তাসীন মল্লিক

চলতি বছরের শেষদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে মন্ত্রী পর্যায়ে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এখন পর্যন্ত প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী বলেছে, তারা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোয় এককভাবে নির্বাচন করবে। তবে জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা করে প্রার্থী দেবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আওয়ামী লীগের সময়ের মতো দলীয় প্রতীকে হবে না। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি ও অবস্থান ইতোমধ্যে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। দলীয় প্রতীকে ভোট না হলেও দলগুলোর প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
ক্ষমতাসীন বিএনপি এখনো তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে জামায়াতের জোটসঙ্গী এনসিপি ঢাকার দুটিসহ দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশনে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করে এই আলোচনায় আরও ঘি ঢেলেছে।
এনসিপি সূত্র বলছে, তারা জোটের মুরুব্বি জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা করে প্রার্থী দেবে। এর পেছনে কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গড়ে ওঠা ‘নির্বাচনী ঐক্য’। সেই সময় জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আরও ১০টি দলকে নিয়ে মোট ১১ দলের একটি জোট গঠিত হয়েছিল, যেখানে এনসিপির সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক সমন্বয় তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে, সিটি নির্বাচনেও কি এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতা থাকবে, নাকি দলগুলো আলাদা পথ বেছে নেবে?
এনসিপির একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি। তারা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা হওয়ার পরই এ ধরনের সমঝোতা নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে। অর্থাৎ, বর্তমান পর্যায়ে বিষয়টি সম্ভাবনার মধ্যে থাকলেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও আপাতত ভিন্ন সুর শোনা যাচ্ছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের চরচাকে সম্প্রতি বলেন, ‘‘আমাদের (১১ দল) প্রাথমিক সিদ্ধান্তটা এমন যে, এই নির্বাচনটা আমরা আলাদা আলাদাভাবেই করব। স্ব স্ব দল থেকে সিটি করপোরেশনগুলোতে আমাদের প্রার্থী দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত এমনই সিদ্ধান্ত।” তার এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, অন্তত প্রাথমিকভাবে দলটি এককভাবেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গত ২৯ মার্চ এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাকি সাতটি সিটি করপোরেশনেও খুব শিগগিরই প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। একই সময়ে জামায়াতে ইসলামীও তাদের বিভিন্ন সাংগঠনিক সমাবেশ থেকে চারটি সিটিতে নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে, যা দুই দলের পৃথক নির্বাচনী প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়।
মূল লক্ষ্য ‘সংগঠন’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে এনসিপি কেবল একটি ভোটযুদ্ধ হিসেবে দেখছে না; বরং এটি তাদের জন্য একটি সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর বড় সুযোগ। দলটির কৌশলগত পরিকল্পনায় রয়েছে–সারা দেশে ইউনিয়ন থেকে শুরু করে উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায় পর্যন্ত শক্তিশালী প্রার্থী তৈরি করা এবং মাঠপর্যায়ে দলীয় উপস্থিতি জোরদার করা।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত ১০ মে এনসিপি দেশের ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে। প্রার্থী ঘোষণার সময় দলের নেতারা জানান, এটি কেবল প্রথম ধাপ; দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে, যা ঈদের আগেই শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ওই সংবাদ সম্মেলনে সমঝোতার প্রসঙ্গও উঠে আসে। সেখানে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “…আমরা স্থানীয় নির্বাচনের ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছি। জোটগতভাবে নির্বাচন হবে নাকি এককভাবে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নির্বাচনের আগে হবে। কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে যে দল ২০৩৬ সালের মধ্যে সংসদে সরকারি দল হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখে, সেই দল জোটের আশায় বা জোট হবে কি না–এই দ্বিধা নিয়ে বসে থাকতে পারে না। সেই জায়গা থেকে আমরা এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা করছি।”
সারজিস আলমের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, দলটি আপাতত নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ এবং রংপুর সিটি করপোরেশন ঘিরে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ে সমঝোতার আলোচনা হয়েছিল। তবে ঢাকা দক্ষিণে এনসিপির প্রার্থী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিষয়ে আপত্তি থাকায় সেই আলোচনা আর এগোয়নি।
নারায়ণগঞ্জে নির্বাচন নিয়ে এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী এবং দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, ‘‘আমারা একভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছি। সমঝোতার বিষয়টি হয়তো তফসিলের পর হতে পারে। আমরা উভয় প্রস্তুতিই নিয়ে রাখছি।’’
তার বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, দলটি একই সঙ্গে একক নির্বাচন এবং সম্ভাব্য জোট–দুই ধরনের পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এনসিপি ইতোমধ্যে যে পাঁচটি সিটি করপোরেশনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে, তারা হলেন–ঢাকা দক্ষিণে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, ঢাকা উত্তরে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, কুমিল্লায় জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, রাজশাহীতে মহানগর আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী এবং সিলেটে মহানগর আহ্বায়ক আবদুর রহমান আফজাল।
ভোটের পরিবেশ নিয়ে ঐক্য
যদিও প্রার্থী নির্ধারণ বা সমঝোতা প্রশ্নে জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে এখনো সুস্পষ্ট ঐক্য দেখা যাচ্ছে না, তবে ভোটের পরিবেশ নিয়ে দুই দলের অবস্থান অনেকটাই এক। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা নিয়ে উভয় দলই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং প্রয়োজনে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার সব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকেও দলীয়করণের চেষ্টা করছে এবং সেটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে। তার এই বক্তব্যে স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
একইভাবে দলের আরেক শীর্ষ নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতা হলে রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে উঠবে। এই অবস্থান থেকে বোঝা যায়, নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত থাকতে চায়।
এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, ‘‘জামায়াতের সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক জোট। স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে কোনো সহিংসতা হলে আমরা তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করব।’’

চলতি বছরের শেষদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে মন্ত্রী পর্যায়ে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এখন পর্যন্ত প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী বলেছে, তারা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোয় এককভাবে নির্বাচন করবে। তবে জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা করে প্রার্থী দেবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আওয়ামী লীগের সময়ের মতো দলীয় প্রতীকে হবে না। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি ও অবস্থান ইতোমধ্যে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। দলীয় প্রতীকে ভোট না হলেও দলগুলোর প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
ক্ষমতাসীন বিএনপি এখনো তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে জামায়াতের জোটসঙ্গী এনসিপি ঢাকার দুটিসহ দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশনে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করে এই আলোচনায় আরও ঘি ঢেলেছে।
এনসিপি সূত্র বলছে, তারা জোটের মুরুব্বি জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা করে প্রার্থী দেবে। এর পেছনে কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গড়ে ওঠা ‘নির্বাচনী ঐক্য’। সেই সময় জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আরও ১০টি দলকে নিয়ে মোট ১১ দলের একটি জোট গঠিত হয়েছিল, যেখানে এনসিপির সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক সমন্বয় তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে, সিটি নির্বাচনেও কি এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতা থাকবে, নাকি দলগুলো আলাদা পথ বেছে নেবে?
