের চাহিদার মধ্যে সংযোগ তৈরি করতে আমরা কাজ করছি। একই সঙ্গে অভিবাসনের পথ যেন স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সবার জন্য সহজলভ্য থাকে, তা নিশ্চিত করতেও আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

স্থানীয় বাজারে কর্মসংস্থানের জন্য আবেদনকারী ফিজিয়ানদের ক্ষেত্রে আমরা ‘জিরো-কস্ট’ নীতি অনুসরণ করি।
গত এক বছরে আমরা স্টার্টআপ-ধারণা থেকে বেরিয়ে একটি সুসংগঠিত প্রবৃদ্ধিমুখী কৌশলের দিকে এগিয়েছি। এখন আমাদের মূল গুরুত্ব হচ্ছে আইনগত অনুবর্তিতা, ডিজিটাল সিস্টেম ও দীর্ঘমেয়াদি নিয়োগদাতা অংশীদারত্ব; শুধু এককালীন নিয়োগ নয়, পাশাপাশি আমরা নিয়োগদাতা ও কর্মী–উভয়ের জন্য ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার’ হিসেবে গড়ে উঠছি।
২০২৬ সালের মধ্যে সফলতা বলতে আমরা বুঝব–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একটি নির্ভরযোগ্য নিয়োগ ও অভিবাসন অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া।
আমরা ফিজি, অন্য প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ায় শক্তিশালী উপস্থিতি গড়ে তুলতে চাই। এর ফলে তাৎক্ষণিক শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় দক্ষ কর্মী সরবরাহ, স্থানীয় কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ এবং হাজারো টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি সম্ভব হবে।
এই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি তৈরি করা, যা স্থানীয় কর্মীদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক–উভয় বাজারের জন্য প্রস্তুত করবে।
সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধি বা স্থবিরতার পেছনে কী কাজ করেছে? ব্যবসার কোন অংশ সবচেয়ে ভালো করছে এবং কেন? কোথায় সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করছেন? ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির ঝুঁকি কী?
মাকসুদার রহমান: বিদেশি কর্মীর চাহিদা বৃদ্ধি, নিয়োগদাতাদের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, কঠোর দক্ষতা যাচাই এবং নিয়োগ-পরবর্তী ধারাবাহিক সহায়তাসহ পূর্ণাঙ্গ নিয়োগসেবা দেওয়ার সক্ষমতাই আমাদের প্রবৃদ্ধির মূল কারণ।
আমরা বর্তমানে আইনগত অনুবর্তিতা ব্যবস্থা, ডিজিটাল নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম, বিভিন্ন দেশে প্রার্থী সংগ্রহ নেটওয়ার্ক এবং বিদেশে কর্মী পাঠানোর আগে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় ব্যাপক বিনিয়োগ করছি।
আমাদের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে নীতিগত পরিবর্তন, ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা।
ফিজির বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে আপনার কার্যক্রমকে প্রভাবিত করছে? গ্রাহকদের ব্যয় ও চাহিদায় কী পরিবর্তন দেখছেন? কোন নীতিগত পরিবর্তন আপনার খাতকে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করবে বলে মনে করেন?
মাকসুদার রহমান: ফিজির অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কর্মসংস্থানের চাহিদা বাড়ছে।
একই সময়ে স্থানীয় নিয়োগদাতারা দক্ষ কর্মীর সংকটে ভুগছেন, যা আমাদের ব্যবসার জন্য একদিকে চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে সুযোগ তৈরি করছে।
গ্রাহকেরা এখন দ্রুততর প্রক্রিয়া, অধিক স্বচ্ছতা এবং দক্ষ ও কাজের উপযোগী প্রার্থী চাচ্ছেন।
যদিও নিয়োগদাতারা ব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হচ্ছেন, তবুও দীর্ঘমেয়াদি ফল দেয়–এমন মানসম্মত নিয়োগসেবায় তারা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।
সহজতর ভিসা প্রক্রিয়া, স্পষ্ট শ্রম চলাচল কাঠামো এবং ব্যবসা-টু-গভর্নমেন্ট (বিটুজি) ও গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট (জিটুজি) চুক্তি এ খাতকে উল্লেখযোগ্যভাবে সহায়তা করতে পারে।
আপনার শিল্পখাতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন কী? প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে কীভাবে খাপ খাইয়ে নিচ্ছেন? কী বন্ধ করেছেন এবং পরবর্তী সুযোগ কোথায় দেখছেন?
