স্বাধীনতার ৫৫ বছরে অধিকাংশ সংসদ নামেমাত্র কার্যকর এবং মানুষের কল্যাণ বিবেচনায় আলোচনা না হয়ে মানুষের চরিত্র হননের জন্য বিপুল সময় ব্যয় করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকারের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপনপূর্বক বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান তিনি বলেন, ‘‘আমরা অতীতের সংসদগুলোতে দেখেছি এখানে দেশের মানুষের কল্যাণ বিবেচনায় আলোচনা না হয়ে মানুষের চরিত্র হননের জন্য বিপুল সময় ব্যয় করা হয়েছে। আমি আপনাকে (স্পিকার) বিনীতভাবে অনুরোধ করব, এই সংসদ যেন কারো চরিত্র হননের কেন্দ্রে পরিণত না হয়। আপনার কাছ থেকে কেউ সামান্যতম সুযোগও যেন এই ব্যাপারে না পায়। আমরা চাই, এই সংসদ শুধুমাত্র কল্যাণে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং পরিচালিত হবে।’’
নবনির্বাচিত স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপর ৫৫টি বছর আমরা অতিক্রম করে এসেছি। এই দেশের সংসদ এবং সংসদীয় রাজনীতি সত্যিকার অর্থে খুব কম সময় কার্যকর ছিল। অল্প যেটুকু সময় ছিল জনগণ তার সুবিধা পেয়েছে। বেশিরভাগ সময় ফেসিজমের কবলে পড়ে এই সংসদ ছিল অনেকটা নামমাত্র সংসদ—অকার্যকর।’’
স্পিকারের উদ্দেশ্যে শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘আপনি যে বিরল সম্মানে আজকে ভূষিত হয়েছেন, এই জায়গায় অভিভাবকত্বের দায়িত্ব যারা অতীতে পালন করেছেন, তারা অনেকেই নিজের ওপর, সংসদের ওপর, দেশবাসীর ওপর, গণতন্ত্রের ওপর এবং মানুষের অধিকারের ওপর সুবিচার করতে পারেননি। আমরা আশা করি, আপনার এই অভিভাবকের জায়গা থেকে আপনি যদিও একটি দল থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে এসেছেন, কিন্তু ইতোমধ্যেই আপনি ঘোষণা দিয়েছেন, আপনি জাতীয়তাবাদী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। এখন আপনি সকলের।’’
‘‘আমরা মনে করি, আপনার কাছে সরকারি দল এবং বিরোধী দল আলাদা কিছু হবে না। আপনার কাছে আমরা সুবিচার পাব। জাতির কল্যাণে যে কথাগুলো বলতে চাইব সেই কথাগুলো বলার সুযোগ আপনার কাছ থেকে পাব। আপনার নেতৃত্বে এটি একটি গতিশীল সংসদ হবে—এটা আমরা আশা করতে চাই। আমরা আশা করতে চাই, মনোমালিন্য যেগুলো বিভিন্ন সময়ে সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো নতুন করে আর হবে না। আজকের এই সংসদে অনেক তরুণ সদস্য এখানে এসেছেন। আমিও বয়সে একটু বেশি হলেও আমিও তরুণ। আমার জীবনে এটা প্রথম এই সংসদে। সুতরাং আমিও তরুণদের একজন।’’