Advertisement Banner

ই-সিগারেট নিষিদ্ধের ধারা বাতিলের প্রতিবাদ

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
ই-সিগারেট নিষিদ্ধের ধারা বাতিলের প্রতিবাদ
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল ২০২৬’-এ ই-সিগারেট, ভ্যাপ এবং নিকোটিন পাউচের মতো ক্ষতিকর পণ্য নিষিদ্ধের বিধান বাতিল করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় তামাক বিরোধী ও জনস্বাস্থ্য রক্ষাকারী সংগঠনগুলো।

আজ এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ জানিয়েছেন তারা। তারা মনে করছেন, এই আইনি পরিবর্তনের ফলে তামাকজাত পণ্য বাজারে অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়বে, যা তরুণ প্রজন্মকে এক ভয়াবহ ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেবে।

সংসদ অধিবেশনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, প্রধানত রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিধানটি বাতিল করা হয়েছে। তবে তামাক বিরোধী সংগঠনগুলোর মতে, এটি একটি ‘রোগের অর্থনীতি’কে উৎসাহিত করার শামিল। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে তামাকজনিত ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ৮৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা তামাক খাত থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের তুলনায় অনেক বেশি।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ১ মার্চ মহামান্য আপিল বিভাগ (সিভিল আপিল নং ২০৪-২০৫/২০০১) এক রায়ে বাংলাদেশে তামাকের ব্যবহার হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। বর্তমান সিদ্ধান্তটি আদালতের সেই ঐতিহাসিক রায়ের সরাসরি পরিপন্থী। এর আগে ২০০৫ সালে তৎকালীন সরকারের নেওয়া তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হলেও বর্তমান সংশোধনী সেই অগ্রগতিকে ম্লান করে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ‘ইন্সটিটিউট ফর গ্লোবাল টোব্যাকো কন্ট্রোল’ (IGTC)-এর তথ্যমতে, বিশ্বের ৪৬টি দেশ ইতিমধ্যে ই-সিগারেট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। বাংলাদেশে এর বৈধতা কেবল স্বাস্থ্য ঝুঁকিই বাড়াবে না, বরং মাদকের বিস্তারকেও সহজতর করবে। সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, ভ্যাপ লিকুইডে ‘এমডিএমবি’ নামক বিপজ্জনক মাদক মেশানো হচ্ছে, যা অপরাধ জগতে ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ নামে পরিচিত। ই-সিগারেট উন্মুক্ত থাকলে এই মরণঘাতী মাদক যুবসমাজের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, মাত্র ৬১ কোটি টাকার বিনিয়োগের বিপরীতে একটি বহুজাতিক কোম্পানিকে দেশে নিকোটিন পাউচ উৎপাদনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেখানে বিশ্বজুড়ে এসব পণ্য নিষিদ্ধ হচ্ছে, সেখানে দেশে এর উৎপাদনের অনুমোদন দেওয়া জনস্বার্থের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

সম্মিলিতভাবে বিবৃতিটি প্রদান করেছে–

বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা), বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল এডভোকেটস (বিটিসিএ), বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি), বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল রিসার্চ নেটওয়ার্ক (বিটিসিআরএন), বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি, এইড সোস্যাইটি, আর্থ ফাউন্ডেশন, সেতু, লিডার্স ইন টোব্যাকো কন্ট্রোল এলামনাই এসোসিয়েশন, লেটথ ওয়ার্ক, প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠন, পাবলিক হেলথ ল’ইয়ার্স নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্য আন্দোলন, তামাক বিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ), ইউনাইটেড ফোরাম এগেইনস্ট টোব্যাকো, স্কুল অব লাইফ, ইয়ুথ ফর টোব্যাকো ফ্রি বাংলাদেশ।

সম্পর্কিত