চরচা ডেস্ক

চীনের সহযোগিতায় পাকিস্তানে তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান নিয়ে আন্তর্জাতিক এবং বিশেষ করে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের আগ্রহ বাড়ছে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধানদের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর এই যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাবনা জোরদার হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ দাবি করেছেন যে, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের পর জেএফ-১৭ থান্ডার জেটের ক্রয়াদেশে রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি দেখেছে ইসলামাবাদ।
তার মতে, এ কারণে আগামী ছয় মাস পর পাকিস্তানের হয়তো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আর্থিক সহায়তার আর প্রয়োজন হবে না। আইএমএফ-এর শর্ত মেনে পাকিস্তানের জাতীয় বিমান সংস্থা পিআইএ বিক্রি করে দেওয়ার কয়েক মাস পরই তিনি এই মন্তব্য করলেন।
সম্প্রচারমাধ্যম জিও নিউজকে আসিফ বলেন, ‘‘আমাদের বিমানগুলো পরীক্ষিত এবং আমরা এত বেশি ক্রয়াদেশ পাচ্ছি যে আগামী ছয় মাসের মধ্যে পাকিস্তানের হয়তো আর আইএমএফ-এর প্রয়োজন পড়বে না।’’
পাকিস্তান বর্তমানে আইএমএফ-এর ৭ বিলিয়ন ডলারের একটি কর্মসূচির আওতায় রয়েছে, যা দেশটিতে ২৪তম ঋণ সহায়তা। এর আগে ২০২৩ সালে খেলাপি হওয়া এড়াতে ৩ বিলিয়ন ডলারের একটি স্বল্পমেয়াদী চুক্তি করেছিল তারা। সৌদি আরব এবং অন্যান্য উপসাগরীয় মিত্ররা আর্থিক আমানত সহায়তা দেওয়ার পরই পাকিস্তান আইএমএফ-এর এই সমর্থন নিশ্চিত করতে পেরেছিল। এই ঋণগুলো কঠোর শর্তসাপেক্ষ, যার মধ্যে রয়েছে রাজস্ব সংস্কার, ভর্তুকি হ্রাস এবং রাজস্ব তৈরির বিভিন্ন উদ্যোগ।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তান তাদের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের রপ্তানি বাড়াতে এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পকে কাজে লাগাতে তৎপর হয়েছে। জেএফ-১৭ এখন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর অস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচির মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজারবাইজানের সঙ্গে চুক্তি এবং লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সাথে ৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি এর বড় প্রমাণ। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে বাংলাদেশের সঙ্গেও জেএফ-১৭ বিক্রির বিষয়ে আলোচনা করেছে ইসলামাবাদ।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের কাছ থেকে নেওয়া প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের ঋণকে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান চুক্তিতে রূপান্তর করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। গত বছর দেশ দুটির মধ্যে সই হওয়া প্রতিরক্ষা চুক্তির পর এটি তাদের সামরিক সহযোগিতাকে আরও গভীর করবে।
পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল আমির মাসুদের দাবি, জেএফ-১৭ যুদ্ধক্ষেত্রে প্রমাণিত এবং সাশ্রয়ী হওয়ার কারণে এর বাজারমূল্য বেড়েছে। তবে এই দাবির বিপরীতে রাজনৈতিক বিশ্লেষক আয়েশা সিদ্দিকা অবশ্য এ নিয়ে কিছুটা উপহাসের সঙ্গেই বলেছেন, পাকিস্তানের মন্ত্রীর কথা শুনে মনে হচ্ছে তিনি এমন কিছু সাংবাদিকদের মতো বলছেন যারা বিমান আর সাবমেরিনের পার্থক্য বোঝেন না। তার মতে, উৎপাদনের পর পাকিস্তানের কাছে আইএমএফ-এর ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়ার মতো যথেষ্ট অর্থ অবশিষ্ট থাকবে না।
গত বছরের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘাতের সময় পাকিস্তান এই জেএফ-১৭ ব্যবহারের দাবি করে। ওই দিকে ভারতের দাবি ‘অপারেশন সিদুঁর’-এ পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলার জবাবে ভারত এই পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছিল।
জেএফ-১৭ থান্ডার হলো একটি হালকা ওজনের বহুমুখী যুদ্ধবিমান, যা যৌথভাবে পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স এবং চীনের চেংদু এয়ারক্রাফট কর্পোরেশন তৈরি করে। আল জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, এর উৎপাদনের ৫৮ শতাংশ পাকিস্তানে এবং ৪২ শতাংশ চীনে সম্পন্ন হয়। রাশিয়ার ইঞ্জিন এবং ব্রিটিশ কোম্পানির তৈরি আসন ব্যবহৃত হলেও এর সম্পূর্ণ অ্যাসেম্বলিং পাকিস্তানেই করা হয়। প্রতিটি জেএফ-১৭ বিমানের আনুমানিক মূল্য ২৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে।

