চরচা ডেস্ক

আগামী বছরের ১ জানুয়ারি জাতিসংঘের দশম মহাসচিব পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব নেবেন। আর সেসবের আনুষ্ঠানিকতা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ১৯৩ সদস্যবিশিষ্ট সাধারণ পরিষদের সভাপতি আনালিনা বেয়ারবক গত বুধবার দেশগুলোকে আগামী ১ এপ্রিলের মধ্যে প্রার্থীদের নাম মনোনীত করার আহ্বান জানিয়েছেন। এর ফলে, প্রার্থীরা এ বছর ২০ এপ্রিলের দিকে আয়োজিত সরাসরি আলোচনা সভায় অংশ নিতে পারবেন, যা অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
এই সভাগুলোতে প্রার্থীরা তাদের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারবেন এবং জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো তাদের প্রশ্ন করার সুযোগ পাবে।
গত ২৫ নভেম্বর জাতিসংঘের ১৫ সদস্যবিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি এবং ১৯৩ সদস্যবিশিষ্ট সাধারণ পরিষদের সভাপতি একটি যৌথ পত্রের মাধ্যমে প্রার্থী মনোনয়নের আহ্বান জানানো হয়। আর এর মধ্য দিয়েই এই নির্বাচনী লড়াই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
নিয়ম অনুযায়ী, একজন প্রার্থীকে অবশ্যই জাতিসংঘের কোনো একটি সদস্য রাষ্ট্র কর্তৃক মনোনীত হতে হবে। ঐতিহ্যগতভাবে জাতিসংঘের মহাসচিবের পদের জন্য নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে ঘুরতে থাকে। বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পর্তুগালের নাগরিক। তিনি যখন ২০১৬ সালে নির্বাচিত হন, তখন নিয়ম অনুযায়ী পূর্ব ইউরোপের কারো সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল। সেই পর্যায়ক্রম অনুযায়ী এবার তালিকার শীর্ষে রয়েছে ল্যাটিন আমেরিকা। তবে অনেক কূটনীতিক মনে করছেন, অন্য অঞ্চল থেকেও প্রার্থীরা এই লড়াইয়ে অংশ নিতে পারেন।
পরবর্তী মহাসচিব হতে আগ্রহী কারা?
এখন পর্যন্ত এই পদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে একজনের নাম মনোনীত করা হয়েছে। আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি। গত ৩ সেপ্টেম্বর রয়টার্সের এক প্রশ্নের জবাবে গ্রোসি নিশ্চিত করেন যে তিনি এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর্জেন্টিনার এই অভিজ্ঞ কূটনীতিক ২০১৯ সাল থেকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর্জেন্টিনা গত ২৬ নভেম্বর ২০২৫-এ আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম প্রস্তাব করেছে।

এ ছাড়াও বেশ কয়েকজন প্রার্থী প্রকাশ্যে তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন, তবে এখনো তাদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করা হয়নি। তাদের মধ্যে রয়েছেন-
মিশেল বাশেল (চিলি)- চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক গত ২৩ সেপ্টেম্বর জানান যে, তার দেশ সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল বাশেলেকে মনোনীত করবে। বাশেলে ছিলেন চিলির প্রথম নারী রাষ্ট্রপ্রধান এবং তিনি দুই মেয়াদে দেশটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এবং ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ‘ইউএন উইমেন’-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রেবেকা গ্রিনস্প্যান (কোস্টারিকা)- কোস্টারিকার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো চাভেস গত ৮ অক্টোবর জানান, তারা দেশটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যানকে মনোনীত করবেন। একজন রাজনীতিবিদ এবং অর্থনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত গ্রিনস্প্যান বর্তমানে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্বাচন প্রক্রিয়া
জাতিসংঘের দশম মহাসচিব নির্বাচনের লক্ষ্যে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদ এই বছরের শেষ নাগাদ ১৯৩ সদস্যবিশিষ্ট সাধারণ পরিষদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে একজন প্রার্থীর নাম সুপারিশ করবে।
নিরাপত্তা পরিষদ একটি গোপন ভোটের আয়োজন করবে এবং যতক্ষণ না কোনো প্রার্থীর বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়, ততক্ষণ এটি চলতে থাকবে। এই ভোটে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের প্রতিটি প্রার্থীর বিপরীতে তিনটি বিকল্প দেওয়া হয়: ‘উৎসাহিত করা’ ‘নিরুৎসাহিত করা’ অথবা ‘মতামত নেই’ ।
চূড়ান্তভাবে, ভেটো ক্ষমতা সম্পন্ন পাঁচ স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ব্রিটেন, চীন এবং ফ্রান্সকে অবশ্যই কোনো একজন প্রার্থীর বিষয়ে একমত হতে হয়।
প্রথা অনুযায়ী, ভেটো ক্ষমতার অধিকারী দেশগুলোর ব্যালট পেপারের রং বাকি ১০টি নির্বাচিত সদস্য দেশের ব্যালট থেকে আলাদা হয়। ২০১৬ সালে গুতেরেসকে যখন সাধারণ পরিষদের কাছে সুপারিশ করা হয়েছিল, তখন নিরাপত্তা পরিষদের ঐকমত্যে পৌঁছাতে ছয়টি স্ট্র পোলের প্রয়োজন হয়েছিল।
এরপর নিরাপত্তা পরিষদ প্রথাগতভাবে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে প্রস্তাব গ্রহণ করে এবং সাধারণ পরিষদের কাছে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাঠায়। এই প্রস্তাবটি পাসের জন্য কমপক্ষে ৯টি ইতিবাচক ভোটের প্রয়োজন হয় এবং কোনো স্থায়ী সদস্য দেশ এতে ভেটো দিতে পারবে না।
মহাসচিব নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ পরিষদের অনুমোদন দীর্ঘদিন ধরেই কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখা হয়।
নির্বাচন প্রক্রিয়াটি কতটা স্বচ্ছ?
ঐতিহাসিকভাবে ‘অস্বচ্ছ’ পরিচিত এই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে জাতিসংঘ।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গৃহীত এক প্রস্তাবে সাধারণ পরিষদ উল্লেখ করেছে যে, প্রতিটি প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত হওয়ার সময় একটি ‘ভিশন স্টেটমেন্ট’ বা লক্ষ্যপত্র প্রদান করতে হবে এবং তা উপস্থাপনের সুযোগ দিতে হবে। এই লক্ষ্যপত্রটি জাতিসংঘের একটি নির্দিষ্ট ওয়েব পেজেও প্রকাশ করতে হবে।

পরিষদ আরও জানিয়েছে, প্রতিটি প্রার্থীকে তাদের অর্থায়নের উৎস প্রকাশ করতে হবে। এ ছাড়াও, যেসব প্রার্থী বর্তমানে জাতিসংঘের কোনো পদে আসীন রয়েছেন, তারা যেন নির্বাচনী প্রচারণার সময় তাদের কাজ স্থগিত রাখার বিষয়টি বিবেচনা করেন, যাতে তাদের বর্তমান পদের প্রভাব বা আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা থেকে কোনো ধরনের কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট তৈরি না হয়।
মহাসচিবের কাজ কী?
জাতিসংঘের সনদ অনুসারে মহাসচিব এই সংস্থার প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা। জাতিসংঘের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই পদটিকে একাধারে একজন কূটনীতিক ও মুখপাত্র এবং একজন সরকারি চাকুরিজীবী ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সমন্বয় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
বর্তমানে গুতেরেস হাজার হাজার বেসামরিক কর্মী এবং ১১টি শান্তিরক্ষা কার্যক্রম তদারকি করছেন। জাতিসংঘের মূল বার্ষিক বাজেট ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলার এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের জন্য বাজেট ৫.৪ বিলিয়ন ডলার।
যেহেতু সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমতি বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা কেবলমাত্র নিরাপত্তা পরিষদের হাতে ন্যস্ত, তাই জাতিসংঘ প্রধানের হাতে নিজের মতামত তুলে ধরা ছাড়া আর তেমনি কিছু করার থাকে না। অনেক কূটনীতিকই বলে থাকেন যে, নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাধারী পাঁচটি দেশ একজন জেনারেলের চেয়ে একজন সেক্রেটারি বা সচিবকেই বেশি পছন্দ করে।
কোনো নারী কি জাতিসংঘের মহাসচিব হয়েছেন?
