বিদেশি কর্মীদের ভিসায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় কাজ করা বিদেশি কর্মীরা চাকরি হারানোর পর নতুন চাকরি খুঁজতে যে ৬০ দিন সময় পান, সেই সুযোগ বাতিল হয়ে যাবে। ফলে চাকরি হারানোর পর এইচ-১বি ভিসাধারীদের দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার অনলাইনে প্রকাশিত সরকারি এক নোটিশের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রস্তাবটি প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, এইচ-১বি এবং নির্দিষ্ট কিছু অস্থায়ী কাজের ভিসাধারীদের চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে।
এতে বিদেশি কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় দফায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বৈধ অভিবাসন সীমিত করতে ডোনাল্প ট্রাম্প প্রশাসন যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, এটি তার সর্বশেষ উদ্যোগ।
এর আগে দক্ষ কর্মীদের জন্য ভিসার ফি বাড়ানো হয়েছিল। সম্প্রতি নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর প্রস্তুতির কারণে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মার্কিন মিশনে অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকারও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
ডিএইচএস তাদের প্রস্তাবে লিখেছে, এই পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানিগুলো কিছুটা সমস্যায় পড়তে পারে। তবে সংস্থাটি বলেছে, এসব চাকরি এর পরিবর্তে মার্কিন কর্মীদের দেওয়া যেতে পারে।
এতে আরও বলা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়া অভিবাসী কর্মীরা তাদের নিয়োগকর্তা আবেদন করলে আবারও কাজের জন্য দেশটিতে ফিরতে পারবেন।
নোটিশে বলা হয়েছে, কর্মীদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো একই পদে সমান যোগ্যতার মার্কিন নাগরিকদের নিয়োগ করবে অথবা আই-১২৯ আবেদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে। মূলত এটাই ডিএইচএসের ধারণা।
২০১৭ সাল থেকে চালু থাকা ৬০ দিনের এই সুযোগের ফলে চাকরি হারানোর পর বিদেশি কর্মীদের নতুন চাকরি খোঁজার সময় দেয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে বাড়ি বিক্রি করা বা সন্তানদের স্কুল থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় কাজ গুছিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পান তারা।