চরচা ডেস্ক

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে খোলা চিঠি লিখেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাগনেস ক্যালামার্ড।
গত সোমবার লেখা চিঠিটি অ্যামনেস্টির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
চিঠিতে ক্যালামার্ড লিখেছেন, “বাংলাদেশ যখন অন্তর্বর্তী সরকারের তত্ত্বাবধানে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে, ঠিক এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমি আপনাকে লিখছি। এই সময়টি একদিকে যেমন বড় দায়িত্বের, তেমনি জন আস্থা পুনরুদ্ধার, সুশাসন জোরদার এবং মানবাধিকার ও আইনের শাসনের পূর্ণ সম্মান নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও বটে।“
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তাদের কথিত রাজনৈতিক মতাদর্শ বা সম্পৃক্ততার কারণে অপব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে চিঠিতে লেখা হয়, “এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২৮ আগস্ট সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করা হয়। এর এক দিন আগে মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান নিয়ে একটি গোলটেবিল আলোচনায় তাকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমর্থক এবং অন্তর্বর্তী সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে জড়িত বলে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।”
ক্যালামার্ড লিখেন, “২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর কিছু বিক্ষোভকারী সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে। তারা দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর কার্যালয়ে আগুন দেয়, ছায়ানট ও উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী-এই দুটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় এবং ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ-এর সম্পাদক নূরুল কবীরকে হয়রানি করে। একই সময় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের একজন পোশাকশ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে একদল উচ্ছৃঙ্খল জনতা পিটিয়ে হত্যা করে। এসব ঘটনা মানবাধিকারের গুরুতর ব্যর্থতার প্রমাণ। এর মধ্যে রয়েছে আইসিসিপিআর-এর ৬,৯ ও ১৯ অনুচ্ছেদে সুরক্ষিত জীবনাধিকার, ব্যক্তির নিরাপত্তার অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার লঙ্ঘন।”
সবশেষে তিনি বলেন, “এই প্রেক্ষাপটে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অন্তর্বর্তী সরকারকে আসন্ন নির্বাচনের কেন্দ্রে মানবাধিকার সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সাংবাদিক ও সমালোচকদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা আইন অপব্যবহার বন্ধ করা, অধিকার প্রয়োগকারীদের সুরক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ও আইনসম্মত পদক্ষেপ নিশ্চিত করা এবং গণমাধ্যমকর্মী ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা। নির্বাচন-পূর্ব সময়কাল হবে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ও আইনের শাসনের প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের অঙ্গীকারের এক কঠিন পরীক্ষা। এই সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো আগামী বহু বছর ধরে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণ করবে।”

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে খোলা চিঠি লিখেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাগনেস ক্যালামার্ড।
গত সোমবার লেখা চিঠিটি অ্যামনেস্টির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
চিঠিতে ক্যালামার্ড লিখেছেন, “বাংলাদেশ যখন অন্তর্বর্তী সরকারের তত্ত্বাবধানে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে, ঠিক এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমি আপনাকে লিখছি। এই সময়টি একদিকে যেমন বড় দায়িত্বের, তেমনি জন আস্থা পুনরুদ্ধার, সুশাসন জোরদার এবং মানবাধিকার ও আইনের শাসনের পূর্ণ সম্মান নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও বটে।“
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তাদের কথিত রাজনৈতিক মতাদর্শ বা সম্পৃক্ততার কারণে অপব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে চিঠিতে লেখা হয়, “এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২৮ আগস্ট সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করা হয়। এর এক দিন আগে মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান নিয়ে একটি গোলটেবিল আলোচনায় তাকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমর্থক এবং অন্তর্বর্তী সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে জড়িত বলে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।”
ক্যালামার্ড লিখেন, “২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর কিছু বিক্ষোভকারী সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে। তারা দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর কার্যালয়ে আগুন দেয়, ছায়ানট ও উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী-এই দুটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় এবং ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ-এর সম্পাদক নূরুল কবীরকে হয়রানি করে। একই সময় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের একজন পোশাকশ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে একদল উচ্ছৃঙ্খল জনতা পিটিয়ে হত্যা করে। এসব ঘটনা মানবাধিকারের গুরুতর ব্যর্থতার প্রমাণ। এর মধ্যে রয়েছে আইসিসিপিআর-এর ৬,৯ ও ১৯ অনুচ্ছেদে সুরক্ষিত জীবনাধিকার, ব্যক্তির নিরাপত্তার অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার লঙ্ঘন।”
সবশেষে তিনি বলেন, “এই প্রেক্ষাপটে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অন্তর্বর্তী সরকারকে আসন্ন নির্বাচনের কেন্দ্রে মানবাধিকার সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সাংবাদিক ও সমালোচকদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা আইন অপব্যবহার বন্ধ করা, অধিকার প্রয়োগকারীদের সুরক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ও আইনসম্মত পদক্ষেপ নিশ্চিত করা এবং গণমাধ্যমকর্মী ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা। নির্বাচন-পূর্ব সময়কাল হবে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ও আইনের শাসনের প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের অঙ্গীকারের এক কঠিন পরীক্ষা। এই সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো আগামী বহু বছর ধরে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণ করবে।”