প্রথমবারের মতো জামায়াতের ‘হাফ সেঞ্চুরি’

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
প্রথমবারের মতো জামায়াতের ‘হাফ সেঞ্চুরি’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর লোগো। ছবি: বাসস

বাংলাদেশের নির্বাচনে ইতিহাসের নিজেদের সেরা ফলটিই এসেছে জামায়াতে ইসলামীর জন্য। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলে এরইমধ্যে ৫০টির বেশি আসনে জিতেছে জামায়াত। এরআগে কোনো নির্বাচনে এত আসনে জয় পায়নি দলটি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অন্তত ৬০ আসনে জয়ী হয়েছে। আরও কিছু আসনে জয় পেতে পারে দলটি। বড় একটা দল নিয়েই ২০১৩ সালের পর জামায়াত সংসদে ফিরছে।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ভূমিকার কারণে স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে নিষিদ্ধ হয় জামায়াত। ফলে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি তারা। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট করে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ (আইডিএল) নামে নির্বাচনে অংশ নেন জামায়াত নেতারা। সেবার ৬টি আসনে জয়ী হয়েছিল আইডিএল।

১৯৮৬ সালে নিজ নামে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ১০ আসন পায় জামায়াত। ১৯৯১ সালে রেকর্ড ১৮টি আসনে জেতে দলটি। তবে ১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ নির্বাচনে সেই ধারা ধরে রাখতে পারেনি জামায়াত। সেবার ৩০০ আসনে অংশ নিয়ে তিনটিতে জয়ী হয় জামায়াত।

২০০১ সালে বিএনপির সঙ্গে জোট করে ভোটে অংশ নেয় জামায়াত। ৩১টি আসনে প্রার্থী দেয়। ১৭টিতে জয়ী জামায়াত ৪ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পায়। ওই নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের শরীক হয়ে প্রথমবারের মতো ক্ষমতার অংশীদার হয় জামায়াত। ২০০৮ সালে ৩৯ আসনে প্রার্থী দেয় দাঁড়িপাল্লা। ভরাডুবি হয়। ৪ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়ে মাত্র দুটি আসন পায়।

২০১৩ সালের আগস্টে হাইকোর্ট জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে। এর মাধ্যমে দলটির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়। ২০১৪ সালে বিএনপির সঙ্গে নির্বাচন বর্জন করে। ২০১৮ সালে ধানের শীষ প্রতীকে জামায়াতের ২১ নেতা নির্বাচনে অংশ নেন। দুজন নির্বাচন করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে। তবে ‘রাতের ভোট’খ্যাত ওই নির্বাচনে জামায়াতের কেউ জয়ী হতে পারেননি।

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনেও অংশ নেননি জামায়াত নেতারা। একই বছরের ১ আগস্ট জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নিষিদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি মেলে জামায়াতের।

সম্পর্কিত