চরচা প্রতিবেদক

সেদিনও একটি ঐতিহাসিক দিনই ছিলো বটে! ২০২১ সালের ৭ মার্চ প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করেছিল বিএনপি। স্বাধীনতার রজতজয়ন্তির ওই আয়োজন নিয়ে বিদেশি গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলেকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছিলেন, “আমার কাছে মনে হয়েছে যারা গণতন্ত্র, সুশাসন, স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ চায়, তাদের কাছে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর যারা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর মতো স্বৈরতন্ত্র ও স্বৈরশাসনকে ধরে রাখাতে চায়, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাদের কাছে ৭ই মার্চের ভাষণ থেকে শিক্ষা নেওয়ার আছে৷”
এর মাত্র ৫ বছর পর রাষ্ট্রক্ষমতায় বিএনপি। ২০২৬ সালের ৭ মার্চ রাষ্ট্রীয়ভাবে কোথাও একটা শব্দও উচ্চারিত হয়নি– যা নিয়ে খবর হয়েছে বিদেশি গণমাধ্যমে। অন্যদিকে, ঐতিহাসিক ওই ভাষণ বাজানোর অপরাধে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। ঘটেছে মব হামলার ঘটনাও।
এ বিষয়ে সরকারের কোনো ভাষ্য পাওয়া যায় না। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২১ সালে বিএনপি মূলত গণতন্ত্র ও অধিকার আদায়ের দাবিতে আন্দোলন করছিল। তাই তাদের কাছে ভাষণটি প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছিল। ৭ই মার্চ পালনের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ভঙ্গুর দশা নিয়ে হতাশাও ব্যক্ত করেছেন বিশ্লেষকরা।
মূলত জামায়াত-শিবির এবং সেই মতবাদের অনুসারীরাই মব তৈরি করে বিশৃঙ্খলা করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক গোলাম মওলা রনি। তিনি মনে করেন, “বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও নীরব ভূমিকা পালন করা মানে—হয় তারা নিজেরা বিশ্বাস করতে পারছে না রাষ্ট্র তারা চালাচ্ছে, অথবা তারা নিজেদের কাজ মবের হাতে ছেড়ে দিয়ে সেটা করাতে চাচ্ছে।” গোলাম মওলা রনি বলেন, “তাদের আচার-আচরণ দেখে মনে হচ্ছে তারা এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না যে, এই রাষ্ট্রটা তারা চালাচ্ছে এবং তাদের হুকুমে সবকিছু চলবে।”
তবে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করেছেন গবেষক, বিশ্লেষক ও লেখক মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি মনে করেন, যারা এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক উসকানি দিচ্ছে, তারা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে আসলে রক্ষা পেয়েছে। কারণ, মবের মুখে পড়লে তাদের পরিণতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে দেশ সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেই। এর ফলে মব বা বিশৃঙ্খল জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে ২০২৬ সালে এসে বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই বিশ্লেষক বলেন, “এগুলো ফালতু কিছু উসিলা ধরে মাঠে নামার চেষ্টা এবং মানুষের আবেগকে সুরসুরি দেওয়া। এদের নেতারা যারা পালায়া গেছে, তারা কানাডা-দিল্লি-লন্ডনে গিয়ে এই ভাষণ বাজাক।”
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বিটিভিতে প্রচারিত ঐতিহাসিক ৭ মার্চ নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের কোনো অংশ ব্যবহার না করে, কেবল পেছন থেকে তার একটি স্থিরচিত্র ব্যবহার করায় এর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে লাখো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান যে ভাষণ দেন, সেটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত। এটি বিশ্বের অন্যতম রাজনৈতিক প্রেরণাদায়ী ভাষণ বলে মনে করে ইউনেস্কো। একটি জাতিকে স্বাধীনতার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ করার মতো ঐতিহাসিক বাস্তবতা বিবেচনায় ২০১৭ সালে ইউনেস্কো Memory of the World Register-এ এই ভাষণ অন্তর্ভুক্ত করে।

