চরচা প্রতিবেদক

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালে সারা দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য সংশ্লিষ্ট ৬৪৫টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ৭১টি ঘটনা ‘সাম্প্রদায়িক’ এবং ৫৭৪টি ‘অসাম্প্রদায়িক’ বা সাধারণ অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
আজ সোমবার প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এক বছরব্যাপী পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
পোস্টে বলা হয়েছে, এই প্রতিবেদনটি ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট (এফআইআর), সাধারণ ডায়েরি (জিডি), চার্জশিট এবং দেশব্যাপী তদন্তের আপডেট থেকে সংকলন করা হয়েছে। প্রতিটি অপরাধের ঘটনাই উদ্বেগজনক হলেও, তথ্য-উপাত্তের প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণ থেকে এটি স্পষ্ট যে, অধিকাংশ ঘটনাই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয়, বরং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত; যা একদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ নির্দেশ করে, অন্যদিকে ভীতি বা বিভ্রান্তির বদলে তথ্যভিত্তিক আলোচনার গুরুত্বকে তুলে ধরে।
পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ৬৪৫টি ঘটনার মধ্যে সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে জড়িত ঘটনা ৭১টি। এর মধ্যে মন্দির ভাঙচুর ৩৮টি, অগ্নিসংযোগ ৮টি, মন্দিরে চুরি ১টি, খুন ১টি এবং অন্যান্য ২৩টি (প্রতিমা ভাঙার হুমকি, ফেসবুক পোস্ট ইত্যাদি)। এসব ঘটনায় ৫০টি মামলা হয়েছে এবং ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ছাড়া অসাম্প্রদায়িক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ৫৭৪টি। এর মধ্যে অস্বাভাবিক মৃত্যু ১৭২টি, চুরি ১০৬টি, ধর্ষণ ৫৮টি, প্রতিবেশী বিরোধ ৫১টি, ভূমি বিরোধ ২৩টি এবং পূর্বশত্রুতার জেরে ২৬টিসহ অন্যান্য ১৩৮টি অপরাধ রয়েছে। এসব ঘটনায় ৩৯০টি নিয়মিত মামলা ও ১৫৪টি অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৯৮ জনকে। অন্যান্য অপরাধের মধ্যে আছে অপহরণ, ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি ইত্যাদি।
পোস্টে বলা হয়েছে, সব ধরনের অপরাধই গুরুতর এবং জবাবদিহি দাবি করে; তবে উপাত্ত থেকে এটি স্পষ্ট যে সংখ্যালঘু ভুক্তভোগীদের অধিকাংশ ঘটনাই সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ থেকে নয়, বরং ধর্ম ও জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থাকা বিস্তৃত অপরাধমূলক ও অন্যান্য সামাজিক কারণ থেকে উদ্ভূত। এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক শ্রেণিবিন্যাস ভ্রান্ত তথ্য প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং আরও কার্যকর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে ভূমিকা রাখে।
প্রতিবেদনে পুলিশের উল্লেখযোগ্য তৎপরতার কথাও উঠে এসেছে। কয়েক শ ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা রুজু হয়েছে, বহু ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যান্য ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম চলমান। বিশেষ করে ধর্মীয় উপাসনালয় বা সাম্প্রদায়িকভাবে সংবেদনশীল বিষয় জড়িত–এমন ঘটনাগুলোতে অপরাধ দমন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন এতে দেখা যায়।
পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রতিবেদনটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে চ্যালেঞ্জ অস্বীকার করা হয়নি, আবার (পরিস্থিতিকে) স্বস্তিদায়ক বলেও দাবিও করা হয়নি। বরং, এটি বৃহত্তর জাতীয় প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর প্রভাব ফেলছে এমন অপরাধ প্রবণতার একটি বাস্তব, প্রমাণ-ভিত্তিক চিত্র তুলে ধরার জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। গঠনমূলক পর্যালোচনা, দায়িত্বশীল প্রতিবেদন এবং ধারাবাহিক প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার–এই তিনটিই আইনশৃঙ্খলার অগ্রগতির অপরিহার্য।

