চরচা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এক শীর্ষ জেনারেল যখন ইরানের বিরুদ্ধে বড় ও দীর্ঘমেয়াদি হামলার বিভিন্ন ঝুঁকি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবহিত করছিলেন, তখন যে বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল তার একটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মজুত গোলাবারুদের বাস্তবিক পরীক্ষাই হয়ে যাচ্ছে। বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা এবং সমর বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের পাল্টা হামলা প্রতিহত করতে ব্যবহৃত প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস করতে দ্রুত অভিযান চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
পেন্টাগনের কাছে ‘ম্যাগাজিন ডেপথ’ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের সুনির্দিষ্ট মজুত গোপন রাখা হয়েছে।
ব্রিটানিকার তথ্যমতে, “ইন্টারসেপ্টর বলতে সাধারণত এমন কোনো দ্রুতগতির যুদ্ধবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রকে বোঝায়, যা শত্রু পক্ষের বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রকে মাঝ আকাশে বাধা দিয়ে বা ধ্বংস করে ফেলে।”
বিশ্লেষকেরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংঘাতের কারণে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের সরবরাহ ক্রমেই কমে আসছে।
স্থানীয় সময় শনিবার সকাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের নেতৃত্ব ও বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, ড্রোন স্থাপনা এবং বিমানঘাঁটি আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে ইরানের পাল্টা হামলার সক্ষমতা দুর্বল করতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আগে থেকেই হামলা শুরু করে।
এই হামলা কতদিন চলবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত পুরো সপ্তাহজুড়ে বোমা হামলা অব্যাহত থাকবে।”
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও বলছে, শনিবার ইরানের পাল্টা হামলা জুনের ১২ দিনের সংঘাতের তুলনায় তুলনামূলকভাবে দুর্বল ছিল। ওই সংঘাতে ইরান পাঁচ শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করেছিল।
ইসরায়েলের দাবি, বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ায় সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, যদিও তার উত্তরসূরি কে হবেন তা এখনো অনিশ্চিত।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, শত শত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সফল হয়েছে। তবে ইরানের ব্যবহার করা কিছু অস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, বিশেষ করে ইরানের নিকটবর্তী আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত এখনো শেষ হয়নি এবং সামনে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের আরও হামলা-পাল্টা হামলার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংক ট্যাঙ্ক স্টিমসন সেন্টারের জ্যেষ্ঠ ফেলো কেলি গ্রিয়েকো বলেন, “এ ধরনের অস্ত্র খুব দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে। আমরা এগুলো যত দ্রুত ব্যবহার করছি, তত দ্রুত প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না।”
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সম্ভাব্য হামলা থেকে ইসরায়েলকে সুরক্ষা দিতে ২০২৪ সালে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘থাড ক্ষেপণাস্ত্র’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়। ওই ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসদস্যদেরও সেখানে পাঠানো হয়েছিল, যা বাইডেন প্রশাসনের নিরাপত্তা উদ্যোগের অংশ ছিল। একই ধরনের একটি থাড ব্যবস্থা জর্ডানেও মোতায়েন করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বহু যুদ্ধবিমান অবস্থান করছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি বলছে, পেন্টাগনের বড় উদ্বেগের একটি বিষয় হলো থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য পর্যাপ্ত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বজায় রাখা। কারণ উত্তর কোরিয়া ও চীনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সক্ষমতা ধরে রাখতে দক্ষিণ কোরিয়া ও গুয়ামেও যুক্তরাষ্ট্র এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করে।
এদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে ব্যবহৃত ‘প্যাট্রিয়ট’ ও ‘স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল’ ইন্টারসেপ্টরের মজুত পুনরায় পূরণ করতেও দ্রুত কাজ করছে পেন্টাগন। প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা অপেক্ষাকৃত নিচু উচ্চতায় উড়ে আসা লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম, আর এসএম-৩ ক্ষেপণাস্ত্র পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে থেকেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, সংকটে থাকা গোলাবারুদ শুধু আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাতেই সীমাবদ্ধ নয়। ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সমুদ্র থেকে নিক্ষেপযোগ্য টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া বিভিন্ন অস্ত্রও ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে। এর আগে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে গত বছরের ‘অপারেশন রাফ রাইডারেও’ যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘপাল্লার নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আরেকটি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি’র জ্যেষ্ঠ ফেলো বেকা ওয়াসার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযানসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ট্রাম্প প্রশাসন অস্বাভাবিক হারে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য এসব অস্ত্র অত্যন্ত কার্যকর এবং চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের শুরুর দিকেই এগুলোর চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে।
