Advertisement Banner

অলৌকিকের অপেক্ষায় কোরিয়া

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
অলৌকিকের অপেক্ষায় কোরিয়া
স্বপ্নটা ফিকে হয়ে গেল দক্ষিণ কোরিয়ার। ছবি: রয়টার্স

দক্ষিণ কোরিয়ার শুরুটা হয়েছিল দারুণ। চেক প্রজাতন্ত্রকে শুরুর দিনই ২–১ গোলে হারিয়ে বার্তাটা ছিল পরিস্কার—এবার গ্রুপ পর্ব ছাড়িয়ে অনেক দূরে যাওয়ার স্বপ্ন তাদের। কিন্তু বোঝা যায়নি ওই স্বপ্নটা এত দ্রুতই ফিকে হয়ে যাবে। আলো ছড়িয়ে শুরুর পর সেই কোরিয়াই এখন গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের পথে।

অলৌকিক কিছুর প্রত্যাশাই এখন। দ্বিতীয় ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে গোলরক্ষকের অমার্জনীয় ভুলে হেরে যাওয়ার পর আজ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও হেরেছে কোরিয়া। পর দুই ম্যাচে তারা এতটাই হতাশ করেছে, বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও কোরিয়াকে মিস করার মতো খুব বেশি কেউ থাকবে না।

অথচ সমীকরণটা ছিল খুবই সহজ। গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করতে কোরিয়ার দরকার ছিল মাত্র ১টি পয়েন্ট। কিন্তু সেই সহজ কাজটাই কঠিন করে তুলল তারা। এখন তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য দলগুলোর ফলাফলের দিকে—যদি কপাল ভালো থাকে, তবে অন্য গ্রুপের সেরা তৃতীয় দলগুলোর একটি হয়ে হয়তো কোনোমতে শেষ ৩২-এ জায়গা মিললেও মিলতে পারে।

কোরিয়ান কোচ হং মিউং-বো’র উচিত মেক্সিকোকে একটা ধন্যবাদ পাঠানো। কারণ, মেক্সিকো অলরেডি গ্রুপের শীর্ষে থাকা নিশ্চিত করে ফেলার পরও চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে দিয়েছে। চেক দল যদি জিতে যেত, তবে কোরিয়াকে গ্রুপ টেবিলের একেবারে তলানিতে থেকে বিদায় নিতে হতো।

ফিফা র‍্যাংকিংয়ে কোরিয়ার চেয়ে ৩৮ ধাপ পিছিয়ে থাকা ৬১ নম্বরের দল দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচের এক ঘণ্টার মাথায় তাদের খেলোয়াড় থাপেলো মাসাকো গোল করে বসেন। আর এই এক গোলেই ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পৌঁছে গেছে আফ্রিকান দলটি।

সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, র‍্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকা দলের বিপক্ষেও কোরিয়ার খেলায় কোনো সৃজনশীলতা ছিল না। এখন যদি কেউ মনে করে প্রথম ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে দেওয়াটা সম্ভব হয়েছে চেকদের বাজে পারফরম্যান্সের কারণেই—এমনটা কেউ ভাবলে তাকে খুব দোষ দেওয়া যায় না।

দলের সেরা তারকা সন হিউং–মিন আজ ছিলেন না কোরিয়ার প্রথম একাদশে। অবশ্য প্রথম দুই ম্যাচে সনের পারফরম্যান্স খুব একটা ভালো ছিল না। কিন্তু তাকে ছাড়া আজ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পারফরম্যান্স এমনই ছিল যে দ্বিতীয়ার্ধেই নামতে হয় সনকে।

সেখানে অলৌকিক কিছুরই দরকার ছিল। সেটা হয়নি। এখন রাউন্ড অব ৩২–এ যেতে সেই অলৌকিকতার অপেক্ষাতেই থাকতে হচ্ছে এশিয়ার প্রতিনিধিদের।

সম্পর্কিত