হাসিনা প্রসঙ্গে আইনি পথের কথা বললেন তারেক

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
হাসিনা প্রসঙ্গে আইনি পথের কথা বললেন তারেক
নির্বাচনে বিজয়ের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান। ছবি: বিএনপি

শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরাতে আইনি পথেই চলবেন বলে জানালেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আজ শনিবার নির্বাচন পরবর্তী প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বিদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তারেক রহমান।

বিদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নে গুরুত্ব পায় প্রতিবেশী দেশগুলো বিশেষ করে ভারত, পাকিস্তান এবং চায়নার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন হবে। তারেক রহমান এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী একাধিকবার জবাব দেন, আগে দেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থ এই নীতিতেই সম্পর্ক এগিয়ে যাবে।

তারেক রহমান বলেন, পারষ্পরিক বোঝাপড়া সমুন্নত রেখেই প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ স্বাভাবিক সম্পর্কে বিশ্বাস করেন তিনি।

ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে এবং বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার গঠনের পর কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এমন প্রশ্নও ছিল তারেক রহমানের কাছে। তিনি বলেন, বিচার ব্যবস্থাকে নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে চান। বলেন, আইনের নিজস্ব মেনেই সব হবে।

এক বিদেশি সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল, তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে ২০২৪ সালের আন্দোলনের মুখে দেশে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যুত্থান ঘটে, বিএনপি সেই তরুণদের ভাবনা গুরুত্বের সঙ্গে নেবে কি না? বিএনপির শীর্ষ নেতার জবাব, শুধু তরুণরা নয় সমাজের সব মানুষের ভাবনাকে মূল্যায়ন করা হবে।

মূলত নির্বাচন বিজয় পরবর্তী ধন্যবাদ জ্ঞাপন এবং সরকার গঠনের পর বিএনপির প্রাথমিক করণীয় জানাতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বক্তব্যে তারেক রহমান দেশের মানুষের নিরাপত্তা এবং নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ওপরে গুরুত্ব দেন। দলের নেতাকর্মীদের বার্তা দেন, কেউ যেন কোনো ধরনের উসকানির ফাঁদে পড়ে সহিংসতায় না জড়ান। কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার প্রতিদান দিতে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। শত নির্যাতন নিপীড়নের পরও আপনারা যারা রাজপথ ছাড়েননি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অটুট ছিলেন, তাদের সকলকে বলছি, এবার আমাদের দেশ গড়ার পালা। দেশ গড়তে হলে আমাদের সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচন পরবর্তী কোনো সহিংসতা যেন না ঘটে সেজন্য আমি সারা বাংলাদেশের বিএনপি নেতা কর্মীদের শান্ত থাকার এবং সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমার বক্তব্য স্পষ্ট যেকোনো মূল্যে দেশের শান্তি এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। দল-মত নির্বিশেষে যেকোনো ভাবে আমরা দুর্বলের ওপর কোনো অন্যায় মেনে নেব না। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আইনের শাসন প্রয়োগ না করতে পারলে আমাদের সকল অর্জন ম্লান হয়ে যেতে পারে।”

নির্বাচনের মাঠে লড়তে গিয়ে দলগুলোর নিজেদের মাঝে দূরত্ব এবং ভুল বোঝাবুঝির তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে সেসব দূর করে সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, “একটি নতুন এবং নিরাপদ বাংলাদেশ বিধর্মাণে আমি সকল দলের এবং সহযোগিতা কামনা করছি।”

দেশ বিনির্মাণে বিএনপি নিজেদের ৩১ দফা ঘোষণা করেছিল। একই সঙ্গে কিছু নোট অব ডিসেন্টসহ জুলাই সনদেও সই করে দলটি। তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারকে প্রাধান্য দিয়ে ধারাবাহিকভাবে সকল প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করবে বিএনপি।

সরকার পরিচালনা ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জের কথা মাথায় রেখেছে বিএনপি। যার মধ্য রয়েছে দেশের অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণমুক্ত করা।

সম্পর্কিত