ব্রাজিল ২ : ১ জাপান
চরচা ডেস্ক

জাপান বুঝি-বা ততক্ষণে অতিরিক্ত সময়ের মানসিক প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিল!
প্রথমার্ধে ঘুমপাড়ানি ব্রাজিলের সুযোগ নিয়ে ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়া, দ্বিতীয়ার্ধে গা ঝেড়ে ওঠা ব্রাজিলের একের পর এক আক্রমণের মুখে একটা গোল খেলেও বাকি সময় গোলপোস্টে কোনোরকমে অরক্ষিত রেখে দেওয়া জাপান তেমন ভাবলে তাতে দোষও দেওয়া যাবে না তাদের।
কিন্তু তখন কে জানত, রিয়াল মাদ্রিদের পর ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়া কার্লো আনচেলত্তি সঙ্গে করে রিয়াল মাদ্রিদের ডিএনএ-ও নিয়ে এসেছেন! হিউস্টনে আজ জাপানের বিপক্ষে যেভাবে শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ ব্যবধানের জয় ছিনিয়ে নিল ব্রাজিল, যেভাবে দুই অর্ধে ভক্তদের বিরক্তি আর মুগ্ধতার দুই বিপরীতমুখী অনুভূতিতে ভাসিয়ে শেষ পর্যন্ত শেষ ষোলোতে উঠে গেল, তাকে আর কী বলবেন!
আনচেলত্তির সময়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে এমন অনেক ম্যাচে একেবারে শেষ মুহূর্তে গিয়ে জিতে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ। হিউস্টনে আজ জাপানের বিপক্ষেও একেবারে যোগ করা সময়ে জয়টা রীতিমতো ছিনিয়ে নিয়েছে ব্রাজিল।
প্রথমার্ধে ঘুমপাড়ানি ফুটবল খেলে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়া ব্রাজিল দ্বিতীয়ার্ধে যে গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছে, তাতেই তফাৎটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে ব্রাজিল। কাসেমিরোর জোরাল হেডে ৫৬ মিনিটে সমতায় ফেরা ব্রাজিল তবু আরেকটা গোল আর বের করতে পারছিল না। আনচেলত্তিও একের পর এক তার চাল চেলেছেন, শুধু নেইমারকে নামিয়ে দেওয়াই বাকি ছিল!
ওদিকে সময় গড়িয়ে ৯০ মিনিটের কাঁটা পেরিয়ে গেছে। যোগ করা সময় নির্ধারিত হলো ৬ মিনিট, তা-ও একেক করে শেষের পথে। শেষ পর্যন্ত যখন অতিরিক্ত সময়ে যাওয়াই ভবিতব্য মনে হচ্ছিল, ব্রাজিল বনে গেল রিয়াল মাদ্রিদ! আনচেলত্তির রিয়াল মাদ্রিদ! যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে বক্সের ভেতরে হঠাৎ বল পেয়ে গেলেন বদলি নামা ফরোয়ার্ড গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, তার বাঁকানো শট ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন জাপান গোলকিপার সুজুকি। হাত লেগেছে বটে, তবে তাতে বলটার ঠিকানা বদলায়নি।
ব্রাজিলের গতিপথও ঠিক থাকল। পরবর্তী গন্তব্য – শেষ ষোলো।
বিরতিতে কার্লো আনচেলত্তি কৌশলে বদল যে এনেছেন, তা তো সহজেই চোখে পড়েছে। কিন্তু এর বাইরে ড্রেসিংরুমেও খেলোয়াড়দের কী বলেছেন ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচ? ঠিক কী বলে তাতিয়ে দিয়েছেন ভিনিসিয়ুস, কাসেমিরোদের?