এনসিপির একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি। তারা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা হওয়ার পরই এ ধরনের সমঝোতা নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে। অর্থাৎ, বর্তমান পর্যায়ে বিষয়টি সম্ভাবনার মধ্যে থাকলেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও আপাতত ভিন্ন সুর শোনা যাচ্ছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের চরচাকে সম্প্রতি বলেন, ‘‘আমাদের (১১ দল) প্রাথমিক সিদ্ধান্তটা এমন যে, এই নির্বাচনটা আমরা আলাদা আলাদাভাবেই করব। স্ব স্ব দল থেকে সিটি করপোরেশনগুলোতে আমাদের প্রার্থী দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত এমনই সিদ্ধান্ত।” তার এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, অন্তত প্রাথমিকভাবে দলটি এককভাবেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গত ২৯ মার্চ এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাকি সাতটি সিটি করপোরেশনেও খুব শিগগিরই প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। একই সময়ে জামায়াতে ইসলামীও তাদের বিভিন্ন সাংগঠনিক সমাবেশ থেকে চারটি সিটিতে নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে, যা দুই দলের পৃথক নির্বাচনী প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়।
মূল লক্ষ্য ‘সংগঠন’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে এনসিপি কেবল একটি ভোটযুদ্ধ হিসেবে দেখছে না; বরং এটি তাদের জন্য একটি সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর বড় সুযোগ। দলটির কৌশলগত পরিকল্পনায় রয়েছে–সারা দেশে ইউনিয়ন থেকে শুরু করে উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায় পর্যন্ত শক্তিশালী প্রার্থী তৈরি করা এবং মাঠপর্যায়ে দলীয় উপস্থিতি জোরদার করা।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত ১০ মে এনসিপি দেশের ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে। প্রার্থী ঘোষণার সময় দলের নেতারা জানান, এটি কেবল প্রথম ধাপ; দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে, যা ঈদের আগেই শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ওই সংবাদ সম্মেলনে সমঝোতার প্রসঙ্গও উঠে আসে। সেখানে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “…আমরা স্থানীয় নির্বাচনের ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছি। জোটগতভাবে নির্বাচন হবে নাকি এককভাবে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নির্বাচনের আগে হবে। কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে যে দল ২০৩৬ সালের মধ্যে সংসদে সরকারি দল হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখে, সেই দল জোটের আশায় বা জোট হবে কি না–এই দ্বিধা নিয়ে বসে থাকতে পারে না। সেই জায়গা থেকে আমরা এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা করছি।”
সারজিস আলমের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, দলটি আপাতত নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ এবং রংপুর সিটি করপোরেশন ঘিরে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ে সমঝোতার আলোচনা হয়েছিল। তবে ঢাকা দক্ষিণে এনসিপির প্রার্থী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিষয়ে আপত্তি থাকায় সেই আলোচনা আর এগোয়নি।
নারায়ণগঞ্জে নির্বাচন নিয়ে এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী এবং দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, ‘‘আমারা একভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছি। সমঝোতার বিষয়টি হয়তো তফসিলের পর হতে পারে। আমরা উভয় প্রস্তুতিই নিয়ে রাখছি।’’
তার বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, দলটি একই সঙ্গে একক নির্বাচন এবং সম্ভাব্য জোট–দুই ধরনের পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এনসিপি ইতোমধ্যে যে পাঁচটি সিটি করপোরেশনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে, তারা হলেন–ঢাকা দক্ষিণে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, ঢাকা উত্তরে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, কুমিল্লায় জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, রাজশাহীতে মহানগর আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী এবং সিলেটে মহানগর আহ্বায়ক আবদুর রহমান আফজাল।
ভোটের পরিবেশ নিয়ে ঐক্য
যদিও প্রার্থী নির্ধারণ বা সমঝোতা প্রশ্নে জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে এখনো সুস্পষ্ট ঐক্য দেখা যাচ্ছে না, তবে ভোটের পরিবেশ নিয়ে দুই দলের অবস্থান অনেকটাই এক। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা নিয়ে উভয় দলই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং প্রয়োজনে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার সব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকেও দলীয়করণের চেষ্টা করছে এবং সেটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে। তার এই বক্তব্যে স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
একইভাবে দলের আরেক শীর্ষ নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতা হলে রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে উঠবে। এই অবস্থান থেকে বোঝা যায়, নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত থাকতে চায়।
এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, ‘‘জামায়াতের সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক জোট। স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে কোনো সহিংসতা হলে আমরা তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করব।’’