Advertisement Banner

মোসাদ্দেক: এলেন, দেখলেন, বাদ পড়লেন!

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
মোসাদ্দেক: এলেন, দেখলেন, বাদ পড়লেন!
মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ছবি: ফেসবুক

সিরিজ শুরুর আগে ছিলেন না জাতীয় দলের কোনো আলোচনায়। মোসাদ্দেক হোসেন তাই সিলেটে চলে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ম্যাচ খেলতে। তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে হারের পর আচমকাই নির্বাচকদের মনে হলো, মোসাদ্দেককে তাদের প্রয়োজন। অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডারকে তাই উড়িয়ে আনা হলো ঢাকায়। তবে একদিন অনুশীলনের পরই তাকে আবার ফিরে যেতে হয়েছে সিলেটেই। পেশাদার ক্রিকেটেও এমন বেরসিক আচরণ বিস্ময়করই বটে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে অবশ্য এসব বিষয়কে খুব একটা গুরুত্ব দিয়ে ভাবা হয় না। আর তাই, হুট করেই একজন খেলোয়াড়কে দলে নেওয়া হয়, কোনো ম্যাচে আবার সুযোগ না দিয়ে বাদও দেওয়া হয়। দল নির্বাচনের প্রক্রিয়া অনুসরণের নীতি বছরের পর বছর ধরে তাই স্রেফ প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ। সবশেষ মোসাদ্দেক হলেন এর শিকার।

ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে চার নির্বাচকের কেউই আভাস দেননি মোসাদ্দেককে বিবেচনা করার। পাকিস্তান সিরিজের স্কোয়াডেই তাদের আস্থা রাখাটা বলে দিচ্ছিল, খুব বড় কোনো বিপদ না হলে এই দলে তারা কোনো পরিবর্তন চান না। আর তাই মোসাদ্দেক পুরোদমে লাল বলের অনুশীলনে নিজেকে প্রস্তুত করেন বিসিএলের জন্য।

তবে ম্যাচটি শুরুর দুই দিন আগে রাতারাতি বদলে যায় চিত্র। ছয়ে নেমে আরেক অলরাউন্ডার আফিফ হোসেন উপহার দেন প্রশ্নবিদ্ধ এক ইনিংস, যা বাংলাদেশের পরাজয়ে রাখে বড় ভূমিকা। ধারণা করা হচ্ছিল, আফিফ দ্বিতীয় ম্যাচে বাদ পড়লে তার পজিশনে সুযোগ পাবেন মাহিদুল ইসলাম।

তবে এখানেও প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে আফিফকে বাদ দিয়ে সুযোগ দেওয়া হয় সৌম্য সরকারকে, যিনি আবার ব্যাট করেন তিনে। ফলে নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়কে নেমে যেতে হয় একধাপ করে নিচে।

অন্যদিকে এই ম্যাচটি চলাকালীন জাতীয় দলের অনুশীলনের জার্সিতে মিরপুরের একাডেমি মাঠে হাজির হন মোসাদ্দেক। বিসিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বলা হলেও জোর গুঞ্জন ছিল, তৃতীয় ম্যাচের স্কোয়াডে ফিরছেন তিনি। তারই অংশ হিসেবে সিলেট থেকে ঢাকায় ফিরে তিনি নেমে পড়েন সাদা বলের অনুশীলনে। নেটে পেস-স্পিন যেভাবে সামলাচ্ছিলেন, তাতে ছিল ইতিবাচকতার ছাপ।

তবে কে জানত, সাদা বলে অনুশীলনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মোসাদ্দেককে নেমে যেতে হবে বিসিএলে লাল বলের ক্রিকেটে! নানা ঘটনার মোড়ে শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে। আফিফের জায়গায় খেলা সৌম্য রান না পেলেও বাংলাদেশ পায় ৬ উইকেটের সহজ জয়। আর তাই শেষ ওয়ানডের বিবেচনা থেকে রাতারাতি বাদ পড়ে যান মোসাদ্দেক।

চার দিনের ম্যাচের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে মাঝে ওয়ানডে দলের কাছাকাছি গিয়ে বাদ পড়া, একজন ক্রিকেটারের জন্য মানিয়ে নেওয়া মোটেও সহজ নয়। ক্রিকেট খেলাটা যে কেবল ব্যাট-বলের নয়, মনস্তাত্ত্বিকও বটে। মোসাদ্দেক অবশ্য পেশাদারিত্বের মাপকাঠিতে দেখছেন বিষয়টি। চরচাকে তিনি বলেন, “আমার কাজ খেলা। সেটা জাতীয় দলে হোক বা ঘরোয়া ক্রিকেট। আমি সবসময় নিজেকে সেভাবেই প্রস্তুত রাখার চেষ্টা করি। ভাগ্যে থাকলে আবার জাতীয় দলে ফিরব।”

দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, দ্বিতীয় ম্যাচের ফলাফলের সঙ্গে মোসাদ্দেককে বিবেচনা না করার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে তিনি ভালোভাবেই ভবিষ্যতে তাদের রাডারে থাকবেন।

মোসাদ্দেককে নির্বাচকরা কতটা তাদের নজরে রাখবেন, সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে যে প্রক্রিয়ায় তাকে জাতীয় দলে ফেরানোর আশ্বাসে উড়িয়ে এনে আবার ফেরত পাঠানো হলো, সেটা খুব ভালো উদাহরণ তৈরি করেনি হাবিবুল বাশারের নির্বাচক প্যানেলের জন্য।

সম্পর্কিত