যা-ই বলে থাকুন, সেটা জাদুর মতো কাজ করেছে। প্রথমার্ধে যে ঘুমপাড়ানি ব্রাজিলের দেখা মিলেছিল, দ্বিতীয়ার্ধে তা একেবারেই উধাও। শুরু থেকেই তেড়েফুঁড়ে জাপানের বক্সে ব্রাজিল। সুযোগও আসতে শুরু করল পাইকারি দরে! ৫২ মিনিটে ডানদিক থেকে ক্রসে গিমারায়েসের দারুণ হেড, জাপান গোলকিপার সুজুকির দারুণ সেইভ না হলে তখনই সমতায় ফেরে ব্রাজিল।
এক মিনিট পর ব্রাজিল ভক্তরা তো উল্লাস শুরুই করে দিয়েছিলেন! ডাইভিং হেড করেছিলেন কাসেমিরো, গোললাইন থেকে তা কোনোরকমে ফেরালেন জাপান ডিফেন্ডার। গোললাইন অতিক্রম করেছে ভেবেই চিৎকার করে উঠেছিলেন অনেক ব্রাজিল সমর্থক। কিন্তু গোললাইন প্রযুক্তির নীরবতা বুঝিয়ে দিল, নীরবতা মানে মাঝে মাঝে অস্বীকৃতিও বোঝায়! বরং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই চিৎকারটা জাপান – আরও বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা ভক্তদের – গলায় ঠাঁই পাওয়ার দশা! পাল্টা আক্রমণে ব্রাজিলের তিন ডিফেন্ডারের বিপরীতে জাপানের চার খেলোয়াড় উঠে গেলেন! ব্রাজিলের ভাগ্য ভালো, শেষ পাসটাতে গড়বড় করে ফেলল জাপান।
ম্যাচটা ততক্ষণে ফুটবল ছাপিয়ে বাস্কেটবলে রূপ নিয়েছে – এক মুহূর্ত এই বক্সে, আরেক মুহূর্ত ওই বক্সে।
এক মিনিট পরই আবার বল জাপানের বক্সে। তবে ব্রাজিল ভক্তদের চিৎকারটা এবার আর জমিয়ে রাখতে হলো না। কাসেমিরোকেও নয়।
বাঁ দিক থেকে ক্রস গেল জাপান বক্সে, দূরের পোস্টে বুনো ষাঁড়ের শক্তিতে লাফিয়ে ওঠা কাসেমিরোর সঙ্গে ওই হেডের লড়াইয়ে জেতার মতো দক্ষতা যদিও-বা থেকে থাকে, সাহস জাপানের কারও হয়ে উঠল না। কাসেমিরোর শুধু হেডের গতিপথটা ঠিক রাখতে হতো। বুলেট গতির হেডটা জালের দিকেই রেখে দিলেন কাসেমিরো। এরপর ব্রাজিলের উল্লাস ছাড়া আর কিছুর সম্ভাবনা তো শূন্য!
গোলটা ব্রাজিলকে আনন্দের চেয়ে স্বস্তি বেশি দিয়ে গেছে। এরপর ব্রাজিল আরেকটু ঠাণ্ডা মাথায় গোলের পথ খুঁজতে পেরেছে। উল্টো দিকে ততক্ষণেই প্রমাদ গুনতে শুরু করে দেওয়া জাপান যেন ভুলে গেছে, তারা ওখানে একটা ম্যাচ খেলতে নেমেছিল, ব্রাজিলের ‘অ্যাটাক ভার্সেস ডিফেন্সে’র অংশ হতে নয়! ব্রাজিলের দাপটের মুখে জাপান ততক্ষণে নতজানু। নিজেদের বক্সেই জানপ্রাণ দিয়ে ডিফেন্ড করে যাচ্ছে, যদিও প্রথমার্ধের মতো গোছানো ভাব ততক্ষণে আর জাপানের ডিফেন্ডিংয়ে নেই।
ওদিকে ব্রাজিলের অপেক্ষা শুধু বাড়ছেই! ভিনিসিয়ুস বাঁদিক দিয়ে ঢোকেন, কখনো মাইনাস করেন, কখনো বেশি কাটাতে গিয়ে না পেরে পরে বলটাকে আবার পেছনেই পাঠাতে বাধ্য হন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে নামা এনদ্রিক অনেক কিছু করার চেষ্টা করেছেন বটে, তবে ঠিক কী করতে চাইছিলেন তা বোধহয় নিজেও বুঝে উঠতে পারছিলেন না। ম্যাচজুড়ে ম্রিয়মাণ থাকা কুনিয়ার বদলে ততক্ষণে গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকেও মাঠে নামিয়ে দিয়েছেন আনচেলত্তি। কিন্তু নেইমারকে আর নামান না! অবশ্য ব্রাজিলভক্তদের আবেগ এক পাশে রাখলে এই ম্যাচ কোনো পরিস্থিতিতেই এই ৩৪ পেরোনো, আধা-ফিট নেইমারের নামার মতো অবস্থায় ছিল না। গোল না পেলে হয়তো অতিরিক্ত সময়েই নেইমারকে মাঠে দেখা যেত।
কিন্তু তার আর দরকার হলো না। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে গিমারায়েসের পাস গেল বক্সে ওঁত পেতে থাকা মার্তিনেল্লির কাছে। গায়ের সঙ্গে লেগে থাকা ডিফেন্ডারকে পাত্তা না দিয়েই শট মার্তিনেল্লির। এরপর ব্রাজিল ভক্তদের গগনবিদারী উল্লাস ছাড়া আর কিছু মনে থাকার কথা নয় হিউস্টনের হলুদরঙা গ্যালারির!
