Advertisement Banner

সাবেক তিন সেনা কর্মকর্তার বিচারে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিতের দাবি এইচআরডব্লিউর

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
সাবেক তিন সেনা কর্মকর্তার বিচারে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিতের দাবি এইচআরডব্লিউর
ছবি: এইচআরডব্লিউর ওয়েবসাইট

সম্প্রতি গ্রেপ্তার সাবেক তিন সেনা কর্মকর্তার বিচারে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। গতকাল বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এ দাবি জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দেশ শাসন করা সেনাসমর্থিত সরকারের সঙ্গে যুক্ত তিন সাবেক সেনাকর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। ওই শাসনামলে শত শত মানুষকে নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং অনেককে হেফাজতে নির্যাতন বা হত্যা করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নতুন সরকার অতীতের এসব অপকর্মের হোতাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে চায়। তবে কর্তৃপক্ষের উচিত যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, সুষ্ঠু বিচার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিশ্চিত করা, যাতে এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক তদন্তে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের সঙ্গে উচ্চপদস্থ সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালে ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে ওই সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী তৎকালীন সরকারের প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের ওপর অসংখ্য মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে, যার মধ্যে পূর্ববর্তী বিএনপি ও সেনাসমর্থিত প্রশাসনগুলোও অন্তর্ভুক্ত।

গত ২৩ মার্চ পুলিশ লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ তার বিরুদ্ধে হত্যা, মানবপাচার এবং পরবর্তীতে বিদেশে কর্মী নিয়োগের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ১১টি অপরাধের মামলা করেছে। ২৬ মার্চ প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মামুন খালেদকে হত্যা ও দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। ৩০ মার্চ আরেক সাবেক গোয়েন্দা প্রধান মোহাম্মদ আফজাল নাসেরকে গ্রেপ্তার করা হয়; তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের বিক্ষোভ দমনে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এই তিনজনই ২০০৭-২০০৯ সালের সেনাসমর্থিত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন।

এইচআরডব্লিউর বিবৃতি বলা হয়, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও ২০০৭-২০০৯ সালের সামরিক শাসনামলে নির্যাতিত হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তিনি ১৭ বছর নির্বাসনে কাটিয়ে গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরেন এবং ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেন।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটি বলছে, মানবাধিকার-বান্ধব ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের উচিত বেসামরিক আইন প্রয়োগে সামরিক সম্পৃক্ততা বন্ধ করা, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সংস্কার করা, নজরদারি ক্ষমতা সীমিত করা এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করা। সরকারের উচিত পুলিশ ও আদালতকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই অতীতের অপরাধগুলোর তদন্ত ও বিচার করার ক্ষমতা দেওয়া।

রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত একটি কঠোর ও মানবাধিকার-সম্মত প্রক্রিয়াই কেবল নিশ্চিত করতে পারে যে, এ ধরনের অপরাধ যেন আর কখনো না ঘটে।

সম্পর্কিত