Advertisement Banner

পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু রোধে সমাধানমুখী সাংবাদিকতার তাগিদ

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু রোধে সমাধানমুখী সাংবাদিকতার তাগিদ

দেশে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু প্রতিরোধে গণমাধ্যমকে আরও তথ্যনির্ভর, অনুসন্ধানী ও সমাধানমুখী সাংবাদিকতা করার আহ্বান জানিয়েছেন শীর্ষ গণমাধ্যম নীতিনির্ধারকেরা। তাদের মতে, শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাকে শুধু দুর্ঘটনার সংবাদ হিসেবে প্রকাশ না করে এর কারণ, কার্যকর সমাধান, সফল উদ্যোগ এবং নীতিগত প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে হবে। এতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ, শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ ও সুরক্ষা বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের গণমাধ্যম নীতিনির্ধারক ও গেটকিপারদের সঙ্গে এক পরামর্শসভায় এসব মতামত উঠে আসে। আন্তর্জাতিক সংস্থা সিনারগোসের সহযোগিতায় সমষ্টি মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এ সভার আয়োজন করে।

সভায় জানানো হয়, দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০ শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। তবে এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য কমিউনিটি চাইল্ড কেয়ার সেন্টার এবং বড় শিশুদের সাঁতার প্রশিক্ষণের মতো গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে এ ধরনের মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে। এসব কেন্দ্র শিশুদের ভাষা, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ, বিদ্যালয়ের প্রস্তুতি এবং নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সভায় আরও জানানো হয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৬ জেলায় বাস্তবায়িত প্রকল্পের প্রথম পর্যায় গত বছরের ডিসেম্বরে শেষ হয়েছে। অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা নতুন প্রকল্প প্রস্তাবে ৩০ জেলার ৭৯ উপজেলায় কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার সুপারিশ করেন বক্তারা।

সভায় মাল্টিমিডিয়া সংবাদমাধ্যম চরচার সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, “প্রকল্পভিত্তিক উন্নয়ন দিয়ে খুব বেশি দূর এগোনো যাবে না। এটিকে স্থানীয় সরকার, নাগরিক সমাজ, নারী, তরুণ এবং গণমাধ্যমকে সম্পৃক্ত করে স্থায়ী উদ্যোগে পরিণত করতে হবে। যেসব এলাকায় পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি বেশি, সেখানে আরও বেশি কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। গণমাধ্যমকে সরকারকে বারবার মনে করিয়ে দিতে হবে, যেন এ ধরনের কার্যকর উদ্যোগ কোনোভাবেই থেমে না যায়।”

সিনারগোস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর এশা হুসাইন বলেন, আগে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুকে অনেকেই ভাগ্যের বিষয় বলে মনে করতেন। কিন্তু গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, ছোট শিশুদের নিরাপদ তত্ত্বাবধান এবং বয়সভিত্তিক সাঁতার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অধিকাংশ মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। সেই গবেষণার ভিত্তিতেই সরকারের নেতৃত্বে কর্মসূচির সম্প্রসারণ শুরু হয়েছে।

এশা হুসাইন আরও বলেন, “ভালো উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পরিবর্তন এলেই অনেক সময় কার্যকর উদ্যোগ থমকে যায়। কিন্তু তথ্য-প্রমাণভিত্তিক সংবাদ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে ইতিবাচক চাপ তৈরি করে এবং কার্যকর উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে।“

পরামর্শসভায় বক্তারা বলেন, শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ কেবল স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার বিষয় নয়, এটি মানবসম্পদ উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার সঙ্গেও সম্পর্কিত। তাই শিশু সুরক্ষা, প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ এবং কেয়ার ইকোনমির মতো বিষয়গুলোকে জাতীয় উন্নয়ন আলোচনায় আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সভায় অংশ নেওয়া সম্পাদক, সংবাদপ্রধান ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা শিশু সুরক্ষা, প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ এবং পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধকে জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে আরও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরার অঙ্গীকার করেন। তাদের মতে, ঘটনা-কেন্দ্রিক সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি সমাধান, নীতি ও কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে ধারাবাহিক সাংবাদিকতাই এ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে পারে।

সম্পর্কিত