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালে সারা দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য সংশ্লিষ্ট ৬৪৫টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ৭১টি ঘটনা ‘সাম্প্রদায়িক’ এবং ৫৭৪টি ‘অসাম্প্রদায়িক’ বা সাধারণ অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
আজ সোমবার প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এক বছরব্যাপী পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
পোস্টে বলা হয়েছে, এই প্রতিবেদনটি ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট (এফআইআর), সাধারণ ডায়েরি (জিডি), চার্জশিট এবং দেশব্যাপী তদন্তের আপডেট থেকে সংকলন করা হয়েছে। প্রতিটি অপরাধের ঘটনাই উদ্বেগজনক হলেও, তথ্য-উপাত্তের প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণ থেকে এটি স্পষ্ট যে, অধিকাংশ ঘটনাই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয়, বরং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত; যা একদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ নির্দেশ করে, অন্যদিকে ভীতি বা বিভ্রান্তির বদলে তথ্যভিত্তিক আলোচনার গুরুত্বকে তুলে ধরে।
পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ৬৪৫টি ঘটনার মধ্যে সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে জড়িত ঘটনা ৭১টি। এর মধ্যে মন্দির ভাঙচুর ৩৮টি, অগ্নিসংযোগ ৮টি, মন্দিরে চুরি ১টি, খুন ১টি এবং অন্যান্য ২৩টি (প্রতিমা ভাঙার হুমকি, ফেসবুক পোস্ট ইত্যাদি)। এসব ঘটনায় ৫০টি মামলা হয়েছে এবং ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ছাড়া অসাম্প্রদায়িক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ৫৭৪টি। এর মধ্যে অস্বাভাবিক মৃত্যু ১৭২টি, চুরি ১০৬টি, ধর্ষণ ৫৮টি, প্রতিবেশী বিরোধ ৫১টি, ভূমি বিরোধ ২৩টি এবং পূর্বশত্রুতার জেরে ২৬টিসহ অন্যান্য ১৩৮টি অপরাধ রয়েছে। এসব ঘটনায় ৩৯০টি নিয়মিত মামলা ও ১৫৪টি অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৯৮ জনকে। অন্যান্য অপরাধের মধ্যে আছে অপহরণ, ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি ইত্যাদি।
পোস্টে বলা হয়েছে, সব ধরনের অপরাধই গুরুতর এবং জবাবদিহি দাবি করে; তবে উপাত্ত থেকে এটি স্পষ্ট যে সংখ্যালঘু ভুক্তভোগীদের অধিকাংশ ঘটনাই সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ থেকে নয়, বরং ধর্ম ও জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থাকা বিস্তৃত অপরাধমূলক ও অন্যান্য সামাজিক কারণ থেকে উদ্ভূত। এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক শ্রেণিবিন্যাস ভ্রান্ত তথ্য প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং আরও কার্যকর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে ভূমিকা রাখে।
প্রতিবেদনে পুলিশের উল্লেখযোগ্য তৎপরতার কথাও উঠে এসেছে। কয়েক শ ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা রুজু হয়েছে, বহু ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যান্য ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম চলমান। বিশেষ করে ধর্মীয় উপাসনালয় বা সাম্প্রদায়িকভাবে সংবেদনশীল বিষয় জড়িত–এমন ঘটনাগুলোতে অপরাধ দমন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন এতে দেখা যায়।
পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রতিবেদনটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে চ্যালেঞ্জ অস্বীকার করা হয়নি, আবার (পরিস্থিতিকে) স্বস্তিদায়ক বলেও দাবিও করা হয়নি। বরং, এটি বৃহত্তর জাতীয় প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর প্রভাব ফেলছে এমন অপরাধ প্রবণতার একটি বাস্তব, প্রমাণ-ভিত্তিক চিত্র তুলে ধরার জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। গঠনমূলক পর্যালোচনা, দায়িত্বশীল প্রতিবেদন এবং ধারাবাহিক প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার–এই তিনটিই আইনশৃঙ্খলার অগ্রগতির অপরিহার্য।