Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সামরিক শক্তি ভাঙনের ইঙ্গিত

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৯: ০৩
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সামরিক শক্তি ভাঙনের ইঙ্গিত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সামরিক অভিযানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি শুধু একটি আঞ্চলিক যুদ্ধের চিত্রই তুলে ধরছে না; বরং এটি উন্মোচন করছে এক গভীর কাঠামোগত সংকট–যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির মূল ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

Advertisement

দ্য ক্রেডেল-এ প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে যে আধুনিক যুদ্ধ কেবল প্রযুক্তি বা অর্থের ওপর নির্ভর করে না; বরং টেকসই শিল্প উৎপাদন ক্ষমতা ছাড়া কোনো সামরিক শক্তিই দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারে না।

যুদ্ধের প্রথম কয়েক সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা বিপুল পরিমাণ উচ্চমূল্যের অস্ত্র ব্যবহার করেছে। টমাহক ক্রুজ মিসাইল, এটিএসিএমএস (ATACMS), প্যাট্রিয়ট ও থাড-এর মতো প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক অস্ত্র ব্যবহারের হার এতটাই বেশি ছিল যে, তা বিদ্যমান মজুদকে প্রায় তলানিতে নিয়ে আসে। মাত্র ১৬ দিনে ১১ হাজারেরও বেশি যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা শুধু যুদ্ধের তীব্রতা নয়, বরং শিল্প সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকেও সামনে এনেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি এখন সরাসরি শিল্প সংকটে রূপ নিচ্ছে–যেখানে ব্যবহৃত অস্ত্র পুনরায় উৎপাদন করার ক্ষমতা যুদ্ধের গতিকে নির্ধারণ করছে।

‘আত্মগোপনে’ থেকে যেভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন মোজতবা খামেনিMoztoba

বিশেষভাবে লক্ষণীয়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে। মাত্র চার দিনে প্রায় এক হাজার প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ব্যবহৃত হয়েছে, যা উৎপাদন করতে লাগে প্রায় দেড় বছর। থাড ও ইসরায়েলের অ্যারো সিস্টেমের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। ফলে বোঝা যাচ্ছে, যুদ্ধের তীব্রতা এতটাই বেশি যে, প্রচলিত অস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থা তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না। এই অবস্থায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা ধরে রাখতে একাধিক ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা ব্যয় ও ক্ষয়–দুইই বাড়িয়ে দিচ্ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

অন্যদিকে, আক্রমণাত্মক অস্ত্রের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা যাচ্ছে। প্রথম ১৬ দিনে পাঁচ শর বেশি টমাহক মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে যা পুনরায় তৈরি করতে ৫৩ মাস সময় লাগতে পারে। এর অর্থ হলো, একবার ব্যবহারের পর এই অস্ত্র দ্রুত আবার মজুদ করা সম্ভব নয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র একই মাত্রার আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বজায় রাখতে পারবে না। JASSM-ER বা HARM-এর মতো উন্নত অস্ত্রগুলোর উৎপাদনও নির্ভর করে জটিল সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর, যা ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক সংকটে পড়েছে।

এই যুদ্ধ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা সামনে এনেছে– যেখানে প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব থাকা সত্ত্বেও তা স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে পারছে না। উদাহরণস্বরূপ, একটি F-15E যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা শুধু একটি সামরিক ক্ষতি নয়; বরং এটি দেখিয়েছে যে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে উচ্চমূল্যের একটি সম্পদের ক্ষতি কীভাবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। একজন পাইলটকে উদ্ধারে শতাধিক বিমান, বিশেষ বাহিনী এবং বিপুল সম্পদ ব্যবহার করতে হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে যুদ্ধের খরচ ও ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে সরবরাহ শৃঙ্খল নিজেই একটি নতুন যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আধুনিক অস্ত্র উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল–যেমন গ্যালিয়াম, নিওডিমিয়াম, ডাইসপ্রোসিয়াম–এর বেশির ভাগই চীনের মতো দেশের নিয়ন্ত্রণে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উৎপাদন ক্ষমতা শুধু তার নিজস্ব শিল্পের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এই নির্ভরতা যুদ্ধকালীন সময়ে একটি বড় দুর্বলতা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

অর্থনৈতিক ব্যয়ের দিক থেকেও এই যুদ্ধ একটি অসম ভারসাম্য তৈরি করেছে। একদিকে, ইরানের তুলনামূলক সস্তা ড্রোন ও মিসাইল ব্যবহার; অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা–এই বৈপরীত্য যুদ্ধকে এক ধরনের কস্ট ইমব্যালান্স ট্রাপ বা অনিয়ন্ত্রত খরচের ফাঁদ-এ পরিণত করেছে। অর্থাৎ, প্রতিপক্ষ কম খরচে আক্রমণ চালাতে পারছে, আর যুক্তরাষ্ট্রকে তা প্রতিহত করতে বিপুল ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এই মডেল টেকসই নয়।

