চরচা প্রতিবেদক

“ভাড়া ৭০০ টাকা। অন্যান্য সময় এমনই দিয়ে যাই। কিন্তু এখন তো আনন্দের সময়। ঈদ আনন্দ বলে কথা! তাই ভাড়া রেখেছে ১ হাজার টাকা। নিয়মিত যাই, পরিচিত বলে ১ হাজার নিয়েছে। অন্যদের কাছে আরও বেশি নিচ্ছে।”
আখতার আহমেদ পরিবার-পরিজন নিয়ে রওনা দিয়েছেন রংপুরের উদ্দেশে। গাবতলী বাস টার্মিনালে দাড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন তিনি। পাশেই শ্যামলী পরিবহনের এক যাত্রী বললেন, তাকে বেশি ভাড়া দিতে হয়নি। কারণ, অগ্রিম টিকেট কিনে রেখেছিলেন।
আজ সোমবার রাজধানী থেকে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ করতে রওনা দেওয়া মানুষের ভোগান্তির প্রথম ধাপ এমনই দেখা গেছে।
'ঈদ বকশিশ' ও 'ফিরতি ট্রিপের' নামে অতিরিক্ত ভাড়া
ঢাকা-রংপুর ও উত্তরাঞ্চলের রুটের নিয়মিত ভাড়া ৭০০-৮০০ টাকা হলেও ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক যাত্রী।
বাড়তি ভাড়া নেওয়া একই চিত্র দেখা গেছে সায়দাবাদ বাস টার্মিনালেও। এই রুটের যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, বারবার সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় বাড়তি ভাড়া নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু সেই ব্যবস্থা আমরা আর দেখলাম না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কোনো কোনো রুটে ভাড়ার তালিকা ঢেকে রেখে বা গায়েব করে ইচ্ছেমতো ভাড়া হাঁকা হচ্ছে। জিজ্ঞেস করতেই কাউন্টারের ম্যানেজার জানাল, ঐটা সরকারি রেট। ঐ রেটে গেলে যাত্রীদের আরও বেশি টাকা দিতে হবে। এখন বরং কমিয়ে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে!
ঢাকা-বরিশাল ও দক্ষিণাঞ্চলের রুটে মাওয়া বা পদ্মা সেতু হয়ে যাওয়া বাসগুলোতে ৫০০ টাকার টিকিট ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। একজন ভ্রাম্যমান পান-সিগারেট বিক্রেতা বললেন, “সারা দিনে কতবার হ্যাগো লগে যাত্রিগো ঝগড়া লাগে, মাঝে মাঝে হাতাহাতিও লাইগা যায়।”
যাত্রীদের অভিযোগ, কাউন্টার ম্যানেজার ও চালকদের সহকারীরা এই বাড়তি ভাড়াকে ‘ফিরতি ট্রিপের তেলের খরচ’ বা ‘ঈদের বকশিশ’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
যদিও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে টার্মিনালগুলোতে এবারও ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নজরদারি জোরদার করার দাবি করা হয়েছে। তবে যাত্রীদের অভিযোগ–বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন দেখা গেল না।
পথে পথে ধীরগতি
ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কিছু কিছু পয়েন্টে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে ধীরগতি দেখা গেছে। এতে অনেক বাস সময়মতো গন্তব্যে পৌছাতে দেরি করছে। এর প্রতিফলন দেখা গেছে ঢাকার টার্মিনালগুলোতে। বাস ফিরতে দেরি হওয়ায় রাজধানী থেকে বাস ছাড়তে দেরি হচ্ছে। বিশেষ করে টোল প্লাজা এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার কারণে মহাসড়কের প্রবেশমুখগুলোতে জটলা তৈরি হচ্ছে বলে জানালেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
তীব্র গরম আর বৃষ্টির কারণে যাত্রীরা চরম অস্বস্তিতে সময় পার করছেন। আগামী দুই দিন টাঙ্গাইল রুটে যান চলাচলে গতি না ফিরলে যানজট পরিস্থিতি ঐ রুটে অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে পরিবহনগুলোর পক্ষ থেকে।

