মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এই যুদ্ধ ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটিয়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে।
তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি না পাওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে না।
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই শান্তি আলোচনার প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলো বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে নিচে তুলে ধরা হলো–
- ইরান অবিলম্বে লেবাননে যুদ্ধবিরতির দাবি জানাচ্ছে। গত মার্চ থেকে সেখানে ইসরায়েলি হামলায় ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর প্রায় ২ হাজার সদস্য নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল লেবানন অভিযানকে ইরান-মার্কিন যুদ্ধবিরতির বাইরে রাখতে চাইলেও, তেহরান একে আলোচনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখছে।
- দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা ইরানের অর্থনীতি সচল করতে জব্দ করা সম্পদ ফেরত এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তেহরান। ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত দিলেও শর্ত হিসেবে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে বড় ধরনের ছাড় চাইছে।
- আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্যে আমূল পরিবর্তন আনতে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব দাবি করেছে। তারা সেখান দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ট্রানজিট ফি আদায় ও প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের টোল বা সীমাবদ্ধতা ছাড়াই আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য এই রুটটি উন্মুক্ত রাখার পক্ষে।
- ছয় সপ্তাহব্যাপী এই যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বড় অংকের ক্ষতিপূরণ দাবি করবে ইরান। তবে এ বিষয়ে ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
- ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি চায়। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিষয়টি ‘আলোচনার অযোগ্য’ বলে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।
- ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে কমিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছে। তবে তেহরান তাদের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারকে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ‘অপরিবর্তনযোগ্য’ বা আলোচনার বাইরে বলে ঘোষণা করেছে।
- মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন যুদ্ধকালীন সৈন্য প্রত্যাহার এবং সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের নিশ্চয়তা চেয়েছে ইরান। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন সামরিক শক্তি এই অঞ্চলেই অবস্থান করবে। এমনকি আলোচনায় ব্যর্থ হলে সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।