Advertisement Banner

৯২ বছরের অপেক্ষা শেষ, বিশ্বকাপে মিশরের প্রথম জয়

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
৯২ বছরের অপেক্ষা শেষ, বিশ্বকাপে মিশরের প্রথম জয়
৯২ বছর পর বিশ্বকাপে মিশরের প্রথম জয়। ছবি: রয়টার্স

১৯৩৪ সালে মিশর প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিল। আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে। এরপর দ্বিতীয় বিশ্বকাপটা খেলতে মিশরের লেগে যায় ৫৬ বছর! এরমধ্যে তারা আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তিনবার। তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলতে আরও ২৮ বছরের অপেক্ষা। ২০১৮ সালে রাশিয়ায় তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা পাওয়ার আগে আরও চারবার আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মিশর। এক বিস্ময়কর ব্যাপার। মিশর আর বিশ্বকাপের মধ্যে যেন ছিল এক অভিমানের সম্পর্ক। তিন বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচ খেলে জয়ও ছিল অনেক দূরের ব্যাপার। দেশটির জন্য এবারের বিশ্বকাপ যেন ছিল নিজেদের প্রমাণের আসর।

প্রমাণের আসরেই ইতিহাস গড়েছে তারা। প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের সঙ্গে ১–১ গোলে ড্র করা মিশর আজ নিউজিল্যান্ডকে ৩–১ গোলে হারিয়ে তুলে নিয়েছে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয়। একটি জয় পেতে মিশরের অপেক্ষা করতে হলো পাক্কা ৯২ বছর।

ইউরোপীয় ফুটবলে মোহাম্মদ সালাহ বড় তারকা। কিন্তু দেশের জার্সিতে তার বিশেষ কোনো অর্জন নেই। এটা নিয়ে মিশরীয়দের আক্ষেপের শেষ নেই। সালাহ কোনোদিন আফ্রিকান নেশনস কাপ জেতেননি দেশের হয়ে, এমনকি এর আগে একটি বিশ্বকাপ খেলে তেমন কিছু করতেও পারেননি। একটি আক্ষেপ আজ ঘুঁচেছে—সালাহর হাত ধরেই এসেছে বিশ্বকাপে মিশরের প্রথম জয়।

বিশ্বকাপে নিজের তৃতীয় গোলটি পেলেন সালাহ। ছবি: রয়টার্স
বিশ্বকাপে নিজের তৃতীয় গোলটি পেলেন সালাহ। ছবি: রয়টার্স

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩–১ গোলের জয়ে বড় অবদান সালাহর। নিজে একটি গোল করেছেন, আরেকটি গোলে রেখেছেন অবদান। দলের প্রাণভোমরা তিনিই। নিউজিল্যান্ডকে ব্যতিব্যস্তই রেখেছেন সালাহ। সর্বোচ্চ পাঁচটি শট, প্রতিপক্ষের বক্সে সর্বোচ্চ ১৩ বার বল স্পর্শ এবং সর্বোচ্চ পাঁচটি সুযোগ তৈরি করেন ৩৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

তবে ম্যাচের শুরুটা ছিল মিশরের জন্য বাজে। ১৫ মিনিটেই গোল হজম করে পিছিয়ে যায় তারা। টিম পেইনের কর্নার থেকে ফিন সারম্যান হেড করে গোল করে নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে দেন।

দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় মিশর। ৫৮ মিনিটেই গোল করে সমতা ফেরান মোস্তফা জিকো। ৯ মিনিট পরই দলকে এগিয়ে দেন সালাহ। বিশ্বকাপে এটি মিশরের জার্সিতে সালাহর তৃতীয় গোল। এই গোলে দেশের হয়েও আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যান সালাহ। ৮২ মিনিটে সালাহর কর্নার থেকে মিশরের তৃতীয় গোলটি করেন ত্রেজেগে। বাকি সময়ে নিউজিল্যান্ড এমন কিছু করতে পারেনি, যেটাতে মিশরের জন্য দুর্ভাবনার কারণ হতে পারে। প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করা মিসর দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘জি’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে। এই জয়ে শুধু বিশ্বকাপে প্রথম জয় নয়, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যাওয়াও প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে মিশর।

সম্পর্কিত