চীনের সহযোগিতায় পাকিস্তানে তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান নিয়ে আন্তর্জাতিক এবং বিশেষ করে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের আগ্রহ বাড়ছে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধানদের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর এই যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাবনা জোরদার হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ দাবি করেছেন যে, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের পর জেএফ-১৭ থান্ডার জেটের ক্রয়াদেশে রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি দেখেছে ইসলামাবাদ।
তার মতে, এ কারণে আগামী ছয় মাস পর পাকিস্তানের হয়তো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আর্থিক সহায়তার আর প্রয়োজন হবে না। আইএমএফ-এর শর্ত মেনে পাকিস্তানের জাতীয় বিমান সংস্থা পিআইএ বিক্রি করে দেওয়ার কয়েক মাস পরই তিনি এই মন্তব্য করলেন।
সম্প্রচারমাধ্যম জিও নিউজকে আসিফ বলেন, ‘‘আমাদের বিমানগুলো পরীক্ষিত এবং আমরা এত বেশি ক্রয়াদেশ পাচ্ছি যে আগামী ছয় মাসের মধ্যে পাকিস্তানের হয়তো আর আইএমএফ-এর প্রয়োজন পড়বে না।’’
পাকিস্তান বর্তমানে আইএমএফ-এর ৭ বিলিয়ন ডলারের একটি কর্মসূচির আওতায় রয়েছে, যা দেশটিতে ২৪তম ঋণ সহায়তা। এর আগে ২০২৩ সালে খেলাপি হওয়া এড়াতে ৩ বিলিয়ন ডলারের একটি স্বল্পমেয়াদী চুক্তি করেছিল তারা। সৌদি আরব এবং অন্যান্য উপসাগরীয় মিত্ররা আর্থিক আমানত সহায়তা দেওয়ার পরই পাকিস্তান আইএমএফ-এর এই সমর্থন নিশ্চিত করতে পেরেছিল। এই ঋণগুলো কঠোর শর্তসাপেক্ষ, যার মধ্যে রয়েছে রাজস্ব সংস্কার, ভর্তুকি হ্রাস এবং রাজস্ব তৈরির বিভিন্ন উদ্যোগ।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তান তাদের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের রপ্তানি বাড়াতে এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পকে কাজে লাগাতে তৎপর হয়েছে। জেএফ-১৭ এখন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর অস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচির মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজারবাইজানের সঙ্গে চুক্তি এবং লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সাথে ৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি এর বড় প্রমাণ। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে বাংলাদেশের সঙ্গেও জেএফ-১৭ বিক্রির বিষয়ে আলোচনা করেছে ইসলামাবাদ।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের কাছ থেকে নেওয়া প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের ঋণকে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান চুক্তিতে রূপান্তর করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। গত বছর দেশ দুটির মধ্যে সই হওয়া প্রতিরক্ষা চুক্তির পর এটি তাদের সামরিক সহযোগিতাকে আরও গভীর করবে।
পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল আমির মাসুদের দাবি, জেএফ-১৭ যুদ্ধক্ষেত্রে প্রমাণিত এবং সাশ্রয়ী হওয়ার কারণে এর বাজারমূল্য বেড়েছে। তবে এই দাবির বিপরীতে রাজনৈতিক বিশ্লেষক আয়েশা সিদ্দিকা অবশ্য এ নিয়ে কিছুটা উপহাসের সঙ্গেই বলেছেন, পাকিস্তানের মন্ত্রীর কথা শুনে মনে হচ্ছে তিনি এমন কিছু সাংবাদিকদের মতো বলছেন যারা বিমান আর সাবমেরিনের পার্থক্য বোঝেন না। তার মতে, উৎপাদনের পর পাকিস্তানের কাছে আইএমএফ-এর ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়ার মতো যথেষ্ট অর্থ অবশিষ্ট থাকবে না।
গত বছরের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘাতের সময় পাকিস্তান এই জেএফ-১৭ ব্যবহারের দাবি করে। ওই দিকে ভারতের দাবি ‘অপারেশন সিদুঁর’-এ পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলার জবাবে ভারত এই পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছিল।
জেএফ-১৭ থান্ডার হলো একটি হালকা ওজনের বহুমুখী যুদ্ধবিমান, যা যৌথভাবে পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স এবং চীনের চেংদু এয়ারক্রাফট কর্পোরেশন তৈরি করে। আল জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, এর উৎপাদনের ৫৮ শতাংশ পাকিস্তানে এবং ৪২ শতাংশ চীনে সম্পন্ন হয়। রাশিয়ার ইঞ্জিন এবং ব্রিটিশ কোম্পানির তৈরি আসন ব্যবহৃত হলেও এর সম্পূর্ণ অ্যাসেম্বলিং পাকিস্তানেই করা হয়। প্রতিটি জেএফ-১৭ বিমানের আনুমানিক মূল্য ২৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে।