Advertisement Banner

কী ঘটছে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে?

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
কী ঘটছে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে?
ছবি: এআই দিয়ে বানানো

দীর্ঘদিনের বৈরি সম্পর্ক কাটিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির দিকে এগোচ্ছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে এই আলোচনা চলছে। তবে চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার আগেই শর্ত ফাঁসের অভিযোগ, ট্রাম্পের অসন্তোষ এবং ইসরায়েলের কঠোর অবস্থানের কারণে পুরো বিষয়টি বেশ জটিল রূপ নিয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তার মতে, দুই দেশ চুক্তির যতটা কাছাকাছি এখন এসেছে, ইতিহাসে তা কখনো হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন, একটি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং যুদ্ধের অবসান ঘটেছে। এমনকি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইতিবাচক পোস্টটি ট্রাম্প তার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ শেয়ারও করেছেন।

চুক্তিটি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয় যখন ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এর বিস্তারিত তথ্য ফাঁস করে দেয়। ইরানের দাবি, এই চুক্তিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘‘ইরান মিডিয়ার কাছে যে শর্তগুলো ফাঁস করেছে, তার সাথে লিখিতভাবে হওয়া চুক্তির কোনো মিল নেই।’’

তিনি ইরানের নেতাদের দ্রুত নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার বা শুধরে যাওয়ার জন্য কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

এই পুরো শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ নিশ্চিত করেছেন যে, শান্তি চুক্তির একটি চূড়ান্ত এবং সর্বসম্মত খসড়া তৈরি হয়েছে। এখন শুধু পরবর্তী আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপগুলো বাকি।

সবচেয়ে বড় আপত্তি এসেছে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই আলোচনায় ইসরায়েল অংশ নেয়নি। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই চুক্তিতে কী আছে না আছে তা নিয়ে তারা ভাবছেন না—ইসরায়েল কোনোভাবেই লেবানন, সিরিয়া বা গাজা থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করবে না।

ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ত্রিপাক্ষিক উত্তেজনা দীর্ঘদিনের। ১৯৭৯-এর ইসলামী বিপ্লব, নিউক্লিয়ার কর্মসূচি, ইরানের প্রক্সি মিলিশিয়া (হিজবুল্লাহ, হুতি) এবং ইসরায়েলের সাথে ছায়াযুদ্ধ এর মূল কারণ। ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের আঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত হস্তক্ষেপের পর চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু হয়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ নেতৃত্ব নিহত হয়।

ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে তেল সংকট তৈরি করে। যুদ্ধ আঞ্চলিকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি হলেও জুনে লেবানন-সংক্রান্ত হামলায় আবার উত্তেজনা বেড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন শান্তি চুক্তির চেষ্টা করছে, কিন্তু নিউক্লিয়ার ইস্যু, আঞ্চলিক আধিপত্য ও প্রতিশোধস্পৃহা যুদ্ধকে জটিল করে তুলেছে।

কাগজে-কলমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি বড় চুক্তির দ্বারপ্রান্তে থাকলেও, মাঠের সমীকরণ এখনো বেশ কঠিন। একদিকে শর্তের ভিন্নতা নিয়ে ট্রাম্পের অসন্তোষ, অন্যদিকে লেবানন-গাজা নিয়ে ইসরায়েলের অনড় অবস্থান—সব মিলিয়ে এই শান্তি চুক্তি আসলেই কতটা স্থায়ী রূপ পাবে, তা এখনো দেখার বিষয়।

সম্পর্কিত