
সমাজে প্রবীণ নাগরিকদের গুরুত্ব কতটা?
গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে সিনিয়র সিটিজেন সপ্তাহ। সারা বিশ্ব ব্যাপী এটা পালিত হয় প্রবীণ নাগরিকদের সন্মান জানিয়ে। সেই উপলক্ষে প্রবীণ নাগরিকদের সবাইকে জানাই ‘সিনিয়র সিটিজেন’ সপ্তাহের শুভেচ্ছা!
প্রথাগত ৯টা থেকে ৫টা কাজের ব্যবস্থা এখন ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। রিমোট ও হাইব্রিড কাজের এই যুগে কর্মীরা নিজেদের সময়কে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেছেন। আর এই ভাবনার খোরাক জোগাচ্ছে একটি নতুন ধারণা, নাম তার ‘মাইক্রোশিফটিং’।
ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগে জীবনকে সাজাতে হতো কাজের চারপাশে। আর এখন কাজ সাজানো হচ্ছে জীবনকে কেন্দ্রে রেখে। কেউ হয়তো সকালে কিছুটা সময় নিয়ে ইমেইল সেরে ফেলছেন, দুপুরে বাচ্চাকে স্কুল থেকে আনছেন বা ব্যায়াম করছেন। আবার রাতেও হয়তো মনোযোগ দিচ্ছেন অফিসের কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজে। এই নতুন কর্মসংস্কৃতিকেই বলা হচ্ছে মাইক্রোশিফটিং।

আউল ল্যাবস-এর ২০২৫ সালে স্টেট অব হাইব্রিড ওয়ার্ক রিপোর্ট অনুযায়ী, অফিস কর্মীদের ৬৫ শতাংশ চান আরও সময়ের স্বাধীনতা। অন্যদিকে ডেপুটি’স দ্যা বিগ শিফট: ইউএস ২০২৫ শীর্ষক জরিপে দেখা গেছে, সার্ভিস খাতে কর্মরত জেন জি প্রজন্মের কর্মীরা ছোট ছোট শিফটে কাজ করতে আগ্রহী, যাতে তারা শিক্ষা, পারিবারিক দায়িত্ব ও একাধিক চাকরি একসঙ্গে সামলাতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথাগত ৯টা থেকে ৫টা কাজের মডেল এখন আর আধুনিক কর্মজীবনের সঙ্গে মানায় না। তাই অফিসের বসদের এখন নিয়ন্ত্রণ নয়, বিশ্বাসের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। নইলে তাদের হারাতে হবে সবচেয়ে যোগ্য কর্মীদের।
আসলে নাইন-টু-ফাইভ মডেল এসেছে শিল্পবিপ্লবের যুগ থেকে, যখন প্রোডাক্টিভিটি মাপা হতো ঘণ্টা ও কাজের পরিমাণে। কিন্তু আজকের কর্মক্ষেত্রে এটি পরিমাপ করা হয় সৃজনশীলতা, ফলাফল ও দক্ষতায়। তাই ঘড়ির কাঁটাই এখন আর শুধু সাফল্যের মাপকাঠি নয়।

মাইক্রোশিফটিং কী?
মাইক্রোশিফটিং মানে হলো একটানা আট ঘণ্টা নয়, বরং ছোট ছোট সময়ের ভাগে কাজ করা। এটি শুধু ফ্লেক্সিবল টাইমের মতো নয় (৯টার বদলে ১০টায় শুরু করা নয়), বরং দিনজুড়ে নিজের সুবিধামতো সময় অনুযায়ী কাজ করা। যেমন: একজন অভিভাবক সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত কাজ করেন, তারপর বাচ্চাকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে দুপুরে আবার কিছুক্ষণ কাজ করেন, রাতে সন্তান ঘুমিয়ে গেলে বাকি কাজ শেষ করবেন। এতে কাজ ও জীবনের মধ্যে এক ধরনের ছন্দ তৈরি হয়।
যেভাবে এলো
এই ধারণার উত্থানের পেছনে আছে নানা কারণ। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, যেসব কর্মজীবীর ঘরে সন্তান রয়েছে, তাদের জন্য নাইন-টু-ফাইভ সময়সূচি একেবারেই উপযোগী নয়। এ ধরনের অনেক বাবা–মা সেকেন্ড শিফটে কাজ করেন। বিকেলে কাজ ছেড়ে স্কুল থেকে বাচ্চা আনা, রাতের খাবার, ঘুম পাড়ানো, তারপর আবার রাতে লগইন করা। কিন্তু এখনকার অনেক বাবা–মা’ই উদ্বিগ্ন থাকেন, কারণ তারা মনে করেন সন্তান লালনপালন তাদের অফিসের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে। এই উদ্বেগ অফিসকেন্দ্রিক কর্মীদের মধ্যে বেশি (৭১%), আর রিমোট কর্মীদের মধ্যে কম (৪৮%)। তবে মাইক্রোশিফটিং এক্ষেত্রে ভারসাম্য আনতে পারে অপরাধবোধ ছাড়াই। আরেকটি বিষয় হলো, এতে কাজ ও জীবনের সীমারেখা মুছে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে ছোট ছোট শিফট শুধু সুবিধাজনক নয়, এখন অপরিহার্য।