“ভাড়া ৭০০ টাকা। অন্যান্য সময় এমনই দিয়ে যাই। কিন্তু এখন তো আনন্দের সময়। ঈদ আনন্দ বলে কথা! তাই ভাড়া রেখেছে ১ হাজার টাকা। নিয়মিত যাই, পরিচিত বলে ১ হাজার নিয়েছে। অন্যদের কাছে আরও বেশি নিচ্ছে।”
আখতার আহমেদ পরিবার-পরিজন নিয়ে রওনা দিয়েছেন রংপুরের উদ্দেশে। গাবতলী বাস টার্মিনালে দাড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন তিনি। পাশেই শ্যামলী পরিবহনের এক যাত্রী বললেন, তাকে বেশি ভাড়া দিতে হয়নি। কারণ, অগ্রিম টিকেট কিনে রেখেছিলেন।
আজ সোমবার রাজধানী থেকে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ করতে রওনা দেওয়া মানুষের ভোগান্তির প্রথম ধাপ এমনই দেখা গেছে।
'ঈদ বকশিশ' ও 'ফিরতি ট্রিপের' নামে অতিরিক্ত ভাড়া
ঢাকা-রংপুর ও উত্তরাঞ্চলের রুটের নিয়মিত ভাড়া ৭০০-৮০০ টাকা হলেও ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক যাত্রী।
বাড়তি ভাড়া নেওয়া একই চিত্র দেখা গেছে সায়দাবাদ বাস টার্মিনালেও। এই রুটের যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, বারবার সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় বাড়তি ভাড়া নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু সেই ব্যবস্থা আমরা আর দেখলাম না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কোনো কোনো রুটে ভাড়ার তালিকা ঢেকে রেখে বা গায়েব করে ইচ্ছেমতো ভাড়া হাঁকা হচ্ছে। জিজ্ঞেস করতেই কাউন্টারের ম্যানেজার জানাল, ঐটা সরকারি রেট। ঐ রেটে গেলে যাত্রীদের আরও বেশি টাকা দিতে হবে। এখন বরং কমিয়ে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে!
ঢাকা-বরিশাল ও দক্ষিণাঞ্চলের রুটে মাওয়া বা পদ্মা সেতু হয়ে যাওয়া বাসগুলোতে ৫০০ টাকার টিকিট ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। একজন ভ্রাম্যমান পান-সিগারেট বিক্রেতা বললেন, “সারা দিনে কতবার হ্যাগো লগে যাত্রিগো ঝগড়া লাগে, মাঝে মাঝে হাতাহাতিও লাইগা যায়।”
যাত্রীদের অভিযোগ, কাউন্টার ম্যানেজার ও চালকদের সহকারীরা এই বাড়তি ভাড়াকে ‘ফিরতি ট্রিপের তেলের খরচ’ বা ‘ঈদের বকশিশ’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
যদিও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে টার্মিনালগুলোতে এবারও ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নজরদারি জোরদার করার দাবি করা হয়েছে। তবে যাত্রীদের অভিযোগ–বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন দেখা গেল না।
পথে পথে ধীরগতি
ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কিছু কিছু পয়েন্টে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে ধীরগতি দেখা গেছে। এতে অনেক বাস সময়মতো গন্তব্যে পৌছাতে দেরি করছে। এর প্রতিফলন দেখা গেছে ঢাকার টার্মিনালগুলোতে। বাস ফিরতে দেরি হওয়ায় রাজধানী থেকে বাস ছাড়তে দেরি হচ্ছে। বিশেষ করে টোল প্লাজা এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার কারণে মহাসড়কের প্রবেশমুখগুলোতে জটলা তৈরি হচ্ছে বলে জানালেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
তীব্র গরম আর বৃষ্টির কারণে যাত্রীরা চরম অস্বস্তিতে সময় পার করছেন। আগামী দুই দিন টাঙ্গাইল রুটে যান চলাচলে গতি না ফিরলে যানজট পরিস্থিতি ঐ রুটে অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে পরিবহনগুলোর পক্ষ থেকে।