
অভিবাসন অপরাধ দমনে সহযোগিতা জোরদারে একমত ঢাকা ও লন্ডন
চুক্তির আওতায় নথি ও ভিসা জালিয়াতিসহ অনিয়মিত অভিবাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অপরাধ শনাক্ত করা, অপরাধী চক্রের কার্যক্রম ব্যাহত করা এবং এসব অপরাধ মোকাবিলায় দুই দেশ আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।
চরচা প্রবাস ডেস্ক

সৌদি আরবপ্রবাসী শাহেদ আহমেদ আশিক জেদ্দায় পৌঁছে আবার ফোন করবেন, এমনটাই আশা করছিলেন তার স্ত্রী কাকলী বেগম। তিনি এমন একটি ফোনকলের অপেক্ষায় ছিলেন, কিন্তু সেই কল আর আসেনি।
সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন শাহেদ আহমেদ আশিক (৩৫)। তার মৃত্যুতে স্ত্রী, দুই শিশুসন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যদের জীবনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নয় ও চার বছর বয়সী দুই সন্তান হারিয়েছে তাদের বাবাকে। অন্যদিকে পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছেন স্ত্রী কাকলী।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
শাহেদ আহমেদ আশিক বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম ওরফে মিঠুর ছেলে।
তিনি তিন বছর ধরে সৌদি আরবে কাজ করছিলেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর দুই মাসের ছুটিতে দেশে ফেরেন পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর আশায়।
কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে চাকরি রক্ষার কথা ভেবে নির্ধারিত সময়ের আগেই সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। দেশে মাত্র এক মাস কাটিয়ে গত ৯ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যায় সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন। তার কর্মস্থল ছিল জেদ্দায়। রিয়াদ হয়ে সেখানে যাওয়ার কথা ছিল তার।
শাহেদের ভাই মাসুম রানা জানান, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে মুঠোফোনে স্ত্রীর সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলেন আশিক। তিনি স্ত্রী কাকলীকে জানান, রিয়াদে পৌঁছেছেন এবং জেদ্দায় যাওয়ার পর আবার ফোন করবেন।
স্বামীর কাছ থেকে সেটিই ছিল কাকলীর শেষ কথা শোনা।এরপর পরিবারের সদস্যরা আশিকের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি। তার অবস্থান সম্পর্কে উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন তারা। একপর্যায়ে তার মৃত্যুর খবর আসে।
গতকাল রোববার রাতে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তাইফুর রহমান প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাতে শাহেদ আহমেদ আশিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, শনিবার বেলা ৩টা ২০ মিনিটের দিকে ইরান-সমর্থিত হুতি বাহিনীর ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনালে আঘাত হানে। এতে শাহেদ আহমেদ আশিকসহ কয়েকজন যাত্রীর মৃত্যু হয়।
ইউএনও বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরিবারের সদস্যদের সহায়তা দিতে কর্মকর্তারা তাদের বাড়িতে গিয়েছেন। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সরকারি খরচে শাহেদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রিয়জনকে হারানোর শোক সামলে উঠতে পারছে না পরিবারটি। এই কঠিন সময়ে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
শাহেদ আহমেদ আশিকের বাবা রফিকুল ইসলামও কাজের জন্য সৌদি আরবে রয়েছেন। তার মা শাহেরা বেগম ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সেখানে গেছেন। ফলে বগুড়ার বাড়িতে কাকলী ও তার দুই শিশুসন্তানকে প্রিয়জন হারানোর শোকের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
কাকলীর কাছে এই ক্ষতি শুধু স্বামীকে হারানো নয়; সন্তানদের লালন-পালন ও তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দায়িত্ব যার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন, তাকেও হারানো।
শাহেদ আহমেদ আশিকের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে। আর বগুড়ায় তার পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষা করছেন প্রিয়জনকে শেষবারের মতো বিদায় জানানোর জন্য।

অভিবাসন অপরাধ দমনে সহযোগিতা জোরদারে একমত ঢাকা ও লন্ডন
চুক্তির আওতায় নথি ও ভিসা জালিয়াতিসহ অনিয়মিত অভিবাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অপরাধ শনাক্ত করা, অপরাধী চক্রের কার্যক্রম ব্যাহত করা এবং এসব অপরাধ মোকাবিলায় দুই দেশ আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।

জিবুতির উপকূলে নৌকাডুবিতে ১০৯ অভিবাসীর মৃত্যু
নৌকাটি জিবুতি থেকে ইয়েমেনের দিকে যাচ্ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে অথবা শুক্রবার সকালে এটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় ৫২ জন পুরুষ, ৪২ জন নারী ও ১৫ শিশু মারা গেছে। দুর্ঘটনা থেকে ৮০ জনের বেশি বেঁচে ফিরেছে। তবে অন্তত ১১৬ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

জনশক্তি রপ্তানির গণ্ডি ছাড়িয়ে ঢাকা-রিয়াদকে বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়তে হবে
বক্তারা বলেন, সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির আওতায় দেশটির পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে বাংলাদেশের কর্মশক্তি উন্নয়নকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে ন্যায্য নিয়োগপ্রক্রিয়া, শ্রমিকদের অধিকার এবং অভিবাসী কর্মীদের উন্নত সুরক্ষা।

রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকি দেশবিরোধী: রুহুল কবির রিজভী
শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে ‘জিয়া স্মৃতি পাঠাগার’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।