চরচা ডেস্ক

ক্রেডিট কার্ডকে আধুনিক অর্থ ব্যবস্থাপনার ‘আলাদিনের চেরাগ’ বলা চলে। সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে এটি যেমন কেনাকাটায় স্বস্তি দেয়, তেমনি এনে দেয় ক্যাশব্যাক, রিওয়ার্ড পয়েন্টসহ নানা আকর্ষণীয় সুবিধা। কিন্তু চেরাগের জিনের যেমন কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে, ঠিক তেমনি ক্রেডিট কার্ডেরও আছে। ক্রেডিট কার্ড মানে পকেটে থাকা অতিরিক্ত কোনো টাকা নয়, এটি মূলত একটি সাময়িক ঋণ। আর তাই, আর্থিক বিপর্যয় এড়াতে এটি দিয়ে কোন কাজগুলো করা যাবে না–তা জানা প্রতিটি কার্ডধারীর জন্য অত্যন্ত জরুরি।
ক্রেডিট লিমিটের শেষ সীমা পর্যন্ত খরচ করা
আপনার ক্রেডিট কার্ডের একটি নির্দিষ্ট সীমা বা ক্রেডিট লিমিট থাকে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আপনাকে পুরো লিমিটটাই খরচ করতে হবে। আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রেডিট কার্ডের মোট লিমিটের ৩০ শতাংশের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। একে বলা হয় ক্রেডিট ইউটিলাইজেশন রেশিও।
যদি প্রতি মাসে লিমিটের কাছাকাছি বা পুরোটা খরচ করে ফেলেন, তবে ক্রেডিট ব্যুরো বা ব্যাংক আপনাকে একজন ‘ঝুঁকিপূর্ণ ঋণগ্রহীতা’ হিসেবে বিবেচনা করবে। ফলে আপনার ক্রেডিট স্কোর কমে যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে যেকোনো বড় ঋণ যেমন–হোম লোন বা কার লোন ইত্যাদির আবেদন অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
এটিএম থেকে নিয়মিত নগদ টাকা তোলা
জরুরি প্রয়োজনে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে এটিএম বুথ থেকে নগদ টাকা বা ক্যাশ অ্যাডভান্স তোলার সুবিধা থাকলেও এটি নিয়মিত করা একটি মস্ত বড় ভুল। সাধারণ কেনাকাটার ক্ষেত্রে ব্যাংক আপনাকে যে, ৪৫ থেকে ৫০ দিনের সুদমুক্ত সময় বা গ্রেস পিরিয়ড দেয়, ক্যাশ অ্যাডভান্সের ক্ষেত্রে কিন্তু তা প্রযোজ্য নয়। বুথ থেকে টাকা বের করার প্রথম দিন থেকেই এর ওপর উচ্চহারে সুদ গোনা শুরু হয়। এর সাথে যুক্ত হয় মোটা অঙ্কের প্রসেসিং ফি। তাই খুব জরুরি চিকিৎসা বা বড় কোনো সংকট ছাড়া ক্রেডিট কার্ড দিয়ে নগদ টাকা তোলা থেকে বিরত থাকুন।
কেবল ‘মিনিমাম ডিউ’ বা ন্যূনতম বকেয়া পরিশোধ করা
প্রতি মাসে বিল আসার পর অনেকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন, যখন দেখেন ‘মিনিমাম ডিউ’ বা ন্যূনতম পরিশোধের অঙ্কটি বেশ কম। আর এখানেই লুকিয়ে থাকে বড় ফাঁদ। আপনি যদি প্রতি মাসে শুধু এই ন্যূনতম অংশটি পরিশোধ করেন, তবে আপনি লেট ফি বা জরিমানা থেকে রক্ষা পেলেও বকেয়া টাকার ওপর চড়া হারে সুদ (যাকে APR বলা হয়) চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকবে। এভাবে চলতে থাকলে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আপনি একটি বড় ঋণের জালে জড়িয়ে পড়বেন। তাই নিয়ম হওয়া উচিত–প্রতি মাসে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা।

দীর্ঘমেয়াদি বা অপরিশোধ্য ঋণের পেছনে ব্যয়