মাকসুদার রহমান: নিয়োগ খাতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রার্থী বাছাই ও ডিজিটাল অনবোর্ডিং।
আমরা ডিজিটাল নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম গ্রহণ করছি, অনলাইন উপস্থিতি শক্তিশালী করছি এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগুলো স্বয়ংক্রিয় করছি, যাতে দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
অনুবর্তিতা ও কার্যক্রমের সম্প্রসারণ নিশ্চিত করতে আমরা ম্যানুয়াল পদ্ধতি ও অনানুষ্ঠানিক নিয়োগ চ্যানেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছি।
পরবর্তী বড় সুযোগ হলো নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশ এবং আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের জন্য উপযোগী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা।
দক্ষ জনবল তৈরি ও ধরে রাখার ক্ষেত্রে আপনার কৌশল কী? বর্তমানে কতজন কর্মী আছে? কোন দক্ষতা সবচেয়ে বেশি সংকটে? কঠিন সময়ে কর্মীদের মনোবল কীভাবে ধরে রাখেন? কী ধরনের কর্মসংস্কৃতি গড়ে তুলতে চান?
মাকসুদার রহমান: আমরা সহায়ক কর্মপরিবেশ তৈরি, পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ প্রদান এবং কর্মীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিই।
ফিজি ও অস্ট্রেলিয়াজুড়ে আমাদের ক্রমবর্ধমান একটি টিম রয়েছে, যা ব্যবসা সম্প্রসারণের সঙ্গে আরও বাড়বে।
দক্ষ প্রযুক্তিগত পেশাজীবী, স্বাস্থ্যকর্মী এবং অভিজ্ঞ কারিগরি কর্মী নিয়োগ এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
একটি অভিন্ন লক্ষ্য ধরে রাখা, টিমকে সহায়তা দেওয়া এবং কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখাই কঠিন সময়ে মনোবল ধরে রাখতে সাহায্য করে।
আমাদের লক্ষ্য হলো সততা, অন্তর্ভুক্তি, জবাবদিহিতা এবং দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক প্রভাবের ভিত্তিতে একটি কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলা।
আপনার টিম আপনার নেতৃত্বের ধরনকে কীভাবে বর্ণনা করবে? সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত কোনটি ছিল? আপনার নেতৃত্বের ধরন কীভাবে গড়ে উঠেছে?
মাকসুদার রহমান: আমার টিম আমাকে সহযোগিতাপূর্ণ, স্বচ্ছ এবং ফলাফলমুখী নেতা হিসেবে বর্ণনা করবে।
সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর একটি ছিল প্রতিষ্ঠানের শুরুর দিকে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই নিশ্চিত করতে কোম্পানির কাঠামো পুনর্গঠন করা।
মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় একাডেমিক পটভূমি এবং অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা আমার নেতৃত্বের ধরনকে গড়ে তুলেছে।
আপনার ব্যবসা সম্পর্কে কোন সমালোচনাকে আপনি ন্যায্য মনে করেন? আবার শুরু করলে কী ভিন্নভাবে করতেন? নিজের সাফল্য কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
মাকসুদার রহমান: একটি ক্রমবর্ধমান প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা এখনো আমাদের কার্যপ্রক্রিয়া ও পরিচালন কাঠামো আরও উন্নত করছি।
আবার শুরু করার সুযোগ পেলে আমি শুরুতেই প্রযুক্তি ও অনুবর্তিতা ব্যবস্থায় বেশি বিনিয়োগ করতাম, যাতে দ্রুত প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়।
আমি আমার সাফল্য মূল্যায়ন করি ব্যবসার প্রবৃদ্ধি, গ্রাহক সন্তুষ্টি এবং কর্মী ও নিয়োগদাতাদের জন্য আমরা কতটা ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে পারছি–তার ভিত্তিতে।

অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ, বাংলাদেশ ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল–বিশেষ করে ফিজিতে নৈতিক নিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মশক্তি উন্নয়নের পক্ষে কাজ করে আসছেন মাকসুদার রহমান। অ্যাংকর কেয়ার মাইগ্রেশন অ্যান্ড রিক্রুটমেন্ট পিটিই লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি, যার লক্ষ্য ব্যক্তিগত সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক সুযোগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় ফিজির নাদি শহরে অবস্থিত।
বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া মাকসুদার রহমান ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন, যা তাকে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা খাতে কাজ করার ভিত্তি তৈরি করে দেয়। পরে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান এবং ইউনিভার্সিটি অব সাউথ অস্ট্রেলিয়া থেকে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় এমবিএ সম্পন্ন করেন।
ফিজির সংবাদমাধ্যম ফিজি সানের উইকএন্ড এডিশনে গত ৯ মে তার সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। সাক্ষাৎকারে তিনি দেশটিতে বাংলাদেশিদের কাজ করার সুযোগ, নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো কোন পথে হাঁটছে এবং তার প্রতিষ্ঠান কীভাবে আন্তর্জাতিক সুযোগের সেতুবন্ধন তৈরি করছে–এসব নিয়ে কথা বলেন।
চরচার পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো–
অ্যাংকর কেয়ার মাইগ্রেশন অ্যান্ড রিক্রুটমেন্ট পিটিই লিমিটেড নিয়ে আপনার লক্ষ্য কী?
মাকসুদার রহমান: আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো, নিয়োগ ও অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও উন্নত করা এবং একই সঙ্গে ফিজি ও অস্ট্রেলিয়ায় আইনগত ও নৈতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করা, যাতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারিত হয়।
বিশেষ করে যেসব খাতে তীব্র শ্রমঘাটতি রয়েছে, সেখানে দক্ষ জনশক্তির যোগান ও নিয়োগদাতাদের চাহিদার মধ্যে সংযোগ তৈরি করতে আমরা কাজ করছি। একই সঙ্গে অভিবাসনের পথ যেন স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সবার জন্য সহজলভ্য থাকে, তা নিশ্চিত করতেও আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

স্থানীয় বাজারে কর্মসংস্থানের জন্য আবেদনকারী ফিজিয়ানদের ক্ষেত্রে আমরা ‘জিরো-কস্ট’ নীতি অনুসরণ করি।
গত এক বছরে আমরা স্টার্টআপ-ধারণা থেকে বেরিয়ে একটি সুসংগঠিত প্রবৃদ্ধিমুখী কৌশলের দিকে এগিয়েছি। এখন আমাদের মূল গুরুত্ব হচ্ছে আইনগত অনুবর্তিতা, ডিজিটাল সিস্টেম ও দীর্ঘমেয়াদি নিয়োগদাতা অংশীদারত্ব; শুধু এককালীন নিয়োগ নয়, পাশাপাশি আমরা নিয়োগদাতা ও কর্মী–উভয়ের জন্য ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার’ হিসেবে গড়ে উঠছি।
২০২৬ সালের মধ্যে সফলতা বলতে আমরা বুঝব–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একটি নির্ভরযোগ্য নিয়োগ ও অভিবাসন অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া।
আমরা ফিজি, অন্য প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ায় শক্তিশালী উপস্থিতি গড়ে তুলতে চাই। এর ফলে তাৎক্ষণিক শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় দক্ষ কর্মী সরবরাহ, স্থানীয় কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ এবং হাজারো টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি সম্ভব হবে।
এই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি তৈরি করা, যা স্থানীয় কর্মীদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক–উভয় বাজারের জন্য প্রস্তুত করবে।
সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধি বা স্থবিরতার পেছনে কী কাজ করেছে? ব্যবসার কোন অংশ সবচেয়ে ভালো করছে এবং কেন? কোথায় সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করছেন? ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির ঝুঁকি কী?
মাকসুদার রহমান: বিদেশি কর্মীর চাহিদা বৃদ্ধি, নিয়োগদাতাদের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, কঠোর দক্ষতা যাচাই এবং নিয়োগ-পরবর্তী ধারাবাহিক সহায়তাসহ পূর্ণাঙ্গ নিয়োগসেবা দেওয়ার সক্ষমতাই আমাদের প্রবৃদ্ধির মূল কারণ।
আমরা বর্তমানে আইনগত অনুবর্তিতা ব্যবস্থা, ডিজিটাল নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম, বিভিন্ন দেশে প্রার্থী সংগ্রহ নেটওয়ার্ক এবং বিদেশে কর্মী পাঠানোর আগে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় ব্যাপক বিনিয়োগ করছি।
আমাদের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে নীতিগত পরিবর্তন, ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা।
ফিজির বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে আপনার কার্যক্রমকে প্রভাবিত করছে? গ্রাহকদের ব্যয় ও চাহিদায় কী পরিবর্তন দেখছেন? কোন নীতিগত পরিবর্তন আপনার খাতকে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করবে বলে মনে করেন?
