চরচা ডেস্ক

কানাডায় আগে এমন কোনো পরিস্থিতি ছিল না। কিন্তু এখন চিত্র দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। কানাডার শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা জেনারেল জেনি কারিগনান এমন নাগরিকদের খুঁজছেন, যারা সামরিক হামলা বা ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দেশের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত।
জেনারেল কারিগনান বলেন, “আমাদের ভারী যন্ত্রপাতি চালানোর দক্ষ লোক, ড্রোন অপারেটর এবং সাইবার বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন।”
জেনারেল কারিগনান প্রায় ৪ লাখ সদস্যের একটি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা করছেন। ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর তুলে নিয়ে যাওয়ার সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে এর সরাসরি কোনো যোগসূত্র না থাকলেও, বিষয়টি যে একেবারে কাকতালীয় নয় তা স্পষ্ট। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন বারবার বলছেন যে, কানাডার স্বার্থেই দেশটির যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়া উচিত।
ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কানাডায় আক্রমণ চালাবে এটি প্রায় অসম্ভব। তবে দুই দেশের সম্পর্ক এখন আর আগের মতো সহজ নেই। ট্রাম্পের বক্তব্যের মধ্যে এক ধরনের প্রচ্ছন্ন চাপ কাজ করছে। কানাডা মূলত রাশিয়া ও চীনের অনুপ্রবেশ, সাইবার হামলা এবং জাতীয় অবকাঠামোর ওপর আক্রমণ নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। তবে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযান এবং গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের দাবির পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা এখন আর একেবারে অকল্পনীয় নয়।
ট্রাম্প যখন অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, ঠিক তখনই কানাডার জাতীয় প্রতিরক্ষা বিভাগ (ডিএনডি) বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠনের আলোচনা শুরু করে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সাবেক চিফ অব স্টাফ মার্কো মেনডিচিনো বলেন, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে সব ধরনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকাটাই দায়িত্বশীল আচরণ। এমন একটি স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী গঠন করা প্রয়োজন যা সরাসরি সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তা করতে পারবে।”

ডিএনডি ইতোমধ্যে ভবিষ্যতের যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় অবৈধ অভিবাসীদের ঢল সামাল দেওয়ার পরিকল্পনা এখন নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। ডেমোক্র্যাট-শাসিত অঙ্গরাজ্যগুলোতে ট্রাম্পের সেনা পাঠানোর আগ্রহ এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগকে ব্যবহারের প্রবণতা কানাডাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।
কানাডীয় যুদ্ধবিশারদদের মতে, এমন পরিস্থিতিও হতে পারে যেখানে রাশিয়া বা চীন কানাডার জ্বালানি বা পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হামলা চালিয়ে আমেরিকাকে ব্যস্ত রাখবে, আর সেই সুযোগে তারা বাল্টিক রাষ্ট্র বা তাইওয়ানে আক্রমণ করবে। জেনারেল কারিগনান জানান, তারা ইতোমধ্যে নিয়মিত সাইবার হামলা মোকাবিলা করছেন এবং যেকোনো চরম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জেনারেল কারিগনান মনে করেন, এই বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন নিয়ে ট্রাম্পের অসন্তুষ্ট হওয়ার কারণ নেই। কারণ ট্রাম্প নিজেই চেয়েছিলেন তার মিত্ররা যেন প্রতিরক্ষায় স্বাবলম্বী হয়। এই লক্ষ্যে ফিনল্যান্ডের বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য গত নভেম্বরে একটি দল সেখানে পাঠানো হয়েছিল। ফিনল্যান্ডে নাগরিকদের ৭২ ঘণ্টার জরুরি রসদ মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং প্রায় ৮৫ শতাংশ নাগরিকের জন্য আধুনিক ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারের ব্যবস্থা রয়েছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আগামী পাঁচ বছরে ৮২ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে, যার লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ নিশ্চিত করা। এই অর্থের বড় অংশ ব্যয় হবে উত্তর মেরু (আর্কটিক) অঞ্চলে, যেখানে রুশ ও চীনা নৌযানগুলোর তৎপরতা বাড়ছে।
কানাডার সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছে। একদিকে লাটভিয়ায় বাল্টিক প্রতিরক্ষা জোরদার, অন্যদিকে তাইওয়ান প্রণালিতে নৌ-মিশন এবং দেশের অভ্যন্তরে বন্যা-দাবানল সামলানোসব মিলিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছে। নতুন বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠিত হলে সেনাবাহিনী সামরিক হুমকিতে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ফিলিপ লাগাসে বলেন, কানাডা আগে কখনো আজকের মতো হুমকির মুখে পড়েনি। তিন দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল থাকার যে ‘আত্মতৃপ্তি’ কানাডার ছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসার সময় হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব বা বৈশ্বিক অস্থিরতা যে কারণেই হোক, কানাডীয়দের মধ্যে এখন দেশরক্ষার সচেতনতা বাড়ছে। জেনারেল কারিগনানের কাছে এখন নিয়মিত এমন নাগরিকদের আবেদন আসছে, যারা কোনো না কোনোভাবে দেশের জন্য কাজ করতে ইচ্ছুক।