এই বিশ্লেষণে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে–যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্পের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। যুদ্ধের চাহিদা বাড়লেও উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা ছাড়া উৎপাদন বাড়াতে আগ্রহী নয়। অতীতের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি অনেক সময় বাস্তবায়িত হয় না, ফলে শিল্প খাত ঝুঁকি নিতে চায় না। এর ফলে উৎপাদন ক্ষমতা স্থির থেকে যাচ্ছে, যা যুদ্ধকালীন চাহিদার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্রোপাগান্ডা থেকে স্লপাগান্ডা: যুদ্ধের মধ্যে আরেক যুদ্ধslopaganda

এই পরিস্থিতির প্রভাব শুধু ইরান যুদ্ধেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক উপস্থিতি–যেমন পূর্ব এশিয়া বা ইউরোপে–এই সংকটের কারণে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। কারণ, একটি অঞ্চলে ব্যবহৃত প্রতিটি অস্ত্র অন্য অঞ্চলে ব্যবহারের সক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে এখন একাধিক ফ্রন্টে তার কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হচ্ছে।

সবশেষে, এই যুদ্ধ একটি বড় মিথ ভেঙে দিয়েছে যে, পশ্চিমা সামরিক শক্তি সীমাহীন। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত হলেও তাদের ক্ষমতা সীমিত, বিশেষ করে যখন তা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের মুখোমুখি হয়। আধুনিক যুদ্ধের নতুন সমীকরণে শুধু অস্ত্রের ক্ষমতা নয়, বরং উৎপাদন ও সরবরাহের ধারাবাহিকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

দ্য ক্রডেল-এ প্রকাশিত এই বিশ্লেষণ স্পষ্টভাবে দেখায় যে, ভবিষ্যতের যুদ্ধ আর শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে জেতা যাবে না; বরং শিল্প, অর্থনীতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণই নির্ধারণ করবে–কে টিকে থাকবে। এই বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো–তারা কি তাদের সামরিক শক্তিকে দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখার মতো শিল্পভিত্তি গড়ে তুলতে পারবে, নাকি এই যুদ্ধই তাদের সীমাবদ্ধতার প্রকৃত চিত্র উন্মোচন করে দেবে?

বিষয়: অস্ত্রসামরিক বাহিনীমধ্যপ্রাচ্যযুদ্ধমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েল
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    নামে হিটলার-মুসোলিনি, আদর্শে বামপন্থী, জিতে গেছেন নির্বাচনে

  • ২

    জনশক্তি রপ্তানির গণ্ডি ছাড়িয়ে ঢাকা-রিয়াদকে বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়তে হবে

  • ৩

    নতুন গঙ্গা চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’-এ গুরুত্ব ঢাকার, কেন?

  • ৪

    ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী নিয়ে করা প্রশ্নগুলোর ইন্টেনশন ঠিক নাই’

  • ৫

    ‘এনজিও সরকার ২ বছরের শাসনে দেশটাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেল’

সম্পর্কিত
  • ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের কৌশল, রাজনৈতিক মেরুকরণ, ডিজিটাল প্রচারণা এবং আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে

  • মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর প্রায় প্রতিদিনের বিক্ষোভ মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এর মাত্র কয়েক মাস আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একই ধরনের বিক্ষোভের মুখে তার শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

  • নড়বড়ে মুশফিকুরকে কেন খেলাচ্ছে বাংলাদেশ?

    নড়বড়ে মুশফিকুরকে কেন খেলাচ্ছে বাংলাদেশ?

    আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্টের স্কোয়াড যখন ঘোষিত হয়, তখন থেকেই আলোচনা ছিল মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরের এরকম একটা অগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কেন মুশফিকুরকে দলে রাখা হলো, সেটা প্রশ্নের উদ্রেক করেছিল। কেননা মুশফিকুরের স্কোয়াডে থাকা মানেই একাদশে থাকাটাও ন

  • নিউইয়র্ক টাইমস: ট্রাম্পের প্রতি রিপাবলিকানদের হতাশা বাড়ছে

    নিউইয়র্ক টাইমস: ট্রাম্পের প্রতি রিপাবলিকানদের হতাশা বাড়ছে

    ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে। পরিবর্তনটি সরাসরি ডেমোক্র্যাটদের প্রতি মানুষের ভালোবাসা বা রিপাবলিকান ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থান বদলে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বরং এর কেন্দ্রে রয়েছে ক্লান্তি