পল্টনে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
পল্টনে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১
মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হারুন-অর-রশিদ। ছবি: চরচা

রাজধানীর পল্টনে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শাহিন আলম নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। আজ রোববার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হারুন-অর-রশিদ এসব কথা জানান।

পারিবারিক বিষয়ে কটাক্ষ, অপমান ও পূর্বের ক্ষোভ থেকে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে পল্টন এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির খণ্ডিত পা উদ্ধার করা হয়। পরদিন সকাল সাড়ে ৯টায় বায়তুল মোকাররম স্টেডিয়ামের পাশ থেকে দুই হাত এবং দুপুরে কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে আরেকটি পা উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজন শাহিকে শনাক্ত করা হয়। গতকাল শনিবার দুপুর ৩টার দিকে মতিঝিলের হীরাঝিল হোটেলের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, পরে তার দেখানো মতে কবি জসীমউদ্দীন রোডের ভাড়া বাসা থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি, ভিকটিমের মোবাইল এবং মরদেহ পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সাইকেল উদ্ধার করা হয়। এরপর রাত ১১টার দিকে মাতুয়াইল ময়লার ভাগাড় থেকে নিহতের খণ্ডিত মাথা এবং আজ রবিবার সকাল সাড়ে ৮টায় সাভারের সালেহপুর ব্রিজের নিচে কোমরের অংশ উদ্ধার করা হয়। এখনও উদ্ধার অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ওবায়দুল্লাহ রাজধানীর একটি হোমিও ক্লিনিকের মার্কেটিং বিভাগে কর্মরত ছিলেন। হবিগঞ্জের শাহিন তিন মাস আগে ঢাকায় এসে গুলিস্তানের একটি হোটেলে চাকরি নেন। পরে বন্ধুর বাসায় ওঠেন এবং শেষ দুই মাস ওবায়দুল্লাহর সঙ্গে থাকতেন।

ঘটনার দিন রাতে সিগারেট ও খাবার নিয়ে তর্কের জেরে উত্তেজনা বাড়ে। রমজানে বারবার নিচে পাঠানো ও উচ্চস্বরে ফোনে কথা বলাকে কেন্দ্র করেও ক্ষোভ তৈরি হয়। এছাড়া পূর্বে দেওয়া অনৈতিক প্রস্তাব নিয়ে মানসিক ক্ষোভ থেকে শাহিন চাপাতি দিয়ে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করেন। পরে শনাক্ত এড়াতে মরদেহ খণ্ড খণ্ড করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানান, পুরো ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

সম্পর্কিত