মাকসুদার রহমান: ফিজির অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কর্মসংস্থানের চাহিদা বাড়ছে।
একই সময়ে স্থানীয় নিয়োগদাতারা দক্ষ কর্মীর সংকটে ভুগছেন, যা আমাদের ব্যবসার জন্য একদিকে চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে সুযোগ তৈরি করছে।
গ্রাহকেরা এখন দ্রুততর প্রক্রিয়া, অধিক স্বচ্ছতা এবং দক্ষ ও কাজের উপযোগী প্রার্থী চাচ্ছেন।
যদিও নিয়োগদাতারা ব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হচ্ছেন, তবুও দীর্ঘমেয়াদি ফল দেয়–এমন মানসম্মত নিয়োগসেবায় তারা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।
সহজতর ভিসা প্রক্রিয়া, স্পষ্ট শ্রম চলাচল কাঠামো এবং ব্যবসা-টু-গভর্নমেন্ট (বিটুজি) ও গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট (জিটুজি) চুক্তি এ খাতকে উল্লেখযোগ্যভাবে সহায়তা করতে পারে।
আপনার শিল্পখাতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন কী? প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে কীভাবে খাপ খাইয়ে নিচ্ছেন? কী বন্ধ করেছেন এবং পরবর্তী সুযোগ কোথায় দেখছেন?
মাকসুদার রহমান: নিয়োগ খাতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রার্থী বাছাই ও ডিজিটাল অনবোর্ডিং।
আমরা ডিজিটাল নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম গ্রহণ করছি, অনলাইন উপস্থিতি শক্তিশালী করছি এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগুলো স্বয়ংক্রিয় করছি, যাতে দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
অনুবর্তিতা ও কার্যক্রমের সম্প্রসারণ নিশ্চিত করতে আমরা ম্যানুয়াল পদ্ধতি ও অনানুষ্ঠানিক নিয়োগ চ্যানেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছি।
পরবর্তী বড় সুযোগ হলো নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশ এবং আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের জন্য উপযোগী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা।
দক্ষ জনবল তৈরি ও ধরে রাখার ক্ষেত্রে আপনার কৌশল কী? বর্তমানে কতজন কর্মী আছে? কোন দক্ষতা সবচেয়ে বেশি সংকটে? কঠিন সময়ে কর্মীদের মনোবল কীভাবে ধরে রাখেন? কী ধরনের কর্মসংস্কৃতি গড়ে তুলতে চান?
মাকসুদার রহমান: আমরা সহায়ক কর্মপরিবেশ তৈরি, পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ প্রদান এবং কর্মীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিই।
ফিজি ও অস্ট্রেলিয়াজুড়ে আমাদের ক্রমবর্ধমান একটি টিম রয়েছে, যা ব্যবসা সম্প্রসারণের সঙ্গে আরও বাড়বে।
দক্ষ প্রযুক্তিগত পেশাজীবী, স্বাস্থ্যকর্মী এবং অভিজ্ঞ কারিগরি কর্মী নিয়োগ এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
একটি অভিন্ন লক্ষ্য ধরে রাখা, টিমকে সহায়তা দেওয়া এবং কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখাই কঠিন সময়ে মনোবল ধরে রাখতে সাহায্য করে।
আমাদের লক্ষ্য হলো সততা, অন্তর্ভুক্তি, জবাবদিহিতা এবং দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক প্রভাবের ভিত্তিতে একটি কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলা।
আপনার টিম আপনার নেতৃত্বের ধরনকে কীভাবে বর্ণনা করবে? সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত কোনটি ছিল? আপনার নেতৃত্বের ধরন কীভাবে গড়ে উঠেছে?
মাকসুদার রহমান: আমার টিম আমাকে সহযোগিতাপূর্ণ, স্বচ্ছ এবং ফলাফলমুখী নেতা হিসেবে বর্ণনা করবে।
সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর একটি ছিল প্রতিষ্ঠানের শুরুর দিকে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই নিশ্চিত করতে কোম্পানির কাঠামো পুনর্গঠন করা।
মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় একাডেমিক পটভূমি এবং অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা আমার নেতৃত্বের ধরনকে গড়ে তুলেছে।
আপনার ব্যবসা সম্পর্কে কোন সমালোচনাকে আপনি ন্যায্য মনে করেন? আবার শুরু করলে কী ভিন্নভাবে করতেন? নিজের সাফল্য কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
মাকসুদার রহমান: একটি ক্রমবর্ধমান প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা এখনো আমাদের কার্যপ্রক্রিয়া ও পরিচালন কাঠামো আরও উন্নত করছি।
আবার শুরু করার সুযোগ পেলে আমি শুরুতেই প্রযুক্তি ও অনুবর্তিতা ব্যবস্থায় বেশি বিনিয়োগ করতাম, যাতে দ্রুত প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়।
আমি আমার সাফল্য মূল্যায়ন করি ব্যবসার প্রবৃদ্ধি, গ্রাহক সন্তুষ্টি এবং কর্মী ও নিয়োগদাতাদের জন্য আমরা কতটা ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে পারছি–তার ভিত্তিতে।