দূরের স্মৃতি মনে হওয়ার কথা প্রথমার্ধে ব্রাজিলের বল পায়ে নির্বিষ পারফরম্যান্স এবং ২৯ মিনিটে রাইটব্যাক দানিলোর এক ভুল পাস ধরে এবং কাসেমিরোকে ভুত দেখার অনুভূতি দিয়ে কাইশু সানোর গোলকেও। হয়তো আলাদা করে মনে আসার কথা নয় বেঞ্চেই ৯০ মিনিট কাটিয়ে দেওয়া নেইমারের কথাও।
প্রথমার্ধে জাপান যেভাবে নিজেদের বক্সের সামনে পাঁচ ডিফেন্ডার আর তার সামনে চার মিডফিল্ডারের দুই রেখা দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল, তাতে এই ম্যাচে লড়াইটা যে আর মিডফিল্ডে নেই, বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা নয় আনচেলত্তির। প্রথমার্ধে কিছুই করতে না পারা মিডফিল্ডার পাকেতাকে বদলে দ্বিতীয়ার্ধে এনদ্রিককে নামিয়ে দিলেন। উদ্দেশ্য
৫২ মিনিট – ডানদিক থেকে ক্রস গিমারায়েস দারুণ হেড, দারূন সেইভ
৫৩ মিনিট – ব্রাজিলের গোলের আওয়াজ, কাসেমিরো ডাইভিং হেডার গোললাইন থেকে ক্লিয়ার। পাল্টা আক্রমণে জাপানের ৪ ভার্সেস ব্রাজিলের তিন, শেষ পাস ঠিক হয়নি জাপানের। ব্রাজিল বাঁচল।
৫৬ – কাসেমিরোওওওও! গোল! বাঁ দিক থেকে ক্রস, ফার পোস্টে কাসেমিরোর জোরাল হেড।
৫৮ - ভিনিইইই। ব্রাজিল ইলেকট্রিক পেইসে অ্যাটাক। ভিনি বাঁ দিক থেকে ঢুকে দুই খেলোয়াড়ের ভেতর দিয়ে ঢুকেই আউটসাইড অব দ্য ফুট শট। গোলকিপার সেইভ দেন পোস্ট।

জাপান বুঝি-বা ততক্ষণে অতিরিক্ত সময়ের মানসিক প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিল!
প্রথমার্ধে ঘুমপাড়ানি ব্রাজিলের সুযোগ নিয়ে ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়া, দ্বিতীয়ার্ধে গা ঝেড়ে ওঠা ব্রাজিলের একের পর এক আক্রমণের মুখে একটা গোল খেলেও বাকি সময় গোলপোস্টে কোনোরকমে অরক্ষিত রেখে দেওয়া জাপান তেমন ভাবলে তাতে দোষও দেওয়া যাবে না তাদের।
কিন্তু তখন কে জানত, রিয়াল মাদ্রিদের পর ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়া কার্লো আনচেলত্তি সঙ্গে করে রিয়াল মাদ্রিদের ডিএনএ-ও নিয়ে এসেছেন! হিউস্টনে আজ জাপানের বিপক্ষে যেভাবে শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ ব্যবধানের জয় ছিনিয়ে নিল ব্রাজিল, যেভাবে দুই অর্ধে ভক্তদের বিরক্তি আর মুগ্ধতার দুই বিপরীতমুখী অনুভূতিতে ভাসিয়ে শেষ পর্যন্ত শেষ ষোলোতে উঠে গেল, তাকে আর কী বলবেন!
আনচেলত্তির সময়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে এমন অনেক ম্যাচে একেবারে শেষ মুহূর্তে গিয়ে জিতে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ। হিউস্টনে আজ জাপানের বিপক্ষেও একেবারে যোগ করা সময়ে জয়টা রীতিমতো ছিনিয়ে নিয়েছে ব্রাজিল।
প্রথমার্ধে ঘুমপাড়ানি ফুটবল খেলে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়া ব্রাজিল দ্বিতীয়ার্ধে যে গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছে, তাতেই তফাৎটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে ব্রাজিল। কাসেমিরোর জোরাল হেডে ৫৬ মিনিটে সমতায় ফেরা ব্রাজিল তবু আরেকটা গোল আর বের করতে পারছিল না। আনচেলত্তিও একের পর এক তার চাল চেলেছেন, শুধু নেইমারকে নামিয়ে দেওয়াই বাকি ছিল!