বেকা ওয়াসার বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র-চীন সংঘাতের সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির মহড়ায় দেখা গেছে, সংঘাতের প্রথম সপ্তাহেই টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে।” এই ঘাটতি মোকাবিলায় অস্ত্র ক্রয় ও উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান বিমান অভিযানে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘপাল্লার জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়নি, যা চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতে প্রয়োজন হতে পারে।
তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সরাসরি অংশগ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক অস্ত্রের ওপর চাপ কিছুটা কমাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, ইরানের সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হামলাগুলো তারা নিজ উদ্যোগেই সম্পন্ন করেছে।
ইসরায়েলও নিজস্ব গোলাবারুদের মজুত নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা। তার ভাষ্য, দেশটিতে বর্তমানে ‘অ্যারো-৩’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া ইসরায়েলের বিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও কমে এসেছে। গত গ্রীষ্মে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংস এবং গত বছর কাতারে হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে হামলায় এসব অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সাবেক মুখপাত্র ও ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের জ্যেষ্ঠ ফেলো জনাথন কনরিকাস বলেন, এখন পর্যন্ত ইরান যে পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পেরেছে, তা তাকে খুব বেশি উদ্বিগ্ন করেনি।
জনাথন বলেন, “শেষ পর্যন্ত বিষয়টি সংখ্যার লড়াইয়ে গিয়ে দাঁড়ায় যে আমাদের হাতে কত ইন্টারসেপ্টর আছে এবং তারা কতগুলো উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ব্যবহার করতে পারে।”
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় অঞ্চলটিতে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর পাঠিয়েছে আমেরিকা, যার মধ্যে মিত্র দেশগুলোর সরবরাহও রয়েছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এবং আরও ইন্টারসেপ্টরের প্রয়োজন দেখা দিলে, পেন্টাগনকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে থাকা নিজেদের মজুত ব্যবহার করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এক শীর্ষ জেনারেল যখন ইরানের বিরুদ্ধে বড় ও দীর্ঘমেয়াদি হামলার বিভিন্ন ঝুঁকি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবহিত করছিলেন, তখন যে বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল তার একটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মজুত গোলাবারুদের বাস্তবিক পরীক্ষাই হয়ে যাচ্ছে। বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা এবং সমর বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের পাল্টা হামলা প্রতিহত করতে ব্যবহৃত প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস করতে দ্রুত অভিযান চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
পেন্টাগনের কাছে ‘ম্যাগাজিন ডেপথ’ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের সুনির্দিষ্ট মজুত গোপন রাখা হয়েছে।
ব্রিটানিকার তথ্যমতে, “ইন্টারসেপ্টর বলতে সাধারণত এমন কোনো দ্রুতগতির যুদ্ধবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রকে বোঝায়, যা শত্রু পক্ষের বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রকে মাঝ আকাশে বাধা দিয়ে বা ধ্বংস করে ফেলে।”
বিশ্লেষকেরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংঘাতের কারণে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের সরবরাহ ক্রমেই কমে আসছে।
স্থানীয় সময় শনিবার সকাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের নেতৃত্ব ও বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, ড্রোন স্থাপনা এবং বিমানঘাঁটি আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে ইরানের পাল্টা হামলার সক্ষমতা দুর্বল করতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আগে থেকেই হামলা শুরু করে।
এই হামলা কতদিন চলবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত পুরো সপ্তাহজুড়ে বোমা হামলা অব্যাহত থাকবে।”
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও বলছে, শনিবার ইরানের পাল্টা হামলা জুনের ১২ দিনের সংঘাতের তুলনায় তুলনামূলকভাবে দুর্বল ছিল। ওই সংঘাতে ইরান পাঁচ শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করেছিল।
ইসরায়েলের দাবি, বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ায় সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, যদিও তার উত্তরসূরি কে হবেন তা এখনো অনিশ্চিত।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, শত শত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সফল হয়েছে। তবে ইরানের ব্যবহার করা কিছু অস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, বিশেষ করে ইরানের নিকটবর্তী আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত এখনো শেষ হয়নি এবং সামনে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের আরও হামলা-পাল্টা হামলার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংক ট্যাঙ্ক স্টিমসন সেন্টারের জ্যেষ্ঠ ফেলো কেলি গ্রিয়েকো বলেন, “এ ধরনের অস্ত্র খুব দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে। আমরা এগুলো যত দ্রুত ব্যবহার করছি, তত দ্রুত প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না।”