ক্রেডিট কার্ড তৈরি হয়েছে মূলত আপনার দৈনন্দিন ও স্বল্পমেয়াদি লেনদেন সহজ করার জন্য। এটি দিয়ে কখনো এমন কোনো বড় বিনিয়োগ বা খরচ করা উচিত নয়, যা আপনি আগামী মাসের আয়ের মধ্যে পরিশোধ করতে পারবেন না। যেমন–শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ, ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনা, কিংবা এমন কোনো বিলাসবহুল পণ্য কেনা যার বিল পরিশোধের সক্ষমতা আপনার নেই। বিনিয়োগের বাজার ঝুঁকিপূর্ণ, তাই ধারের টাকা দিয়ে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত হিতে বিপরীত হতে পারে।
অনিরাপদ ও অপরিচিত প্ল্যাটফর্মে কার্ডের তথ্য ব্যবহার করা
অনলাইন শপিংয়ের যুগে সাইবার নিরাপত্তা একটি বড় ইস্যু। যেকোনো অপরিচিত ওয়েবসাইট, অনিরাপদ লিংকে কিংবা পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য (কার্ড নম্বর, এক্সপায়ারি ডেট, সিভিভি) ইনপুট করা যাবে না। এতে কার্ড ক্লোনিং বা হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে আপনার পুরো লিমিটের টাকা মুহূর্তেই চুরি হয়ে যেতে পারে। এবং ভুলেও ক্রেডিট কার্ড দিয়ে অনলাইনে জুয়া খেলতে যাবেন না। এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
ক্রেডিট কার্ড একটি চমৎকার আর্থিক সহযোগী, যদি আপনি এর রাশ টেনে রাখতে পারেন। এটি দিয়ে কী করা যাবে, তার চেয়ে কী করা যাবে না–তা মনে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। একটু সচেতনতা এবং নিয়ন্ত্রিত অভ্যাসই পারে আপনার ক্রেডিট কার্ডকে ঋণের ফাঁদ হতে না দিয়ে একটি নিরাপদ আর্থিক ঢাল হিসেবে টিকিয়ে রাখতে।

ক্রেডিট কার্ডকে আধুনিক অর্থ ব্যবস্থাপনার ‘আলাদিনের চেরাগ’ বলা চলে। সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে এটি যেমন কেনাকাটায় স্বস্তি দেয়, তেমনি এনে দেয় ক্যাশব্যাক, রিওয়ার্ড পয়েন্টসহ নানা আকর্ষণীয় সুবিধা। কিন্তু চেরাগের জিনের যেমন কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে, ঠিক তেমনি ক্রেডিট কার্ডেরও আছে। ক্রেডিট কার্ড মানে পকেটে থাকা অতিরিক্ত কোনো টাকা নয়, এটি মূলত একটি সাময়িক ঋণ। আর তাই, আর্থিক বিপর্যয় এড়াতে এটি দিয়ে কোন কাজগুলো করা যাবে না–তা জানা প্রতিটি কার্ডধারীর জন্য অত্যন্ত জরুরি।
ক্রেডিট লিমিটের শেষ সীমা পর্যন্ত খরচ করা
আপনার ক্রেডিট কার্ডের একটি নির্দিষ্ট সীমা বা ক্রেডিট লিমিট থাকে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আপনাকে পুরো লিমিটটাই খরচ করতে হবে। আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রেডিট কার্ডের মোট লিমিটের ৩০ শতাংশের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। একে বলা হয় ক্রেডিট ইউটিলাইজেশন রেশিও।
যদি প্রতি মাসে লিমিটের কাছাকাছি বা পুরোটা খরচ করে ফেলেন, তবে ক্রেডিট ব্যুরো বা ব্যাংক আপনাকে একজন ‘ঝুঁকিপূর্ণ ঋণগ্রহীতা’ হিসেবে বিবেচনা করবে। ফলে আপনার ক্রেডিট স্কোর কমে যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে যেকোনো বড় ঋণ যেমন–হোম লোন বা কার লোন ইত্যাদির আবেদন অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
এটিএম থেকে নিয়মিত নগদ টাকা তোলা
