পটুয়াখালী জেলার বাউফলে এক গৃহবধূর সঙ্গে বিয়েবহির্ভূত প্রেমের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার হয়েছেন জামায়াতে ইসলামের স্থানীয় পর্যায়ের নেতা ফারুক হোসেন। তিনি দাসপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি।
গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, এক গৃহবধূর সঙ্গে ‘অবৈধ সম্পর্কের’ অভিযোগ তুলে স্থানীয় কয়েকজন ফারুক হোসেনকে আটক করে মারধর করেন। পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে তাকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ওই গৃহবধূর শাশুড়ি জাহানারা বেগম দাবি করেন, ফারুক অনেক দিন ধরে তার পুত্রবধূকে বিরক্ত করতেন। বিভিন্নভাবে টাকা-পয়সার প্রলোভন দেখাতেন এবং পরিবারের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। জাহানারা বলেন, “আশপাশের লোকজন আগে থেকেই বিষয়টি আমাদের জানিয়েছিল, কিন্তু আমরা বিশ্বাস করিনি। পরে ফারুকের ছেলে আমার ছেলেকে কিছু ছবি দেখায়, এরপর আমরা বিষয়টি বিশ্বাস করি। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশও হয়েছিল। এরপরও তিনি আমার পুত্রবধূকে কুপ্রস্তাব দেন।”
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে ফারুক হোসেন বলেন, “স্থানীয় সাইদুল, পারভেজসহ মৃধা বাড়ির ৪-৫ জন আমাকে মারধর করেছে। তারা আমার কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে। অতীতে তাদের সঙ্গে আমার একটি বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরে আমার বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো হচ্ছে যে, এক নারীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষ আমাকে বাড়াবাড়ি না করতে বলেছিল। পরে আমি সরে গেছি। আমাকে কোথাও হাতেনাতে ধরতে পারেনি। এরপরও তারা আমার বিরুদ্ধে গৃহবধূর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ তুলে মারধর করেছে।”
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”