ads

সুন্দরবনের বেকার জেলেদের মধ্যে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ কর্মসূচি

বিশেষ প্রতিনিধি, খুলনা
বিশেষ প্রতিনিধি, খুলনা
সুন্দরবনের বেকার জেলেদের মধ্যে  ভিজিএফ’র চাল বিতরণ কর্মসূচি
ছবি: চরচা।

সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল বেকার জেলেদের জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রথমবারের মতো খাদ্য মন্ত্রণালয় ভিজিএফ চাল বিতরণ করেছে।

পূর্ব ও পশ্চিম সুন্দরবনে তালিকাভুক্ত ১৮ হাজার ৫০০ জেলের মধ্যে প্রথম দফায় চাল পেয়েছেন ৮ হাজার ২৭১টি জেলে পরিবার। প্রত্যেক পরিবারকে দুই মাসের জন্য ৮০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলেদের সব পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

Advertisement

বন বিভাগ সূত্র জানায়, সুন্দরবনে প্রতি বছর জুন, জুলাই ও আগষ্ট এই তিন মাস মাছ ধরা বন্ধের জন্য গত ২০২০ সালের ২৮ জুলাই নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ফলে তিন মাস জেলেরা মাছ ধরতে না পেরে বেকার হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে আসছে। নিষেধাজ্ঞা জারির ৬ বছর পরে এই প্রথমবার মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার ১২টি উপজেলার সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল তালিকাভুক্ত জেলেদের মধ্যে ৮২৭১ টি জেলে পরিবারের জন্য ১৬ জুলাই ৬৬১ দশমিক ৬৮ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

বন বিভাগ সূত্র আরও জানায়, মাসিক ৪০ কেজি করে জুলাই ও আগষ্ট এ দুই মাসের মোট ৮০ কেজি করে চাল পেয়েছেন জেলে পরিবারগুলো।

বিষয়টি নিয়ে খুলনা বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, “সুন্দরবনে মৎস্য আহরণে বিরত থাকা জেলেদের জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য মানবিক কর্মসূচির আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সুন্দরবন সংলগ্ন তিন উপজেলায় ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়।”

ইমরান আহমেদ আরও বলেন, “খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট এই তিন জেলার ১২ উপজেলায় ৮ হাজার ২৭১ টি জেলে পরিবারকে মাসিক ৪০ কেজি হারে দুই মাসে (জুলাই ও আগষ্ট) ৮০ কেজি করে ৬৬১ দশমিক ৬৮ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়।”

বনবিভাগ সূত্র আরও জানায়, শুরুতেই খুলনার কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছা উপজেলায় ৪ হাজার ২০৮ জন জেলে পরিবারের মধ্যে ৩৩৬ দশমিক ৬৪ মে.টন, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় ২ হাজার ৫৭৪ জন জেলেকে ২০৫ দশমিক ৯২ মে.টন এবং বাগেরহাট জেলা সদর, চিতলমারী, ফকিরহাট, কচুয়া, মোংলা, মোরেলগঞ্জ, রামপাল ও শরণখোলা উপজেলায় ১ হাজার ৪৮৯ জন জেলে পরিবারের মধ্যে ১১৯ দশমিক ১২ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।

বাগেরহাট জেলা মৎস্যজীবি দলের সভাপতি মো. দুলাল ফরাজী বলেন, “অনেক আবেদন নিবেদনের পরে প্রথমবারের মতো সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলেদের জন্য চাল বরাদ্দ করায় জেলেরা খুশি। মাছ ধরার তিন মাস এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদী।”

সম্পর্কিত