আরাকান আর্মি (এএ) ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ রাখাইন রাজ্যে ‘চূড়ান্ত বিজয়’ অর্জন করবে বলে জানিয়েছেন গোষ্ঠীটির কমান্ডার-ইন-চিফ মেজর জেনারেল তওয়ান ম্রাত নাইং। গত শুক্রবার দলটির ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন। মিয়ানমার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার নাউয়ে প্রকাশিত এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
২০২৩ সালের শেষভাগ থেকে আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যের ১৪টি টাউনশিপ এবং দক্ষিণ চিন রাজ্যের পালেতওয়া টাউনশিপ দখল করে নিয়েছে। বর্তমানে রাখাইন রাজ্যের মাত্র তিনটি টাউনশিপ, রাজধানী সিত্তওয়ে, কিয়াকফিউ এবং মানাউং—এখনও জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তওয়ান ম্রাত নাইং বলেন, “আমরা পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সাথে যা করা প্রয়োজন তা চালিয়ে যাব।” তিনি আরও যোগ করেন যে, মিয়ানমারের দমনমূলক সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে তাদের অভিন্ন শত্রুর মোকাবিলায় মিত্রদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই অব্যাহত রাখবে আরাকান আর্মি।
আরাকান আর্মি ২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর রাখাইন রাজ্যে এই অভিযান শুরু করে। এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে উত্তর শান রাজ্যে ‘অপারেশন ১০২৭’ শুরু করেছিল ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স, যার অন্যতম সদস্য এই সামরিক বাহিনী।
অভিযান শুরুর পর থেকে গোষ্ঠীটি কেবল সামরিক সাফল্যই পায়নি, বরং তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে আদালত, স্কুল এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রসহ নিজস্ব প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে জান্তা বাহিনীর অব্যাহত বিমান ও নৌ-হামলার কারণে রাজ্যের অনেক অংশে বেসামরিক মানুষ এখনো বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের অন্য দুই সদস্য—মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি এবং তায়াং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি—আরাকান আর্মিকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছে।