সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও তার পরম বন্ধু ইসরায়েল দিনভর আলোচনা করে আসছে। আলোচনা আরো চলবে এই প্রত্যাশায় সবাই রাত্রি যাপনে গেল। অকস্মাৎ ভোরে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর বাহিনী ভয়াবহ ভাবে ইরানের উপর হামলা চালাতে শুরু করল। কারণ তারা বুঝেছিল যে ইরান আক্রমণ চালাবে। এই স্বপ্ন রাতে কে দেখেছিল ট্রাম্প না নেতানিয়াহু, প্রকৃত কারণ জানা গেল না।
সেই যে পুরাতন কথা Truth is the first casualty of a war, দ্বিতীয়বার নির্বাচনের পর পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশের প্রেসিডেন্ট বিশ্বশান্তি, ক্ষুধা ও দারিদ্র অপসারনের কথা একবারও বলেননি। তার যুদ্ধ উন্মাদনা মধ্যযুগের যুদ্ধপ্রিয় ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে গেছে। মার্কিন নাগরিকদের জন্য এর চেয়ে লজ্জার আর কি হতে পারে! মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ট মিত্র কানাডাকে গ্রাস করার ইচ্ছে পোষণ করেছিলেন ট্রাম্প। অবস্থাদৃষ্টে এটা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান যে ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কার্যপরিচালনার যোগ্যতা আর নেই।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫ নম্বর সংশোধনীর ৪ অনুচ্ছেদে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অত্যন্ত পরিষ্কার ভাষায় পদক্ষেপটি বর্ণিত হয়েছে। কোনো জটিলতা নেই। প্রয়োজন হলো আন্তরিকতা এবং উপলব্ধির। বিধানটি এরূপ যে যখনই ভাইস প্রেসিডেন্ট, অধিক সংখ্যক উচ্চপদস্থ নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কংগ্রেস কর্তৃক ক্ষমতা প্রাপ্ত ব্যক্তি এই মর্মে সিনেটের প্রেসিডেন্ট এবং হাউজের স্পিকারকে প্রেসিডেন্টের কর্মদক্ষতার অভাব সম্পর্কে অবহিত করবেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এরপর পরবর্তী বর্ণিত ব্যবস্থা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুধু সম্পদ এবং সামরিক শক্তি নয়, জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চায় বিশ্বের শীর্ষে। প্রচুর উন্নত মানের বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এখানে জ্ঞানার্জনের জন্য যেয়ে থাকে। আমাদের দেশ থেকেও। কেউ কেউতো আবার জ্ঞানার্জনে মূল দেশকে ছাড়িয়ে যায়। যাকে বলে রোমানদের চেয়েও অধিক রোমান। আমরাতো ওই দেশের তৈরি এক সংবিধান বিশেষজ্ঞ পেলাম যিনি সংবিধানের অভিনব সূত্র আবিষ্কার করেছিলেন। যাহোক যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশও অত্যন্ত শিক্ষিত এবং জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চার কেন্দ্র। এরা সবাই মুক্ত বিশ্বের সদস্য হিসেবে প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব, মানবিক মর্যাদা, মানবাধিকার এসব ব্যাপারে সচেতন। গোটা বিশ্ব গণতন্ত্রের আদর্শ পালিত হচ্ছে কি না তাও এরা পর্যবেক্ষণ করে থাকে। কিন্তু সোভিয়েত বিশ্বের পতনের পর এসব কর্মকাণ্ড যেন গতি হারিযে ফেলে ইরাক বারবার সবিনয়ে জানিয়ে দিল যে তাদের কাছে গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র নেই, দেশের ভেতর প্রবেশ করে দেখবার অনুরোধ করা হল।
