চিয়া সিড খাওয়ার আগে সাবধান!

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
চিয়া সিড খাওয়ার আগে সাবধান!
ছবি: ফ্রিপিক

চিয়া সিড আজকাল স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের ডায়েটে বেশ জনপ্রিয়। ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে হজমে সহায়তা, শক্তি বৃদ্ধি, এমনকি ওজন কমাতেও এটি কার্যকর বলে অনেকেই মনে করেন। চিয়া সিডে রয়েছে প্রচুর ফাইবার, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খনিজ উপাদান, যা শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ভারতের বেঙ্গালুরু শহরে ফোর্টিস হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ড. প্রণব হন্নাভারা শ্রীনিবাসন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, চিয়া সিডের কিছু উপাদান অতিরিক্ত পরিমাণে শরীরে গেলে তা স্বাস্থ্যে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তিনি পাঁচ ধরণের মানুষের কথা উল্লেখ করেছেন, যাদের চিয়া সিড খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে ৫ ধরণ। সেগুলো হলো–

১.যাদের গ্যাস, ফাঁপা পেট বা হজমের সমস্যা রয়েছে

চিয়া সিডে প্রচুর ফাইবার থাকে। বেশি পরিমাণে খেলে অনেকের পেট ফেঁপে যেতে পারে, হজমে সমস্যা বা অস্বস্তি হতে পারে। বিশেষ করে খালি পেটে খেলে এই সমস্যা বাড়ে। তাই প্রথমে অল্প পরিমাণে খেয়ে শরীরের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা জরুরি।

২.যাদের রক্তচাপ কম

চিয়া সিডে পটাশিয়াম ও অ্যালফা লিনোলেনিক অ্যাসিড থাকে, যা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। যাদের রক্তচাপ আগেই কম, তাদের জন্য এটি বিপজ্জনক হতে পারে। বেশি খেলে শরীর দুর্বল লাগতে পারে।

৩.যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খেয়ে থাকেন

চিয়া সিডে ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যা রক্তকে পাতলা করতে সাহায্য করে। ফলে যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান, তাদের শরীরে রক্তপাতের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এই ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া চিয়া সিডে খাওয়া উচিত নয়।

৪.যাদের বীজজাত খাবারে অ্যালার্জি রয়েছে

যদি তিল, সরিষা বা ফ্ল্যাক্সসিডে অ্যালার্জি থাকে, তবে চিয়া সিডেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। চুলকানি, লালচে দাগ, শ্বাসকষ্ট বা ফোলা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে খাওয়া বন্ধ করে চিকিৎসা নিতে হবে।

৫.যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে

চিয়া সিডে উচ্চমাত্রায় ফসফরাস ও পটাশিয়াম থাকে। এগুলো কিডনি রোগীদের জন্য ক্ষতিকর, কারণ কিডনি তখন এই খনিজগুলো ঠিকভাবে বের করতে পারে না। তাই প্রতিদিন ১–২ চামচের বেশি না খাওয়াই উত্তম।

ডা. শ্রীনিবাসন আরও জানান, চিয়া সিড সালভিয়া হিস্পানিকা উদ্ভিদ থেকে আসে এবং এতে প্রচুর দ্রবণীয় ফাইবার থাকে। পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এটি নিজের ওজনের প্রায় ১০–১২ গুণ পানি শোষণ করে জেলির মতো আকার নেয়। এই জেলি স্তরকে বলা হয় মিউসিলেজ, যা হজমপ্রক্রিয়ায় সহায়ক হলেও বেশি পরিমাণে খেলে পেট ভার, গ্যাস বা গিলতে অসুবিধা হতে পারে।

তাঁর পরামর্শ, প্রথমে প্রতিদিন এক চা চামচ দিয়ে শুরু করুন, পরে শরীর মানিয়ে গেলে ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়াতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শরীরের প্রতিক্রিয়া শোনা। অস্বস্তি, গিলতে সমস্যা বা বুকে ভার অনুভব করলে অবিলম্বে খাওয়া বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

সুতরাং, চিয়া সিড একটি পুষ্টিগুণে ভরপুর খাদ্য হলেও তা সকলের জন্য সমান নিরাপদ নয়। সঠিক পরিমাণে ও সচেতনভাবে খেলে এটি হতে পারে দেহের জন্য উপকারী, কিন্তু অবহেলায় হয়ে উঠতে পারে বিপদের কারণ।

সম্পর্কিত