Advertisement Banner

বাংলাদেশের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের এমন দল কেন

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
বাংলাদেশের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের এমন দল কেন
খেলোয়াড়। ছবি: বিসিবি

নিউজিল্যান্ড দলের বাংলাদেশ সফরের সময় যখন নির্ধারিত হয়েছিল, তখনই আগ্রহ তৈরি হয়েছিল নিউজিল্যান্ড দলটির চেহারা কেমন হবে তা নিয়ে। কারণ, এ মাসেই তারা বাংলাদেশে আসবে সাদা বলের সিরিজ খেলতে। কিউইরা যখন বাংলাদেশ সফর করবে, তখন আইপিএল আর পিএসএল চলবে পুরোদমেই। তাই নিউজিল্যান্ডের তারকা খেলোয়াড়দের অনেকেই যে বাংলাদেশ সিরিজে থাকবেন না, এটা একরকম নিশ্চিতই ছিল। এরপরও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড যে দুটি স্কোয়াড দিয়েছে, তা বাংলাদেশের ক্রিকেট মহলে কিছুটা প্রতিক্রিয়ারই জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটি গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে না নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। তাই তারা পাঠাচ্ছে তৃতীয় সারির দল।

তবে বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। প্রথমত ‘আইপিএল উইন্ডো’ নামে ক্রিকেটে এখন অলিখিত যে সূচি আছে, সেখানে টেস্ট খেলা দেশগুলো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ প্রায় খেলেই না। ব্যতিক্রম হিসেবে দুটি দেশ এই সময়ে নিয়মিত খেলে আসছিল, তারা হল বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান। তবে গত বছর থেকে পাকিস্তানও ‘আইপিএল উইন্ডো’তেই পিএসএল আয়োজন করায় তারাও দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলছে না। বাংলাদেশই যেহেতু এই সময় খেলছে, তাই বিসিবির পক্ষে প্রতিপক্ষের সংখ্যা খুবই সীমিত।

অন্যদিকে আইসিসির এফটিপির বাইরে গিয়ে বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে চাইলে প্রতিপক্ষ হিসেবে জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড বা সহযোগী দেশের বাইরে যাওয়া বেশ কঠিন। এফটিপি অনুযায়ী যেহেতু এপ্রিলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠের এই সিরিজ আগেই নির্ধারিত ছিল, তাই নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের নীতি মেনে নেওয়া ছাড়া বিকল্প ছিল না বাংলাদেশের সামনে।

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের এই নীতিটা কি? আর্থিক দিক থেকে বেশ পিছিয়ে থাকা বোর্ড হওয়ায় তারা কেন্দ্রীয় চুক্তিটা সাজায় এমনভাবে, যেখানে ক্রিকেটারদের উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় নির্দিষ্ট সিরিজ খেলার জন্য। মূলত শীর্ষ ক্রিকেটারদের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার সুযোগ করে দিতেই তাদের এমন সিদ্ধান্ত। এই কারণেই নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা এখনও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মত ‘ফ্রিল্যান্সার’ হয়ে যাননি।

নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়। ছবি: বিসিবি
নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়। ছবি: বিসিবি

এটি নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের এক ধরনের দূরদর্শিতাও। খুবই ছোট একটি দেশ হওয়ায় ক্রিকেট প্রতিভার বিকাশের জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করতে হয় তাদের। ব্যাপারটি মাথায় রেখেই প্রায়ই দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোতে নিউজিল্যান্ডের নির্বাচকেরা দলে একেবারে নতুন কিছু খেলোয়াড়কে দলে নেন। এর মধ্য দিয়ে তারকা ক্রিকেটারদের বিশ্রামও দেওয়া যায়, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও সুযোগ করে দেওয়া যায়, আবার নতুনদেরও বাজিয়ে দেখা যায়। এমন করেই অনেক নতুন খেলোয়াড় নিজেদের প্রমাণ করে ফেলেন। রাচিন রবীন্দ্র এর একটা বড় উদাহরণ।

২০২১ সালে বাংলাদেশ সফরের দলে তাকে দেখে অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। পাঁচ বছর পর এখন তিনি নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের অন্যতম বড় বিজ্ঞাপন। এভাবেই দেশটি তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরি করছে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে অবশ্য এখনও এমন সংস্কৃতি নেই। জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ডের মত দলের বিপক্ষেও বাংলাদেশ দল খেলেছে তারকায় ঠাসা দল নিয়ে। অনায়াসেই যে সিরিজগুলোতে তরুণ ও নতুনদের সুযোগ দেওয়া যেত, সেখানেও দেখা গেছে সব বড় বড় নাম। আর এই কারণেই সাকিব, তামিম, মাশরাফি, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ পরবর্তী যুগে বাংলাদেশ দলকে যেতে হচ্ছে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের এই সময় নিউজিল্যান্ড তাদের সব সেরা খেলোয়াড়দের আইপিএল এবং পিএসএলের জন্য ছেড়ে দিয়েছে। এর মধ্য দেশটির শীর্ষ ক্রিকেটাররা একদিকে খেলার মধ্যে থাকবেন, অন্যদিকে অনভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা পাবেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ।

নতুন ক্রিকেটারদের পাঠিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটিকে নিউজিল্যান্ড গুরুত্ব দিচ্ছে না এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। বরং বাংলাদেশের উচিত হবে দুই সংস্করণেই সেরা ক্রিকেট খেলে সিরিজ জেতাটা নিশ্চিত করা। তবে এর মধ্যেই টি–টোয়েন্টি সিরিজে যদি নির্বাচকেরা নতুন ও সম্ভাবনাময় কোনো ক্রিকেটারকে সুযোগ করে দেয়, তাহলে তা হতে পারে এ দেশের ক্রিকেটের জন্য নেওয়া দারুণ এক পদক্ষেপ। তবে সে পথে হাঁটার সম্ভাবনা যে আপাতত কম, সেটা বলে দেওয়াই যায়।

সম্পর্কিত