এসব উপেক্ষা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ (জুনিয়র) যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে সাথে নিয়ে ইরাককে পরাজিত তথা ধ্বংস করেন এবং ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দামকে ফাঁসি দেওয়া হয়। পরে মৃদু ভাষায় তারা জানান যে, তাদের কাছে ভুল তথ্য ছিল। ক’দিন আগে ট্রাম্প তার দেশের সোনার ছেলেদের ড্রাগের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ভেনিজুয়েলার নির্বাচিত প্রেসিডন্টে এবং তার স্ত্রীকে হাত কড়া পরিয়ে তাদের গৃহ থেকে উঠিয়ে নিউইয়র্কে আনা হয় বিচার করার জন্য। নেতানিয়াহুর পরামর্শ অনুযায়ী ইরাকের সর্বোচ্চ ধর্মীয নেতা এবং আরো ৪০ এর অধিক উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের হত্যা করা হয়। নেতানিয়াহুর আনন্দ মিছিলে ট্রাম্পও ডুগডুগি বাজানোতে অংশ নেন। ইরানের একটি বিদ্যালয়ে ১৮২ জন শিশু বালিকা হত্যা করা হয়। কিন্তু মুক্ত বিশ্বের নেতাদের মুখে তেমন প্রতিবাদের আওয়াজ পাওয়া যায়নি। অথচ ইরানের গলায় যখন ফাঁসির দঁড়ি ঝোলাতে যাচ্ছে ট্রাম্প নেতানিয়াহু, তখন ইরান বাধ্য হয়ে প্রতিরোধ করে এবং যুদ্ধের কৌশল বেছে নেয়। সঙ্গে সঙ্গে জি-সেভেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন রে রে করে ওঠে।
বিজয়ী হওয়ার পর সিনিয়র বুশ কিন্তু এখন সাদ্দামের বিচারের কথা বলেননি, এর রকম অন্যায় অভিযানের জন্য। তার পরিবর্তে ত্রাণকর্তা এবং বন্ধু হিসেবে এলেন সৌদি আরব এবং অন্যান্য গালফ রাষ্ট্রসমূহের কাছে। এসব নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। ধীরে ধীরে আরবের রাষ্ট্রসমূহ পরোক্ষ এবং প্রত্যক্ষভাবে ইসরায়েলের বন্ধু হয়ে গেল। যে কারণে গাজায় যে ধরনের নিপীড়ন, শিশু হত্যা, নারী হত্যা চলল এর নজির ইতিহাসে নেই। কিন্তু সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান, বাহরাইন, আবুধাবি, দুবাই, কাতার কারো কন্ঠ থেকে জোরাল আওয়াজ বেরুলো না। ইসয়েলের একমাত্র শত্রু রইল ইরান। ইরাকে গান উঠেছিল গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্রের। ইরানের বেলায় গান তোলা হল নিউক্লিয়ার শক্তির। ইরান বারবার অস্বীকার করে আসছে। IAEA-এর সংগে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছে ইরান। তাতে মন ভরছে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। এই প্রসঙ্গে কটা কথা মনে পড়ল। ক’দিন আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, আরব নেতারা আল্লাহর চেয়ে ট্রাম্পকে বেশি ভয় করেন। মুসলমান হিসেবে আমরা খুব অপমানিত বোধ করেছি। আরো ক্ষুব্ধ হয়েছি আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করায়। তবে আরবের নেতারা নিজেদের জাতীয় সত্ত্বাকে যেভাবে বিপন্ন করেছে, তাতে অন্য ধর্মাবলম্বী বা নাস্তিকের মুখে এরকম কথা আসলে অবাক হবার কিছু আছে।
আরব রাষ্ট্রসমূহের প্রত্যেকের দুয়ারে সর্বাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত রণতরী ভাসছে। ইরানকে নিয়ে আরব রাষ্ট্রসমূহের মাথা ব্যথার আর একটি কারণ হল শিয়া রাষ্ট্র। ইরান কি ওহাবি বা অন্য সম্প্রদায়ের মুসলিমদের নিয়ে বিরুদ্ধাচারণ করছে? আমি খবরে দেখি যে পাকিস্তানে মসজিদে নামাজ পড়ার সময় শিয়া সম্প্রদায়ের উপর হামলা করে বেশ কজনকে হত্যা করা হয়েছে। পাকিস্তানের জনক জিন্নাহ সাহেব তিনি তৎকালীন উপমহাদেশের রাজনীতিতে আস্থা হারিয়ে বিলাতে চলে গিয়েছিলেন। তাকে অনুরোধ করে ফিরে আনা হয় পাকিস্তান কায়েমের জন্য। তিনি সাফল্য অর্জন করেন। কতটা বেকুব হিংস্র হলে এরকম কাজ করতে পারে। আরব রাষ্ট্রের নেতাদের এই সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও তার পরম বন্ধু ইসরায়েল দিনভর আলোচনা করে আসছে। আলোচনা আরো চলবে এই প্রত্যাশায় সবাই রাত্রি যাপনে গেল। অকস্মাৎ ভোরে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর বাহিনী ভয়াবহ ভাবে ইরানের উপর হামলা চালাতে শুরু করল। কারণ তারা বুঝেছিল যে ইরান আক্রমণ চালাবে। এই স্বপ্ন রাতে কে দেখেছিল ট্রাম্প না নেতানিয়াহু, প্রকৃত কারণ জানা গেল না।
সেই যে পুরাতন কথা Truth is the first casualty of a war, দ্বিতীয়বার নির্বাচনের পর পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশের প্রেসিডেন্ট বিশ্বশান্তি, ক্ষুধা ও দারিদ্র অপসারনের কথা একবারও বলেননি। তার যুদ্ধ উন্মাদনা মধ্যযুগের যুদ্ধপ্রিয় ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে গেছে। মার্কিন নাগরিকদের জন্য এর চেয়ে লজ্জার আর কি হতে পারে! মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ট মিত্র কানাডাকে গ্রাস করার ইচ্ছে পোষণ করেছিলেন ট্রাম্প। অবস্থাদৃষ্টে এটা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান যে ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কার্যপরিচালনার যোগ্যতা আর নেই।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫ নম্বর সংশোধনীর ৪ অনুচ্ছেদে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অত্যন্ত পরিষ্কার ভাষায় পদক্ষেপটি বর্ণিত হয়েছে। কোনো জটিলতা নেই। প্রয়োজন হলো আন্তরিকতা এবং উপলব্ধির। বিধানটি এরূপ যে যখনই ভাইস প্রেসিডেন্ট, অধিক সংখ্যক উচ্চপদস্থ নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কংগ্রেস কর্তৃক ক্ষমতা প্রাপ্ত ব্যক্তি এই মর্মে সিনেটের প্রেসিডেন্ট এবং হাউজের স্পিকারকে প্রেসিডেন্টের কর্মদক্ষতার অভাব সম্পর্কে অবহিত করবেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এরপর পরবর্তী বর্ণিত ব্যবস্থা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুধু সম্পদ এবং সামরিক শক্তি নয়, জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চায় বিশ্বের শীর্ষে। প্রচুর উন্নত মানের বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এখানে জ্ঞানার্জনের জন্য যেয়ে থাকে। আমাদের দেশ থেকেও। কেউ কেউতো আবার জ্ঞানার্জনে মূল দেশকে ছাড়িয়ে যায়। যাকে বলে রোমানদের চেয়েও অধিক রোমান। আমরাতো ওই দেশের তৈরি এক সংবিধান বিশেষজ্ঞ পেলাম যিনি সংবিধানের অভিনব সূত্র আবিষ্কার করেছিলেন। যাহোক যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশও অত্যন্ত শিক্ষিত এবং জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চার কেন্দ্র। এরা সবাই মুক্ত বিশ্বের সদস্য হিসেবে প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব, মানবিক মর্যাদা, মানবাধিকার এসব ব্যাপারে সচেতন। গোটা বিশ্ব গণতন্ত্রের আদর্শ পালিত হচ্ছে কি না তাও এরা পর্যবেক্ষণ করে থাকে। কিন্তু সোভিয়েত বিশ্বের পতনের পর এসব কর্মকাণ্ড যেন গতি হারিযে ফেলে ইরাক বারবার সবিনয়ে জানিয়ে দিল যে তাদের কাছে গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র নেই, দেশের ভেতর প্রবেশ করে দেখবার অনুরোধ করা হল।