জরুরি প্রয়োজনে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে এটিএম বুথ থেকে নগদ টাকা বা ক্যাশ অ্যাডভান্স তোলার সুবিধা থাকলেও এটি নিয়মিত করা একটি মস্ত বড় ভুল। সাধারণ কেনাকাটার ক্ষেত্রে ব্যাংক আপনাকে যে, ৪৫ থেকে ৫০ দিনের সুদমুক্ত সময় বা গ্রেস পিরিয়ড দেয়, ক্যাশ অ্যাডভান্সের ক্ষেত্রে কিন্তু তা প্রযোজ্য নয়। বুথ থেকে টাকা বের করার প্রথম দিন থেকেই এর ওপর উচ্চহারে সুদ গোনা শুরু হয়। এর সাথে যুক্ত হয় মোটা অঙ্কের প্রসেসিং ফি। তাই খুব জরুরি চিকিৎসা বা বড় কোনো সংকট ছাড়া ক্রেডিট কার্ড দিয়ে নগদ টাকা তোলা থেকে বিরত থাকুন।
কেবল ‘মিনিমাম ডিউ’ বা ন্যূনতম বকেয়া পরিশোধ করা
প্রতি মাসে বিল আসার পর অনেকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন, যখন দেখেন ‘মিনিমাম ডিউ’ বা ন্যূনতম পরিশোধের অঙ্কটি বেশ কম। আর এখানেই লুকিয়ে থাকে বড় ফাঁদ। আপনি যদি প্রতি মাসে শুধু এই ন্যূনতম অংশটি পরিশোধ করেন, তবে আপনি লেট ফি বা জরিমানা থেকে রক্ষা পেলেও বকেয়া টাকার ওপর চড়া হারে সুদ (যাকে APR বলা হয়) চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকবে। এভাবে চলতে থাকলে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আপনি একটি বড় ঋণের জালে জড়িয়ে পড়বেন। তাই নিয়ম হওয়া উচিত–প্রতি মাসে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা।

দীর্ঘমেয়াদি বা অপরিশোধ্য ঋণের পেছনে ব্যয়
ক্রেডিট কার্ড তৈরি হয়েছে মূলত আপনার দৈনন্দিন ও স্বল্পমেয়াদি লেনদেন সহজ করার জন্য। এটি দিয়ে কখনো এমন কোনো বড় বিনিয়োগ বা খরচ করা উচিত নয়, যা আপনি আগামী মাসের আয়ের মধ্যে পরিশোধ করতে পারবেন না। যেমন–শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ, ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনা, কিংবা এমন কোনো বিলাসবহুল পণ্য কেনা যার বিল পরিশোধের সক্ষমতা আপনার নেই। বিনিয়োগের বাজার ঝুঁকিপূর্ণ, তাই ধারের টাকা দিয়ে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত হিতে বিপরীত হতে পারে।
অনিরাপদ ও অপরিচিত প্ল্যাটফর্মে কার্ডের তথ্য ব্যবহার করা
অনলাইন শপিংয়ের যুগে সাইবার নিরাপত্তা একটি বড় ইস্যু। যেকোনো অপরিচিত ওয়েবসাইট, অনিরাপদ লিংকে কিংবা পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য (কার্ড নম্বর, এক্সপায়ারি ডেট, সিভিভি) ইনপুট করা যাবে না। এতে কার্ড ক্লোনিং বা হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে আপনার পুরো লিমিটের টাকা মুহূর্তেই চুরি হয়ে যেতে পারে। এবং ভুলেও ক্রেডিট কার্ড দিয়ে অনলাইনে জুয়া খেলতে যাবেন না। এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
ক্রেডিট কার্ড একটি চমৎকার আর্থিক সহযোগী, যদি আপনি এর রাশ টেনে রাখতে পারেন। এটি দিয়ে কী করা যাবে, তার চেয়ে কী করা যাবে না–তা মনে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। একটু সচেতনতা এবং নিয়ন্ত্রিত অভ্যাসই পারে আপনার ক্রেডিট কার্ডকে ঋণের ফাঁদ হতে না দিয়ে একটি নিরাপদ আর্থিক ঢাল হিসেবে টিকিয়ে রাখতে।