জুলাই আন্দোলনে মোহাম্মদপুরে মালবাহী ট্রাক চালক মো. হোসেনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় কারাবন্দী সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে আদালতে হাজির করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে তাকে আদালতে আনা হয়।
প্রিজন ভ্যান থেকে তাকে নামানো হলে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, “হাসপাতাল থেকে আসছি, দোয়া করবেন।”
তবে জুনাইদ আহমেদ পলককে কোন হাসপাতাল থেকে আনা হয়েছে সেটা বলেননি। পরে তাকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়।
পলকের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জানান, দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডে সমস্যা হওয়ার কারণে সাবেক এ মন্ত্রীকে ডাক্তার ম্যাগনেটিক থেরাপি দিতে বলেছিল। পরে আমরা আবেদন করলে সেটি নিয়ে মিডিয়ায় খুব আলোচনা হয়। এজন্য তাকে এখন থেরাপি দেওয়া হচ্ছে। এজন্য পলক সাংবাদিকদেরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ট্রাক চালক মো. হোসেন হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে ৷ এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পলকসহ মোট ৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এ শুনানি হবে।
এর আগে জুলাই আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই ঢাকার মোহাম্মদপুরে মালবাহী ট্রাকচালক মো. হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন সাজ্জাদ ও শাহিন নামে দুই ব্যক্তি। হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা মোসা. রীনা বেগম ২০২৪ সালের ৩১ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
তদন্ত শেষে গত বছরের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক মো.আকরামুজ্জামান ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
শেখ হাসিনা বাদে অপর আসামিরা হলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু, তোফায়েল সিদ্দিক ওরফে তুহিন, রহমান মিয়া ওরফে এ কে এম অহিদুর রহমান, পলাশ, ওলিউর রহমান, খলিলুর রহমান, ইমন, এস এম রিয়াজুল হক তামিম, মাসুদুর রহমান বিপ্লব, আব্দুস সাত্তার ভূইয়া ওরফে এম এ সাত্তার, পারভেজ ওরফে গোলডেন পারভেজ, সুমন মিয়া ওরফে কাইল্লা সুমন, মিলন হোসেন, সোহেল ওরফে ভূইয়া সোহেল ওরফে বুনিয়া সোহেল, সলিম উল্লাহ সলু, ইরফান, মুহাম্মদ বদিউল আলম ওরফে বদিউজ্জামান, ফুরকান হোসেন, শাহজাহান খান, সাজ্জাদ হোসেন, ফারুক হোসেন অভি, নাইমুল হাসান রাসেল। আসামিদের মধ্যে পলক, সাদেক, ফুরকান ও শাহজাহান কারাগারে আটক রয়েছেন।