রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের তৈরি কোনো সমস্যা নয় এবং এই সংকটের ভারী বোঝা চিরকাল বহন করা দেশের পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ‘বে অফ বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’ এর গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত ‘দ্য ফার্স্ট কনভার্সেশন: এ ওয়ার্ল্ড রিরাইটেন—পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন দ্য এজ অব আনসার্টেনটি' শীর্ষক উদ্বোধনী সেশনে এই বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
শামা ওবায়েদ বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বহুমুখী ও জটিল পরিস্থিতি নিরসনে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোর বিদ্যমান চিত্র তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, শিবিরে বসবাসরত তরুণ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, চিকিৎসা, খাদ্য ও নিরাপত্তার চরম ঘাটতি রয়েছে। সেখানে প্রতি বছর প্রায় ৩০ হাজার শিশু জন্মগ্রহণ করায় এবং প্রতিনিয়ত নতুন করে শরণার্থী আসার ফলে এই মানবিক সংকট দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এছাড়া মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের সীমান্তে তৈরি হওয়া নতুন নিরাপত্তাসংকটের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
সংকট নিরসনে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন ও মালয়েশিয়া সফরে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টিতে চীন কীভাবে বড় ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এই সমস্যা সমাধানে কেবল প্রতিবেশী দেশগুলোই নয়, বরং আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্রসমূহ, পশ্চিমা বিশ্ব ও ইসলামিক দেশগুলোসহ পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে বলেও জানান তিনি।
টাইম ম্যাগাজিনের এডিটর-অ্যাট-লার্জ চার্লস থমাস ক্যাম্পবেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সেশনে আরও বক্তব্য দেন ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিস্টিনগুইশড প্রফেসর আলী রীয়াজ, সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ, বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন অ্যালেকজান্ডার ফাল্ক-বিলডেন এবং মন্টেনিগ্রোর সংসদ সদস্য গর্ডন স্তোযোভিচ।