ভারত, পাকিস্তান, ফ্রান্স, বেলজিয়ামসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলমান ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে রাজধানীর শাহবাগে সমাবেশ ও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় শাহবাগে ‘সলিডারিটি ফ্রম বাংলাদেশ’ ব্যানারে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য, গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, শ্রমিক, পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা এই সমাবেশে অংশ নেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন। সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চল।
এছাড়াও, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা রিতু এই সমাবেশের প্রতি সংহতি জানান।
ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চল বলেন, “সারা বিশ্বব্যাপী একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন চলমান, একটা গণজোয়ার বইছে। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকের ঋণের বোঝা জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, জীবনযাত্রার মান নিম্নগামী, তার বিরুদ্ধেই জনগণ রাস্তায় নেমে এসেছে।”
সমাবেশের সভাপতি ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন বলেন, “ভারতে প্রায় ১৩ কোটি মানুষকে পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা বিজেপি সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার একটি কূটকৌশল।” এর বিরুদ্ধে ভারতের ছাত্রসমাজ ও জনতা যে আন্দোলন করছে, তার প্রতি পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
জামসেদ আনোয়ার জোর দিয়ে বলেন, “পৃথিবীর যেখানেই মেহনতি মানুষের সংগ্রাম, যেখানে গণতন্ত্রের সংগ্রাম, যেখানে বঞ্চনার বিরুদ্ধে, নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, সেই সংগ্রামের পক্ষে সংহতি জানানো বাংলাদেশের সংগ্রামী মানুষের দায়িত্ব, বাংলাদেশের সংগ্রামী সংগঠনগুলোর দায়িত্ব।”
সমাবেশে বক্তৃতার ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন প্রতিবাদী গান ও কবিতা আবৃত্তির আয়োজন করা হয়। সমাবেশ শেষে সন্ধ্যার পর শাহবাগ থেকে বিশ্বব্যাপী চলমান আন্দোলনগুলোর সমর্থনে একটি মশাল মিছিল বের করা হয়।