এসব উপেক্ষা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ (জুনিয়র) যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে সাথে নিয়ে ইরাককে পরাজিত তথা ধ্বংস করেন এবং ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দামকে ফাঁসি দেওয়া হয়। পরে মৃদু ভাষায় তারা জানান যে, তাদের কাছে ভুল তথ্য ছিল। ক’দিন আগে ট্রাম্প তার দেশের সোনার ছেলেদের ড্রাগের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ভেনিজুয়েলার নির্বাচিত প্রেসিডন্টে এবং তার স্ত্রীকে হাত কড়া পরিয়ে তাদের গৃহ থেকে উঠিয়ে নিউইয়র্কে আনা হয় বিচার করার জন্য। নেতানিয়াহুর পরামর্শ অনুযায়ী ইরাকের সর্বোচ্চ ধর্মীয নেতা এবং আরো ৪০ এর অধিক উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের হত্যা করা হয়। নেতানিয়াহুর আনন্দ মিছিলে ট্রাম্পও ডুগডুগি বাজানোতে অংশ নেন। ইরানের একটি বিদ্যালয়ে ১৮২ জন শিশু বালিকা হত্যা করা হয়। কিন্তু মুক্ত বিশ্বের নেতাদের মুখে তেমন প্রতিবাদের আওয়াজ পাওয়া যায়নি। অথচ ইরানের গলায় যখন ফাঁসির দঁড়ি ঝোলাতে যাচ্ছে ট্রাম্প নেতানিয়াহু, তখন ইরান বাধ্য হয়ে প্রতিরোধ করে এবং যুদ্ধের কৌশল বেছে নেয়। সঙ্গে সঙ্গে জি-সেভেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন রে রে করে ওঠে।
বিজয়ী হওয়ার পর সিনিয়র বুশ কিন্তু এখন সাদ্দামের বিচারের কথা বলেননি, এর রকম অন্যায় অভিযানের জন্য। তার পরিবর্তে ত্রাণকর্তা এবং বন্ধু হিসেবে এলেন সৌদি আরব এবং অন্যান্য গালফ রাষ্ট্রসমূহের কাছে। এসব নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। ধীরে ধীরে আরবের রাষ্ট্রসমূহ পরোক্ষ এবং প্রত্যক্ষভাবে ইসরায়েলের বন্ধু হয়ে গেল। যে কারণে গাজায় যে ধরনের নিপীড়ন, শিশু হত্যা, নারী হত্যা চলল এর নজির ইতিহাসে নেই। কিন্তু সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান, বাহরাইন, আবুধাবি, দুবাই, কাতার কারো কন্ঠ থেকে জোরাল আওয়াজ বেরুলো না। ইসয়েলের একমাত্র শত্রু রইল ইরান। ইরাকে গান উঠেছিল গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্রের। ইরানের বেলায় গান তোলা হল নিউক্লিয়ার শক্তির। ইরান বারবার অস্বীকার করে আসছে। IAEA-এর সংগে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছে ইরান। তাতে মন ভরছে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। এই প্রসঙ্গে কটা কথা মনে পড়ল। ক’দিন আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, আরব নেতারা আল্লাহর চেয়ে ট্রাম্পকে বেশি ভয় করেন। মুসলমান হিসেবে আমরা খুব অপমানিত বোধ করেছি। আরো ক্ষুব্ধ হয়েছি আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করায়। তবে আরবের নেতারা নিজেদের জাতীয় সত্ত্বাকে যেভাবে বিপন্ন করেছে, তাতে অন্য ধর্মাবলম্বী বা নাস্তিকের মুখে এরকম কথা আসলে অবাক হবার কিছু আছে।
আরব রাষ্ট্রসমূহের প্রত্যেকের দুয়ারে সর্বাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত রণতরী ভাসছে। ইরানকে নিয়ে আরব রাষ্ট্রসমূহের মাথা ব্যথার আর একটি কারণ হল শিয়া রাষ্ট্র। ইরান কি ওহাবি বা অন্য সম্প্রদায়ের মুসলিমদের নিয়ে বিরুদ্ধাচারণ করছে? আমি খবরে দেখি যে পাকিস্তানে মসজিদে নামাজ পড়ার সময় শিয়া সম্প্রদায়ের উপর হামলা করে বেশ কজনকে হত্যা করা হয়েছে। পাকিস্তানের জনক জিন্নাহ সাহেব তিনি তৎকালীন উপমহাদেশের রাজনীতিতে আস্থা হারিয়ে বিলাতে চলে গিয়েছিলেন। তাকে অনুরোধ করে ফিরে আনা হয় পাকিস্তান কায়েমের জন্য। তিনি সাফল্য অর্জন করেন। কতটা বেকুব হিংস্র হলে এরকম কাজ করতে পারে। আরব রাষ্ট্রের নেতাদের এই সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।