Advertisement Banner

দাবি-দাওয়া না, এখন দেশের জন্য কী করা যায় তা চিন্তা করুন: প্রবাসীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
‘দাবি-দাওয়া না, এখন দেশের জন্য কী করা যায় তা চিন্তা করুন’
প্রবাসীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মতবিনিময় সভা। ছবি: পিএমও

প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘‘আর নিজদের দাবি-দাওয়া নয়, এখন দেশের জন্য কী করা যায় এটা চিন্তা করুন।’’ তিনি বলেন, ‘‘আসুন আমরা সকলে মিলে দেশের জন্য কিছু করার চিন্তা করি, যাতে সকলে মিলে ভালো থাকতে পারি।’’

রোববার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায় কুয়ালালামপুরে হোটেল শাংগ্রি লা হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, ‘‘প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আজকে আমাদের কী দাবি আছে সেটা থেকে বেরিয়ে এসে আসুন আমরা চিন্তা করি, আমাদের কী কর্তব্য আছে দেশের প্রতি? হোয়াট উই ক্যান ডু ফর কান্ট্রি।’’

‘‘আসুন আজকে থেকে আমরা চিন্তা করি, আমরা কী করতে পারি দেশের জন্য? এটাই হোক আমাদের আজকের চিন্তা… আপনাদের কাছে এই আশা রাখছি।”

গত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদ শাসনে দেশের অবস্থা তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘দেখুন দেশ থেকে কেউ একজন, একটি গোষ্ঠী দেশ থেকে নিতে নিতে দেশটিকে একদম শেষ করে দিয়েছে আজকে, দেশটাকে একদম ধবংস করে দিয়েছে। ঠিক আছে হয়েছে… কী করার… কিছু করার ছিল না, আমরা চেষ্টা করেছি, বুকের রক্ত দিয়েছে মানুষ দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করেছে।”

রাত সাড়ে ৯টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শাংগ্রি লা হোটেলে পৌঁছানো পর মালয়েশিয়া প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

দেশ গঠনের নিজের চিন্তা ও পরিকল্পনাগুলো প্রবাসীদের কাছে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন কর্মসূচিগুলো নিয়ে কথা বলেন তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি আমার চিন্তার কথাগুলো আপনাদেরকে বলেছি। দোয়া করবেন যাতে এইগুলার বাস্তবায়ন আমরা করতে পারি।”

এসময় প্রধানমন্ত্রী গল্পের মতো নিজের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা বলতে থাকেন। উপস্থিত প্রবাসী মনোযোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনেন এবং মাঝে মাঝে করতালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী চিন্তাভাবনার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘দেখুন বিশেষ করে ওয়ান ইলেভেনের পরে এবং তারপরেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সময় কতগুলো ঘটনা ঘটেছিল আমার সাথে, কতগুলা ঘটনা ঘটেছে আমার মায়ের সাথে, কতগুলো ঘটনা ঘটেছে আমার ভাইয়ের সাথে…. বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। আপনারা হয়ত সেগুলো ভুলে গেছেন, সেই সময় হয়ত অনেকেই দেখেছেন বাট এখন ভুলে গেছেন। আম্মা (বেগম খালেদা জিয়া) একবার খুব অসুস্থ হয়ে গিয়েছিলেন। সেই সময় একটি হসপিটালে অ্যাম্বুলেন্স চাওয়া হয়েছিল। তারা অ্যাম্বুলেন্সটি দেয় নাই সেদিন। ঠিক আছে।”

‘‘এখন এই মুহূর্তে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে…আই অ্যাম দ্যা প্রাইম মিনিস্টার…আমি চাইলে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে হয়ত আমি প্রতিশোধ নিতে পারি? কিন্তু আমি যদি নেই তাতে বেনিফিটটা কি হবে বলতে পারেন? কারো কোন বেনিফিট হবে? কোনো বেনেফিট হবে না। এই বিষয়টা থেকে আমাদের বেরুতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা যদি সকলে মিলে হইচই করি, সকলে মিলে যদি নিজেরটা দাবি করি, তাহলে কোনটিই হবে না, শুধু যদি নিজেরটা আমরা চিন্তা করি কোনটিই হবে না।”

দুইদিনের সরকারি সফরে সোমবার সকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমে সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান।

সম্পর্কিত