ছয় উইকেট হাতে নিয়ে যখন দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ, তখন নজর ছিল ৪৫০ থেকে ৫০০ রানের দিকেই। ক্রিজে ছিলেন সেট মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। মেহেদি হাসান মিরাজ তো ছিলেনই। তবে ৪ উইকেটে ৩০১ রান থেকে স্রেফ ব্যাটসম্যানদের উদাসীনতায় চারশ রানের পরপরই গুটিয়ে গেছে প্রথম ইনিংস।
পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ শেষ পাঁচ উইকেট হারিয়েছে ৫৯ রানে। এই ব্যর্থতায় ইনিংস থেমেছে ৪১৩ রানেই। চা বিরতিতে পাকিস্তান বিনা উইকেটে করেছে ৫০ রান।
প্রথম দিনের শেষ ঘণ্টায় লিটন মাটি কামড়ে ক্রিজে থেকে দিন পার করে দেন। স্ট্রাইক রেট ছিল মাত্র ২২! তবে দ্বিতীয় দিনের শুরু থেকেই তিনি ছিলেন আগ্রাসী। শাহিন শাহ আফ্রিদির এক ওভারে তিনটি বাউন্ডারি মারার পর ইনিংস এগিয়ে নিতে চাচ্ছিলেন দ্রুততার সঙ্গেই।
অন্যপ্রান্তে মুশফিক ধীরেসুস্থে ফিফটি করেন। তবে লিটন পারেননি ইনিংস বড় করতে। ৩৩ রানে থাকা অবস্থায় উইকেট উপহার দিয়ে আসেন মোহাম্মদ আব্বাসকে। অহেতুক অফ স্টাম্পের বাইরের বল লেগ সাইডে টেনে মারতে গিয়ে মিড-অনে ক্যাচ তুলে দেন।
লিটনের ভুল থেকে শিক্ষা নেননি মিরাজও। করেছেন ১০ রান, যা এসেছে চার ও ছক্কার মারে। জুটি গড়ার চেয়ে অতিরিক্ত আগ্রাসী হতে গিয়ে আব্বাসের শিকার হন তিনিও।
এরপর কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত মুশফিকুরও (৭১ রান) পারেননি ইনিংসটা বড় করতে। তাসকিন আহমেদ বাদে টেলএন্ডাররাও পারেননি বলার মতো অবদান রাখতে। তার ব্যাট থেকে আসে ১৯ বলে ২৮ রানের ক্যামিও।
এরপরও বিশাল স্কোরের আশা জাগিয়েও সেটা আর পারেনি স্বাগতিকরা। উইকেটে যে খুব বিশেষ কিছু হয়নি, সেটা বুঝিয়ে দেন পাকিস্তানের ওপেনাররা। তবে আক্রমণে নাহিদ রানা আসতেই বদলে যায় চিত্র। প্রথম বলেই বাউন্সারে আঘাত হানেন আজান আয়াজের হেলমেটে।
পরের ওভারে ইমাম-উল-হককে প্রায় ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন ইবাদত হোসেন। তবে ড্রাইভ করতে গিয়ে তার স্লিপে দেওয়া ক্যাচ ঝাঁপিয়ে তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন মাহমুদুল হাসান।
শুরু থেকেই ছন্দে থাকা নাহিদ দ্বিতীয় ওভারেই হতাশ হন। ইমামের বিপক্ষে লেগ বিফোরের আবেদন করে সফল হয়েছিলেন। তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান পাকিস্তানের ওপেনার। তাতে দুই ওপেনার চা বিরতিতে গেছেন আজান (১৮*) ও ইমাম (২৮*) রানে।