ভিয়েতনাম দেশটির সবচেয়ে বড় ও উন্নত দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সাবমেরিন বিধ্বংসী ফ্রিগেট নির্মাণ শুরু করেছে বলে সামরিক মালিকানাধীন একটি সংবাদপত্র জানিয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দানাং শহরের সং থু শিপইয়ার্ডে জাহাজটি নির্মাণ করা হচ্ছে। দেশটির সংবাদপত্র ‘কোয়ান দই নান দান’ সোমবার রাতে জানিয়েছে, জাহাজটির অধিকাংশ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামও দেশে তৈরি অথবা সংযোজন করা হবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে চীনসহ অন্য দাবিদার দেশের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সামুদ্রিক বিরোধে জড়িয়ে থাকা ভিয়েতনাম নিজেদের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে মূলত রাশিয়া থেকে আমদানি করা সামরিক সরঞ্জামের ওপর নির্ভরতা কমাতেও কাজ করছে দেশটি।সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভিয়েতনাম এমন একটি প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার নীতি বাস্তবায়ন করছে, যা হবে “স্বায়ত্তশাসিত, স্বনির্ভর, সক্ষমতা বৃদ্ধিমুখী, দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য এবং আধুনিক।”
প্রতিবেদনে বলা হয়, সামরিক বাহিনী পরিচালিত টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ভিয়েতেল এবং অন্য প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উৎপাদন ইউনিট জাহাজটি নির্মাণের সময় নৌবাহিনী ও সং থু শিপইয়ার্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। এর মধ্যে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরি এবং জাহাজে সেগুলো স্থাপনের কাজও থাকবে।
গত কয়েক দশকে ভিয়েতনামের নৌবাহিনীতে বড় ধরনের আধুনিকায়ন হয়েছে। এর অংশ হিসেবে রাশিয়ার তৈরি কিলো শ্রেণির সাবমেরিন ও গেপার্ড শ্রেণির ফ্রিগেট কেনার পাশাপাশি দেশীয়ভাবে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রবাহী নৌযান ও টহল জাহাজের বহরও বাড়িয়েছে দেশটি।
আগামী ডিসেম্বর ভিয়েতনাম রাজধানী হ্যানয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীর আয়োজন করবে। দুই বছর পরপর আয়োজিত এই প্রদর্শনীর এটি হবে তৃতীয় আসর। দেশীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন বাড়ানো এবং সামরিক সরঞ্জামের উৎসে বৈচিত্র্য আনার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ভিয়েতনাম এই আয়োজন করছে।