কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যা মামলায় দুই কিশোরসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ।
গত ২০ অক্টোবর কুমিল্লার আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. লুৎফর রহমান।
এক প্রতিবেদনে এই খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ইউএনবি।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ দুই কিশোরকে সরাসরি হত্যায় জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া সিয়াম পরিকল্পনায় জড়িত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর মধ্যে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) ও সিয়াম (১৯) কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক দুজনকে রাখা হয়েছে গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে।
পুলিশের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে অপ্রতীমকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তুহিন ও দুই কিশোর সরাসরি জড়িত ছিল। আর সিয়াম হত্যার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের তদন্তে বলা হয়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে তুহিন অপ্রতীমকে লালমাই পাহাড়ের কাছে সানন্দা এলাকার নির্জন পাহাড়ি জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে আসামিরা তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেয় অপ্রতীম।
এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তুহিন এবং পরে দুই কিশোর বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে অপ্রতীমের মৃত্যু হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতীম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি সে। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ী এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।