বাধা যেখানে
মাইক্রোশিফটিংয়ের সবচেয়ে বড় বাধা হলো আস্থার অভাব। অনেক ম্যানেজার এখনো মনে করেন চোখের সামনে কাজ করলেই তা কাজে লাগে বেশি। অথচ জরিপ বলছে, ৬৯ শতাংশ ম্যানেজার বিশ্বাস করেন হাইব্রিড বা রিমোট টিম আরও বেশি প্রোডাক্টিভ।
তবুও কোম্পানিগুলো নজরদারি সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব নজরদারি সফটওয়্যার, ঘন ঘন মিটিং ও সময় মাপার সংস্কৃতি কর্মীদের মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে। ফলে জন্ম নিচ্ছে কোয়াইট ক্র্যাকিং (Quiet Cracking)। এতে করে কর্মীরা চুপচাপ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, কিন্তু কাজ চালিয়ে যান। মাইক্রোশিফটিং এই সমস্যা সমাধানে সহায়ক হতে পারে। এতে যখন প্রয়োজন, তখন বিরতি নিয়ে, পরে নতুন উদ্যমে ফিরে আসার সুযোগ মেলে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন সময় এসেছে ‘সময়’ নয়, দক্ষতা ও ফলাফল মাপার। অফিসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উচিত স্বচ্ছ যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করা। পাশাপাশি প্রযুক্তিকে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা এবং সব ভূমিকার কর্মীদের জন্য সমান নমনীয়তা নিশ্চিত করা।
তবে হ্যাঁ, নাইন-টু-ফাইভ জব একসময়ের প্রয়োজন ছিল বটে। কিন্তু আজকের প্রজন্ম আসলে চায় নিজের ছন্দে কাজ করতে।

দীর্ঘদিন ধরে মানুষ জীবন সাজিয়েছে চাকরিকে মূখ্য ধরে, এখন তারা চায় উল্টোটা। আর এজন্য বেতন কম নিতে বা চাকরি বদলাতেও এরা প্রস্তুত!
সুতরাং, কর্মক্ষেত্রে ধীরে ধীরে পরিবর্তন যে আসবেই, সেটি একপ্রকার নিশ্চিত। এসব পরিবর্তনকে পুরোপুরি অগ্রাহ্য করলে আদতে প্রতিষ্ঠানগুলোর খুব একটা লাভ হবে না। উল্টো পরিবর্তনে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানগুলো হারাবে কর্মীদের আস্থা, সৃজনশীলতা ও আনুগত্য!

সমাজে প্রবীণ নাগরিকদের গুরুত্ব কতটা?
গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে সিনিয়র সিটিজেন সপ্তাহ। সারা বিশ্ব ব্যাপী এটা পালিত হয় প্রবীণ নাগরিকদের সন্মান জানিয়ে। সেই উপলক্ষে প্রবীণ নাগরিকদের সবাইকে জানাই ‘সিনিয়র সিটিজেন’ সপ্তাহের শুভেচ্ছা!

সম্রাট শাহজাহানের পছন্দের কাচ্চি বিরিয়ানি রাঁধে কীভাবে?
ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, সম্রাট শাহজাহানের হেঁশেলেই আজকের মাটন বিরিয়ানির আদি রূপ রান্না হতো। আর এর প্রমাণ মেলে ওই আমলের কুকবুক ‘নুশখা-ই-শাহজাহানি’তে। ‘নি’মতনামা-ই-নাসির শাহি’, ‘আইন-ই-আকবরি’তেও অনেক খাবারের উল্লেখ থাকলেও ‘বিরিয়ানি’ পাওয়া যায় না।

শিশুর ডেঙ্গু হলে করণীয় কী?
অনেক অভিভাবক শুরুতে জ্বরকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর মনে করে বাড়িতেই চিকিৎসা চালিয়ে যান। কিন্তু ডেঙ্গুতে দেরিতে চিকিৎসা শুরু হলে ঝুঁকি বেড়ে যায়, বিশেষ করে প্লাটিলেট কমে গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।

কীভাবে বুঝবেন আপনি গরিব?
নিয়মিত বেতন পেয়ে মোটামুটি ভালোভাবে জীবনযাপন করলেও কিন্তু আর্থিক সমস্যা থাকতে পারে। আপনি দৈনন্দিন বিলগুলো হয়তো পরিশোধ করতে পারছেন, কিন্তু হুট করে বড় কোনো খরচ এসে পড়লে সমস্যায় পড়ে যান। তবে এসব লক্ষণ থাকলেই কাউকে গরিব বলা যায় না। এতে বোঝা যায় যে আপনি আর্থিকভাবে চাপে আছেন।