না। জাতিসংঘের ৮০ বছরের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো নারী মহাসচিব নির্বাচিত হননি। বর্তমান সংস্থাটির শীর্ষ এই পদে প্রথম কোনো নারীকে দেখার জন্য বিশ্বজুড়ে জোরালো দাবি উঠছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গৃহীত এক প্রস্তাবে সাধারণ পরিষদ অত্যন্ত পরিতাপের সাথে উল্লেখ করেছে যে, এখন পর্যন্ত কোনো নারী মহাসচিব পদে আসীন হননি। একই সাথে সদস্য দেশগুলোকে পরবর্তী নির্বাচনের জন্য যোগ্য নারী প্রার্থীদের নাম জোরালোভাবে বিবেচনা করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে।

আগামী বছরের ১ জানুয়ারি জাতিসংঘের দশম মহাসচিব পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব নেবেন। আর সেসবের আনুষ্ঠানিকতা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ১৯৩ সদস্যবিশিষ্ট সাধারণ পরিষদের সভাপতি আনালিনা বেয়ারবক গত বুধবার দেশগুলোকে আগামী ১ এপ্রিলের মধ্যে প্রার্থীদের নাম মনোনীত করার আহ্বান জানিয়েছেন। এর ফলে, প্রার্থীরা এ বছর ২০ এপ্রিলের দিকে আয়োজিত সরাসরি আলোচনা সভায় অংশ নিতে পারবেন, যা অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
এই সভাগুলোতে প্রার্থীরা তাদের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারবেন এবং জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো তাদের প্রশ্ন করার সুযোগ পাবে।
গত ২৫ নভেম্বর জাতিসংঘের ১৫ সদস্যবিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি এবং ১৯৩ সদস্যবিশিষ্ট সাধারণ পরিষদের সভাপতি একটি যৌথ পত্রের মাধ্যমে প্রার্থী মনোনয়নের আহ্বান জানানো হয়। আর এর মধ্য দিয়েই এই নির্বাচনী লড়াই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
নিয়ম অনুযায়ী, একজন প্রার্থীকে অবশ্যই জাতিসংঘের কোনো একটি সদস্য রাষ্ট্র কর্তৃক মনোনীত হতে হবে। ঐতিহ্যগতভাবে জাতিসংঘের মহাসচিবের পদের জন্য নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে ঘুরতে থাকে। বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পর্তুগালের নাগরিক। তিনি যখন ২০১৬ সালে নির্বাচিত হন, তখন নিয়ম অনুযায়ী পূর্ব ইউরোপের কারো সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল। সেই পর্যায়ক্রম অনুযায়ী এবার তালিকার শীর্ষে রয়েছে ল্যাটিন আমেরিকা। তবে অনেক কূটনীতিক মনে করছেন, অন্য অঞ্চল থেকেও প্রার্থীরা এই লড়াইয়ে অংশ নিতে পারেন।
পরবর্তী মহাসচিব হতে আগ্রহী কারা?
এখন পর্যন্ত এই পদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে একজনের নাম মনোনীত করা হয়েছে। আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি। গত ৩ সেপ্টেম্বর রয়টার্সের এক প্রশ্নের জবাবে গ্রোসি নিশ্চিত করেন যে তিনি এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর্জেন্টিনার এই অভিজ্ঞ কূটনীতিক ২০১৯ সাল থেকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর্জেন্টিনা গত ২৬ নভেম্বর ২০২৫-এ আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম প্রস্তাব করেছে।

এ ছাড়াও বেশ কয়েকজন প্রার্থী প্রকাশ্যে তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন, তবে এখনো তাদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করা হয়নি। তাদের মধ্যে রয়েছেন-
মিশেল বাশেল (চিলি)- চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক গত ২৩ সেপ্টেম্বর জানান যে, তার দেশ সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল বাশেলেকে মনোনীত করবে। বাশেলে ছিলেন চিলির প্রথম নারী রাষ্ট্রপ্রধান এবং তিনি দুই মেয়াদে দেশটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এবং ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ‘ইউএন উইমেন’-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রেবেকা গ্রিনস্প্যান (কোস্টারিকা)- কোস্টারিকার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো চাভেস গত ৮ অক্টোবর জানান, তারা দেশটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যানকে মনোনীত করবেন। একজন রাজনীতিবিদ এবং অর্থনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত গ্রিনস্প্যান বর্তমানে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্বাচন প্রক্রিয়া
জাতিসংঘের দশম মহাসচিব নির্বাচনের লক্ষ্যে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদ এই বছরের শেষ নাগাদ ১৯৩ সদস্যবিশিষ্ট সাধারণ পরিষদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে একজন প্রার্থীর নাম সুপারিশ করবে।
নিরাপত্তা পরিষদ একটি গোপন ভোটের আয়োজন করবে এবং যতক্ষণ না কোনো প্রার্থীর বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়, ততক্ষণ এটি চলতে থাকবে। এই ভোটে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের প্রতিটি প্রার্থীর বিপরীতে তিনটি বিকল্প দেওয়া হয়: ‘উৎসাহিত করা’ ‘নিরুৎসাহিত করা’ অথবা ‘মতামত নেই’ ।
চূড়ান্তভাবে, ভেটো ক্ষমতা সম্পন্ন পাঁচ স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ব্রিটেন, চীন এবং ফ্রান্সকে অবশ্যই কোনো একজন প্রার্থীর বিষয়ে একমত হতে হয়।
প্রথা অনুযায়ী, ভেটো ক্ষমতার অধিকারী দেশগুলোর ব্যালট পেপারের রং বাকি ১০টি নির্বাচিত সদস্য দেশের ব্যালট থেকে আলাদা হয়। ২০১৬ সালে গুতেরেসকে যখন সাধারণ পরিষদের কাছে সুপারিশ করা হয়েছিল, তখন নিরাপত্তা পরিষদের ঐকমত্যে পৌঁছাতে ছয়টি স্ট্র পোলের প্রয়োজন হয়েছিল।
এরপর নিরাপত্তা পরিষদ প্রথাগতভাবে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে প্রস্তাব গ্রহণ করে এবং সাধারণ পরিষদের কাছে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাঠায়। এই প্রস্তাবটি পাসের জন্য কমপক্ষে ৯টি ইতিবাচক ভোটের প্রয়োজন হয় এবং কোনো স্থায়ী সদস্য দেশ এতে ভেটো দিতে পারবে না।
মহাসচিব নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ পরিষদের অনুমোদন দীর্ঘদিন ধরেই কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখা হয়।
নির্বাচন প্রক্রিয়াটি কতটা স্বচ্ছ?
