শীতকালের আগেই শুরু হোক ত্বকের যত্ন

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
শীতকালের আগেই শুরু হোক ত্বকের যত্ন
শীতের শুরুতে কম আর্দ্রতা ও তীব্র বাতাস ত্বকের ওপর বিরুপ প্রভাব ফেলে। ছবি: ফ্রিপিক

শীতকাল আসি আসি করছে। এই সময়ে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা কম থাকা এবং তীব্র বাতাস ত্বকের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। যার ফলে শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া এবং অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই শীত এলেই নয়- শীত আসার কমপক্ষে দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে ত্বকের যত্নের রুটিন বদলে নেওয়া জরুরি।

শীতের রুক্ষ আবহাওয়া মোকাবেলার জন্য স্কিন ব্যারিয়ার মজবুত করতে হবে। গরমকালের তুলনায় শীতে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমে যায়, তাই ত্বক তার ব্যারিয়ার হারাতে থাকে। এই অবস্থায় হালকা জেল বেসড প্রোডাক্টের বদলে ক্রিমি, ময়েশ্চারাইজিং উপাদানযুক্ত পণ্য ব্যবহার শুরু করতে হবে। হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, সেরামাইড, স্কোয়ালেন বা গ্লিসারিনযুক্ত সিরাম ও ক্রিম স্কিন ব্যারিয়ার ভালো রাখে এবং ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে।

ত্বকের যত্নের রুটিন শুরু হবে ত্বক পরিষ্কার দিয়ে। শীতের আগে আগে ফোমিং বা বেশি কেমিক্যাল থাকে এমন ক্লিনজার বাদ দিয়ে ক্রিম বা মিল্ক ক্লিনজার ব্যবহার করুন। এতে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয় না এবং মুখ পরিষ্কার থাকলেও শুষ্কতা বাড়ে না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ময়েশ্চারাইজেশন। ছবি: ফ্রিপিক
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ময়েশ্চারাইজেশন। ছবি: ফ্রিপিক

এরপর আসে এক্সফোলিয়েশন। শীতকালে মৃত কোষ জমে ত্বক আরও নিস্তেজ লাগে। এগুলো দূর করতে এক্সফোলিয়েশন করতে হবে। কিন্তু অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন ত্বককে উল্টো সংবেদনশীল করে তোলে। তাই সপ্তাহে ১-২ বার ত্বকের জন্য সহনশীল স্ক্রাব বা ল্যাকটিক অ্যাসিডের মতো কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট ব্যবহারই যথেষ্ট। এতে ত্বক উজ্জ্বল থাকবে এবং ময়েশ্চারাইজার ভালো কাজ করবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ময়েশ্চারাইজেশন। রাতে ঘুমানোর আগে একটু ভারী নাইট ক্রিম বা অয়েল বেসড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বকে একটি প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি হয়, যা পুরো রাত ধরে আর্দ্রতা ধরে রাখে। ঠোঁট, কনুই, হাঁটু ও পায়ের গোড়ালিতে বিশেষভাবে যত্ন নিতে হবে, কারণ এগুলো সবচেয়ে আগে রুক্ষ হতে শুরু করে।

শীত মানেই রোদ কম এটা ভুল ধারণা। বরঞ্চ এই সময়ে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি বেশি থাকে। তাই সানস্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করা যাবে না। ইউভি রশ্মি শীতেও ত্বকের ক্ষতি করে, পিগমেন্টেশন বাড়ায়। তাই শীতের আগে থেকেই এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন রুটিনে রাখুন।

সবশেষে, ভেতর থেকে ত্বকের জন্য দরকার পানি এবং পুষ্টি। পর্যাপ্ত পানি, ভিটামিন সি ও ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার শরীরের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

শীতের আগে যত্ন শুরু মানেই পুরো মৌসুমে স্বাস্থোজ্জ্বল ত্বক। তাই এখনই রুটিন আপগ্রেড করুন, যাতে শীত আপনার ত্বককে অপ্রস্তুত অবস্থায় না পায়।

সম্পর্কিত