সেদিনও একটি ঐতিহাসিক দিনই ছিলো বটে! ২০২১ সালের ৭ মার্চ প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করেছিল বিএনপি। স্বাধীনতার রজতজয়ন্তির ওই আয়োজন নিয়ে বিদেশি গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলেকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছিলেন, “আমার কাছে মনে হয়েছে যারা গণতন্ত্র, সুশাসন, স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ চায়, তাদের কাছে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর যারা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর মতো স্বৈরতন্ত্র ও স্বৈরশাসনকে ধরে রাখাতে চায়, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাদের কাছে ৭ই মার্চের ভাষণ থেকে শিক্ষা নেওয়ার আছে৷”
এর মাত্র ৫ বছর পর রাষ্ট্রক্ষমতায় বিএনপি। ২০২৬ সালের ৭ মার্চ রাষ্ট্রীয়ভাবে কোথাও একটা শব্দও উচ্চারিত হয়নি– যা নিয়ে খবর হয়েছে বিদেশি গণমাধ্যমে। অন্যদিকে, ঐতিহাসিক ওই ভাষণ বাজানোর অপরাধে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। ঘটেছে মব হামলার ঘটনাও।
এ বিষয়ে সরকারের কোনো ভাষ্য পাওয়া যায় না। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২১ সালে বিএনপি মূলত গণতন্ত্র ও অধিকার আদায়ের দাবিতে আন্দোলন করছিল। তাই তাদের কাছে ভাষণটি প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছিল। ৭ই মার্চ পালনের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ভঙ্গুর দশা নিয়ে হতাশাও ব্যক্ত করেছেন বিশ্লেষকরা।
মূলত জামায়াত-শিবির এবং সেই মতবাদের অনুসারীরাই মব তৈরি করে বিশৃঙ্খলা করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক গোলাম মওলা রনি। তিনি মনে করেন, “বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও নীরব ভূমিকা পালন করা মানে—হয় তারা নিজেরা বিশ্বাস করতে পারছে না রাষ্ট্র তারা চালাচ্ছে, অথবা তারা নিজেদের কাজ মবের হাতে ছেড়ে দিয়ে সেটা করাতে চাচ্ছে।” গোলাম মওলা রনি বলেন, “তাদের আচার-আচরণ দেখে মনে হচ্ছে তারা এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না যে, এই রাষ্ট্রটা তারা চালাচ্ছে এবং তাদের হুকুমে সবকিছু চলবে।”
তবে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করেছেন গবেষক, বিশ্লেষক ও লেখক মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি মনে করেন, যারা এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক উসকানি দিচ্ছে, তারা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে আসলে রক্ষা পেয়েছে। কারণ, মবের মুখে পড়লে তাদের পরিণতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে দেশ সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেই। এর ফলে মব বা বিশৃঙ্খল জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে ২০২৬ সালে এসে বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই বিশ্লেষক বলেন, “এগুলো ফালতু কিছু উসিলা ধরে মাঠে নামার চেষ্টা এবং মানুষের আবেগকে সুরসুরি দেওয়া। এদের নেতারা যারা পালায়া গেছে, তারা কানাডা-দিল্লি-লন্ডনে গিয়ে এই ভাষণ বাজাক।”
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বিটিভিতে প্রচারিত ঐতিহাসিক ৭ মার্চ নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের কোনো অংশ ব্যবহার না করে, কেবল পেছন থেকে তার একটি স্থিরচিত্র ব্যবহার করায় এর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে লাখো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান যে ভাষণ দেন, সেটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত। এটি বিশ্বের অন্যতম রাজনৈতিক প্রেরণাদায়ী ভাষণ বলে মনে করে ইউনেস্কো। একটি জাতিকে স্বাধীনতার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ করার মতো ঐতিহাসিক বাস্তবতা বিবেচনায় ২০১৭ সালে ইউনেস্কো Memory of the World Register-এ এই ভাষণ অন্তর্ভুক্ত করে।