কানাডায় আগে এমন কোনো পরিস্থিতি ছিল না। কিন্তু এখন চিত্র দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। কানাডার শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা জেনারেল জেনি কারিগনান এমন নাগরিকদের খুঁজছেন, যারা সামরিক হামলা বা ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দেশের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত।
জেনারেল কারিগনান বলেন, “আমাদের ভারী যন্ত্রপাতি চালানোর দক্ষ লোক, ড্রোন অপারেটর এবং সাইবার বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন।”
জেনারেল কারিগনান প্রায় ৪ লাখ সদস্যের একটি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা করছেন। ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর তুলে নিয়ে যাওয়ার সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে এর সরাসরি কোনো যোগসূত্র না থাকলেও, বিষয়টি যে একেবারে কাকতালীয় নয় তা স্পষ্ট। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন বারবার বলছেন যে, কানাডার স্বার্থেই দেশটির যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়া উচিত।
ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কানাডায় আক্রমণ চালাবে এটি প্রায় অসম্ভব। তবে দুই দেশের সম্পর্ক এখন আর আগের মতো সহজ নেই। ট্রাম্পের বক্তব্যের মধ্যে এক ধরনের প্রচ্ছন্ন চাপ কাজ করছে। কানাডা মূলত রাশিয়া ও চীনের অনুপ্রবেশ, সাইবার হামলা এবং জাতীয় অবকাঠামোর ওপর আক্রমণ নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। তবে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযান এবং গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের দাবির পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা এখন আর একেবারে অকল্পনীয় নয়।
ট্রাম্প যখন অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, ঠিক তখনই কানাডার জাতীয় প্রতিরক্ষা বিভাগ (ডিএনডি) বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠনের আলোচনা শুরু করে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সাবেক চিফ অব স্টাফ মার্কো মেনডিচিনো বলেন, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে সব ধরনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকাটাই দায়িত্বশীল আচরণ। এমন একটি স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী গঠন করা প্রয়োজন যা সরাসরি সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তা করতে পারবে।”

ডিএনডি ইতোমধ্যে ভবিষ্যতের যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় অবৈধ অভিবাসীদের ঢল সামাল দেওয়ার পরিকল্পনা এখন নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। ডেমোক্র্যাট-শাসিত অঙ্গরাজ্যগুলোতে ট্রাম্পের সেনা পাঠানোর আগ্রহ এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগকে ব্যবহারের প্রবণতা কানাডাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।
কানাডীয় যুদ্ধবিশারদদের মতে, এমন পরিস্থিতিও হতে পারে যেখানে রাশিয়া বা চীন কানাডার জ্বালানি বা পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হামলা চালিয়ে আমেরিকাকে ব্যস্ত রাখবে, আর সেই সুযোগে তারা বাল্টিক রাষ্ট্র বা তাইওয়ানে আক্রমণ করবে। জেনারেল কারিগনান জানান, তারা ইতোমধ্যে নিয়মিত সাইবার হামলা মোকাবিলা করছেন এবং যেকোনো চরম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জেনারেল কারিগনান মনে করেন, এই বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন নিয়ে ট্রাম্পের অসন্তুষ্ট হওয়ার কারণ নেই। কারণ ট্রাম্প নিজেই চেয়েছিলেন তার মিত্ররা যেন প্রতিরক্ষায় স্বাবলম্বী হয়। এই লক্ষ্যে ফিনল্যান্ডের বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য গত নভেম্বরে একটি দল সেখানে পাঠানো হয়েছিল। ফিনল্যান্ডে নাগরিকদের ৭২ ঘণ্টার জরুরি রসদ মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং প্রায় ৮৫ শতাংশ নাগরিকের জন্য আধুনিক ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারের ব্যবস্থা রয়েছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আগামী পাঁচ বছরে ৮২ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে, যার লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ নিশ্চিত করা। এই অর্থের বড় অংশ ব্যয় হবে উত্তর মেরু (আর্কটিক) অঞ্চলে, যেখানে রুশ ও চীনা নৌযানগুলোর তৎপরতা বাড়ছে।
কানাডার সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছে। একদিকে লাটভিয়ায় বাল্টিক প্রতিরক্ষা জোরদার, অন্যদিকে তাইওয়ান প্রণালিতে নৌ-মিশন এবং দেশের অভ্যন্তরে বন্যা-দাবানল সামলানোসব মিলিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছে। নতুন বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠিত হলে সেনাবাহিনী সামরিক হুমকিতে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ফিলিপ লাগাসে বলেন, কানাডা আগে কখনো আজকের মতো হুমকির মুখে পড়েনি। তিন দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল থাকার যে ‘আত্মতৃপ্তি’ কানাডার ছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসার সময় হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব বা বৈশ্বিক অস্থিরতা যে কারণেই হোক, কানাডীয়দের মধ্যে এখন দেশরক্ষার সচেতনতা বাড়ছে। জেনারেল কারিগনানের কাছে এখন নিয়মিত এমন নাগরিকদের আবেদন আসছে, যারা কোনো না কোনোভাবে দেশের জন্য কাজ করতে ইচ্ছুক।