ওদিকে সময় গড়িয়ে ৯০ মিনিটের কাঁটা পেরিয়ে গেছে। যোগ করা সময় নির্ধারিত হলো ৬ মিনিট, তা-ও একেক করে শেষের পথে। শেষ পর্যন্ত যখন অতিরিক্ত সময়ে যাওয়াই ভবিতব্য মনে হচ্ছিল, ব্রাজিল বনে গেল রিয়াল মাদ্রিদ! আনচেলত্তির রিয়াল মাদ্রিদ! যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে বক্সের ভেতরে হঠাৎ বল পেয়ে গেলেন বদলি নামা ফরোয়ার্ড গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, তার বাঁকানো শট ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন জাপান গোলকিপার সুজুকি। হাত লেগেছে বটে, তবে তাতে বলটার ঠিকানা বদলায়নি।
ব্রাজিলের গতিপথও ঠিক থাকল। পরবর্তী গন্তব্য – শেষ ষোলো।
বিরতিতে কার্লো আনচেলত্তি কৌশলে বদল যে এনেছেন, তা তো সহজেই চোখে পড়েছে। কিন্তু এর বাইরে ড্রেসিংরুমেও খেলোয়াড়দের কী বলেছেন ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচ? ঠিক কী বলে তাতিয়ে দিয়েছেন ভিনিসিয়ুস, কাসেমিরোদের?
যা-ই বলে থাকুন, সেটা জাদুর মতো কাজ করেছে। প্রথমার্ধে যে ঘুমপাড়ানি ব্রাজিলের দেখা মিলেছিল, দ্বিতীয়ার্ধে তা একেবারেই উধাও। শুরু থেকেই তেড়েফুঁড়ে জাপানের বক্সে ব্রাজিল। সুযোগও আসতে শুরু করল পাইকারি দরে! ৫২ মিনিটে ডানদিক থেকে ক্রসে গিমারায়েসের দারুণ হেড, জাপান গোলকিপার সুজুকির দারুণ সেইভ না হলে তখনই সমতায় ফেরে ব্রাজিল।
এক মিনিট পর ব্রাজিল ভক্তরা তো উল্লাস শুরুই করে দিয়েছিলেন! ডাইভিং হেড করেছিলেন কাসেমিরো, গোললাইন থেকে তা কোনোরকমে ফেরালেন জাপান ডিফেন্ডার। গোললাইন অতিক্রম করেছে ভেবেই চিৎকার করে উঠেছিলেন অনেক ব্রাজিল সমর্থক। কিন্তু গোললাইন প্রযুক্তির নীরবতা বুঝিয়ে দিল, নীরবতা মানে মাঝে মাঝে অস্বীকৃতিও বোঝায়! বরং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই চিৎকারটা জাপান – আরও বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা ভক্তদের – গলায় ঠাঁই পাওয়ার দশা! পাল্টা আক্রমণে ব্রাজিলের তিন ডিফেন্ডারের বিপরীতে জাপানের চার খেলোয়াড় উঠে গেলেন! ব্রাজিলের ভাগ্য ভালো, শেষ পাসটাতে গড়বড় করে ফেলল জাপান।
ম্যাচটা ততক্ষণে ফুটবল ছাপিয়ে বাস্কেটবলে রূপ নিয়েছে – এক মুহূর্ত এই বক্সে, আরেক মুহূর্ত ওই বক্সে।
এক মিনিট পরই আবার বল জাপানের বক্সে। তবে ব্রাজিল ভক্তদের চিৎকারটা এবার আর জমিয়ে রাখতে হলো না। কাসেমিরোকেও নয়।
বাঁ দিক থেকে ক্রস গেল জাপান বক্সে, দূরের পোস্টে বুনো ষাঁড়ের শক্তিতে লাফিয়ে ওঠা কাসেমিরোর সঙ্গে ওই হেডের লড়াইয়ে জেতার মতো দক্ষতা যদিও-বা থেকে থাকে, সাহস জাপানের কারও হয়ে উঠল না। কাসেমিরোর শুধু হেডের গতিপথটা ঠিক রাখতে হতো। বুলেট গতির হেডটা জালের দিকেই রেখে দিলেন কাসেমিরো। এরপর ব্রাজিলের উল্লাস ছাড়া আর কিছুর সম্ভাবনা তো শূন্য!
