দেশে চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যেই নতুন করে দেখা দিয়েছে এলএনজি সরবরাহ বিভ্রাট। কক্সবাজারের মহেশখালী এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রের ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি কার্গো থেকে খালাস প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।
আজ বৃহস্পতিবার পেট্রোবাংলার জনসংযোগ বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক তারিকুল ইসলাম খান জানান, কক্সবাজারের মহেশখালী এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আমদানিকৃত এলএনজি কার্গো হতে ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি ট্রান্সফার ব্যহত হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকের চাইতে সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। আবহাওয়ার উন্নতির সাথে সাথে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, মহেশখালী এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আমদানিকৃত এলএনজি কার্গো থেকে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) এলএনজি স্থানান্তর বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে এলএনজি সরবরাহের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কমে গেছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৫৯১ এমএমসিএফডি। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ ছিল ১ হাজার ৫৮৮ এমএমসিএফডি এবং এলএনজি থেকে সরবরাহ ছিল ১ হাজার ৩ এমএমসিএফডি।
তিন দিন পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে ২ হাজার ৩০১ এমএমসিএফডিতে। এ সময় দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বেড়ে ১ হাজার ৬১৫ এমএমসিএফডি হলেও এলএনজি সরবরাহ কমে দাঁড়িয়েছে ৬৮৬ এমএমসিএফডিতে।
অর্থাৎ, তিন দিনের ব্যবধানে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ কমেছে ২৯০ এমএমসিএফডি। একই সময়ে এলএনজি সরবরাহ কমেছে ৩১৭ এমএমসিএফডি বা প্রায় ৩২ শতাংশ। বিপরীতে দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে ২৭ এমএমসিএফডি। ফলে দেশীয় গ্যাসের বাড়তি সরবরাহ এলএনজি কমে যাওয়ার একটি অংশ সমন্বয় করেছে।
পেট্রোবাংলা বলছে, আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে এলএনজি খালাস ও স্থানান্তর কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে। এর সঙ্গে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে এলএনজি ও মোট গ্যাস সরবরাহও ধীরে ধীরে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ী সমাজ। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় রান্নার সময়ে গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ মিলছে না। পাশাপাশি গ্যাসের চাপ না থাকায় শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে টানা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এলএনজি সরবরাহ হুট করে কমে যাওয়ায় এই বহুমুখী সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।