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সম্ভাব্য হামলা থেকে ইসরায়েলকে সুরক্ষা দিতে ২০২৪ সালে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘থাড ক্ষেপণাস্ত্র’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়। ওই ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসদস্যদেরও সেখানে পাঠানো হয়েছিল, যা বাইডেন প্রশাসনের নিরাপত্তা উদ্যোগের অংশ ছিল। একই ধরনের একটি থাড ব্যবস্থা জর্ডানেও মোতায়েন করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বহু যুদ্ধবিমান অবস্থান করছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি বলছে, পেন্টাগনের বড় উদ্বেগের একটি বিষয় হলো থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য পর্যাপ্ত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বজায় রাখা। কারণ উত্তর কোরিয়া ও চীনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সক্ষমতা ধরে রাখতে দক্ষিণ কোরিয়া ও গুয়ামেও যুক্তরাষ্ট্র এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করে।
এদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে ব্যবহৃত ‘প্যাট্রিয়ট’ ও ‘স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল’ ইন্টারসেপ্টরের মজুত পুনরায় পূরণ করতেও দ্রুত কাজ করছে পেন্টাগন। প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা অপেক্ষাকৃত নিচু উচ্চতায় উড়ে আসা লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম, আর এসএম-৩ ক্ষেপণাস্ত্র পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে থেকেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, সংকটে থাকা গোলাবারুদ শুধু আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাতেই সীমাবদ্ধ নয়। ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সমুদ্র থেকে নিক্ষেপযোগ্য টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া বিভিন্ন অস্ত্রও ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে। এর আগে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে গত বছরের ‘অপারেশন রাফ রাইডারেও’ যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘপাল্লার নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আরেকটি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি’র জ্যেষ্ঠ ফেলো বেকা ওয়াসার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযানসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ট্রাম্প প্রশাসন অস্বাভাবিক হারে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য এসব অস্ত্র অত্যন্ত কার্যকর এবং চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের শুরুর দিকেই এগুলোর চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে।
বেকা ওয়াসার বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র-চীন সংঘাতের সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির মহড়ায় দেখা গেছে, সংঘাতের প্রথম সপ্তাহেই টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে।” এই ঘাটতি মোকাবিলায় অস্ত্র ক্রয় ও উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান বিমান অভিযানে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘপাল্লার জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়নি, যা চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতে প্রয়োজন হতে পারে।
তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সরাসরি অংশগ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক অস্ত্রের ওপর চাপ কিছুটা কমাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, ইরানের সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হামলাগুলো তারা নিজ উদ্যোগেই সম্পন্ন করেছে।
ইসরায়েলও নিজস্ব গোলাবারুদের মজুত নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা। তার ভাষ্য, দেশটিতে বর্তমানে ‘অ্যারো-৩’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া ইসরায়েলের বিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও কমে এসেছে। গত গ্রীষ্মে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংস এবং গত বছর কাতারে হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে হামলায় এসব অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সাবেক মুখপাত্র ও ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের জ্যেষ্ঠ ফেলো জনাথন কনরিকাস বলেন, এখন পর্যন্ত ইরান যে পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পেরেছে, তা তাকে খুব বেশি উদ্বিগ্ন করেনি।
জনাথন বলেন, “শেষ পর্যন্ত বিষয়টি সংখ্যার লড়াইয়ে গিয়ে দাঁড়ায় যে আমাদের হাতে কত ইন্টারসেপ্টর আছে এবং তারা কতগুলো উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ব্যবহার করতে পারে।”
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় অঞ্চলটিতে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর পাঠিয়েছে আমেরিকা, যার মধ্যে মিত্র দেশগুলোর সরবরাহও রয়েছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এবং আরও ইন্টারসেপ্টরের প্রয়োজন দেখা দিলে, পেন্টাগনকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে থাকা নিজেদের মজুত ব্যবহার করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।