সাংহাই কো–অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সদস্যপদ লাভের লক্ষ্যে তাজিকিস্তানের সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ।
আজ বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম তাজিকিস্তানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ইদিবেক কালান্দারের সঙ্গে বৈঠকে এ সমর্থন কামনা করেন।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বৈঠকে তাজিকিস্তানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের এসসিও সদস্যপদের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া এবং এ ক্ষেত্রে তাজিকিস্তানের সমর্থনের আশ্বাস দেন।
কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানসহ মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশ এসসিওর সদস্য।
বৈঠকে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি এ বিষয়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের পক্ষে তাজিকিস্তানের সমর্থন কামনা করেন।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি যৌথ আন্তর্জাতিক দায়িত্ব এবং এর সমাধানে সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
বাংলাদেশকে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে সোচ্চার দেশ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, কূটনৈতিক পরিসর ও ভূরাজনৈতিক সংযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পূর্ব ইউরোপ এবং স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের কমনওয়েলথ (সিআইএস) অঞ্চলের মতো সম্ভাবনাময় কিন্তু তুলনামূলকভাবে কম সম্পৃক্ত এলাকাগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
দুই দেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বাণিজ্য, ব্যবসা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার হিসেবে অর্থনৈতিক কূটনীতি এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন।
এ ছাড়া, শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, পর্যটন, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও জ্ঞান বিনিময়, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী ও যুব উদ্যোক্তা উন্নয়নের মতো ‘সফট পাওয়ার’ কূটনীতির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী তরুণদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সরকার-টু-সরকার সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।