ঐতিহাসিকভাবে ‘অস্বচ্ছ’ পরিচিত এই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে জাতিসংঘ।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গৃহীত এক প্রস্তাবে সাধারণ পরিষদ উল্লেখ করেছে যে, প্রতিটি প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত হওয়ার সময় একটি ‘ভিশন স্টেটমেন্ট’ বা লক্ষ্যপত্র প্রদান করতে হবে এবং তা উপস্থাপনের সুযোগ দিতে হবে। এই লক্ষ্যপত্রটি জাতিসংঘের একটি নির্দিষ্ট ওয়েব পেজেও প্রকাশ করতে হবে।

পরিষদ আরও জানিয়েছে, প্রতিটি প্রার্থীকে তাদের অর্থায়নের উৎস প্রকাশ করতে হবে। এ ছাড়াও, যেসব প্রার্থী বর্তমানে জাতিসংঘের কোনো পদে আসীন রয়েছেন, তারা যেন নির্বাচনী প্রচারণার সময় তাদের কাজ স্থগিত রাখার বিষয়টি বিবেচনা করেন, যাতে তাদের বর্তমান পদের প্রভাব বা আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা থেকে কোনো ধরনের কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট তৈরি না হয়।
মহাসচিবের কাজ কী?
জাতিসংঘের সনদ অনুসারে মহাসচিব এই সংস্থার প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা। জাতিসংঘের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই পদটিকে একাধারে একজন কূটনীতিক ও মুখপাত্র এবং একজন সরকারি চাকুরিজীবী ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সমন্বয় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
বর্তমানে গুতেরেস হাজার হাজার বেসামরিক কর্মী এবং ১১টি শান্তিরক্ষা কার্যক্রম তদারকি করছেন। জাতিসংঘের মূল বার্ষিক বাজেট ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলার এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের জন্য বাজেট ৫.৪ বিলিয়ন ডলার।
যেহেতু সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমতি বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা কেবলমাত্র নিরাপত্তা পরিষদের হাতে ন্যস্ত, তাই জাতিসংঘ প্রধানের হাতে নিজের মতামত তুলে ধরা ছাড়া আর তেমনি কিছু করার থাকে না। অনেক কূটনীতিকই বলে থাকেন যে, নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাধারী পাঁচটি দেশ একজন জেনারেলের চেয়ে একজন সেক্রেটারি বা সচিবকেই বেশি পছন্দ করে।
কোনো নারী কি জাতিসংঘের মহাসচিব হয়েছেন?
না। জাতিসংঘের ৮০ বছরের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো নারী মহাসচিব নির্বাচিত হননি। বর্তমান সংস্থাটির শীর্ষ এই পদে প্রথম কোনো নারীকে দেখার জন্য বিশ্বজুড়ে জোরালো দাবি উঠছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গৃহীত এক প্রস্তাবে সাধারণ পরিষদ অত্যন্ত পরিতাপের সাথে উল্লেখ করেছে যে, এখন পর্যন্ত কোনো নারী মহাসচিব পদে আসীন হননি। একই সাথে সদস্য দেশগুলোকে পরবর্তী নির্বাচনের জন্য যোগ্য নারী প্রার্থীদের নাম জোরালোভাবে বিবেচনা করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে।