ফরিদপুরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে এক তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। আজ রোববার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি।
নিহত মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত ফরিদপুর আইন মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তিনি মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকার বাসিন্দা।
গণমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুন সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম গোন্দারদিয়া গ্রাম থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ প্রান্তকে আটক করে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন দাবি করেন, আটকের পর প্রান্তকে প্রথমে মধুখালী থানায় নেওয়া হয়। পরবর্তীতে মাদক সংক্রান্ত আরও অভিযান শেষ করে ভোররাতে তাকে সহ মোট চারজনকে ফরিদপুর শহরের ডিবি হেফাজতে রাখা হয়। সেখানে প্রান্ত অসুস্থ হয়ে পড়লে আজ সকালে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে পুলিশের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে নিহতের পরিবার ও স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, গ্রেপ্তারের পর ডিবি হেফাজতে প্রান্তের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, যা তার মৃত্যুর মূল কারণ।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র জানায়, রাষ্ট্রীয় হেফাজত কোনো অবস্থাতেই জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হতে পারে না। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে জীবনের অধিকারকে অক্ষুণ্ণ ও সুরক্ষিত রাখা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে স্বীকৃত। একই সঙ্গে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ (আইসিসিপিআর) এবং নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের পক্ষভুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে হেফাজতে থাকা ব্যক্তির নিরাপত্তা ও জীবন রক্ষায় আইনত বাধ্য।
সংস্থাটি আরও জানায়, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উন্মোচন এবং দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে একটি নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে।
একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা প্রদান করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে জানিয়েছে আসক।