গোলটা ব্রাজিলকে আনন্দের চেয়ে স্বস্তি বেশি দিয়ে গেছে। এরপর ব্রাজিল আরেকটু ঠাণ্ডা মাথায় গোলের পথ খুঁজতে পেরেছে। উল্টো দিকে ততক্ষণেই প্রমাদ গুনতে শুরু করে দেওয়া জাপান যেন ভুলে গেছে, তারা ওখানে একটা ম্যাচ খেলতে নেমেছিল, ব্রাজিলের ‘অ্যাটাক ভার্সেস ডিফেন্সে’র অংশ হতে নয়! ব্রাজিলের দাপটের মুখে জাপান ততক্ষণে নতজানু। নিজেদের বক্সেই জানপ্রাণ দিয়ে ডিফেন্ড করে যাচ্ছে, যদিও প্রথমার্ধের মতো গোছানো ভাব ততক্ষণে আর জাপানের ডিফেন্ডিংয়ে নেই।
ওদিকে ব্রাজিলের অপেক্ষা শুধু বাড়ছেই! ভিনিসিয়ুস বাঁদিক দিয়ে ঢোকেন, কখনো মাইনাস করেন, কখনো বেশি কাটাতে গিয়ে না পেরে পরে বলটাকে আবার পেছনেই পাঠাতে বাধ্য হন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে নামা এনদ্রিক অনেক কিছু করার চেষ্টা করেছেন বটে, তবে ঠিক কী করতে চাইছিলেন তা বোধহয় নিজেও বুঝে উঠতে পারছিলেন না। ম্যাচজুড়ে ম্রিয়মাণ থাকা কুনিয়ার বদলে ততক্ষণে গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকেও মাঠে নামিয়ে দিয়েছেন আনচেলত্তি। কিন্তু নেইমারকে আর নামান না! অবশ্য ব্রাজিলভক্তদের আবেগ এক পাশে রাখলে এই ম্যাচ কোনো পরিস্থিতিতেই এই ৩৪ পেরোনো, আধা-ফিট নেইমারের নামার মতো অবস্থায় ছিল না। গোল না পেলে হয়তো অতিরিক্ত সময়েই নেইমারকে মাঠে দেখা যেত।
কিন্তু তার আর দরকার হলো না। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে গিমারায়েসের পাস গেল বক্সে ওঁত পেতে থাকা মার্তিনেল্লির কাছে। গায়ের সঙ্গে লেগে থাকা ডিফেন্ডারকে পাত্তা না দিয়েই শট মার্তিনেল্লির। এরপর ব্রাজিল ভক্তদের গগনবিদারী উল্লাস ছাড়া আর কিছু মনে থাকার কথা নয় হিউস্টনের হলুদরঙা গ্যালারির!
দূরের স্মৃতি মনে হওয়ার কথা প্রথমার্ধে ব্রাজিলের বল পায়ে নির্বিষ পারফরম্যান্স এবং ২৯ মিনিটে রাইটব্যাক দানিলোর এক ভুল পাস ধরে এবং কাসেমিরোকে ভুত দেখার অনুভূতি দিয়ে কাইশু সানোর গোলকেও। হয়তো আলাদা করে মনে আসার কথা নয় বেঞ্চেই ৯০ মিনিট কাটিয়ে দেওয়া নেইমারের কথাও।
প্রথমার্ধে জাপান যেভাবে নিজেদের বক্সের সামনে পাঁচ ডিফেন্ডার আর তার সামনে চার মিডফিল্ডারের দুই রেখা দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল, তাতে এই ম্যাচে লড়াইটা যে আর মিডফিল্ডে নেই, বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা নয় আনচেলত্তির। প্রথমার্ধে কিছুই করতে না পারা মিডফিল্ডার পাকেতাকে বদলে দ্বিতীয়ার্ধে এনদ্রিককে নামিয়ে দিলেন। উদ্দেশ্য
৫২ মিনিট – ডানদিক থেকে ক্রস গিমারায়েস দারুণ হেড, দারূন সেইভ
৫৩ মিনিট – ব্রাজিলের গোলের আওয়াজ, কাসেমিরো ডাইভিং হেডার গোললাইন থেকে ক্লিয়ার। পাল্টা আক্রমণে জাপানের ৪ ভার্সেস ব্রাজিলের তিন, শেষ পাস ঠিক হয়নি জাপানের। ব্রাজিল বাঁচল।
৫৬ – কাসেমিরোওওওও! গোল! বাঁ দিক থেকে ক্রস, ফার পোস্টে কাসেমিরোর জোরাল হেড।
৫৮ - ভিনিইইই। ব্রাজিল ইলেকট্রিক পেইসে অ্যাটাক। ভিনি বাঁ দিক থেকে ঢুকে দুই খেলোয়াড়ের ভেতর দিয়ে ঢুকেই আউটসাইড অব দ্য ফুট শট। গোলকিপার সেইভ দেন পোস্ট।